মসজিদ হলো মুসলিম সমাজের মূল কেন্দ্র। এ কারণে মহানবী সা: হিজরতের প্রথম দিনেই যাত্রাবিরতিকালে কুবা নামক স্থানে ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণ করেন। পরে মদিনায় পৌঁছে মসজিদে নববী স্থাপন করে সেখান থেকেই ইসলামের জ্যোতি বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে দেন।
মসজিদ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণকারীদের মহান আল্লাহ খুব পছন্দ করেন। এ ব্যাপারে পবিত্র কুরআনে ইরশাদ হয়েছে- ‘একমাত্র তারাই আল্লাহর মসজিদগুলো আবাদ করবে, যারা আল্লাহ ও শেষ দিনের প্রতি ঈমান রাখে, সালাত কায়েম করে, জাকাত প্রদান করে এবং আল্লাহ ছাড়া কাউকে ভয় করে না। আশা করা যায়, তারা হিদায়তপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’ (সূরা তাওবাহ-২১)
রাসূল সা: ইরশাদ করেন, ‘আল্লাহর কাছে সবচেয়ে প্রিয় জায়গা হলো মসজিদ আর নিকৃষ্ট জায়গা হলো বাজার।’ (মুসলিম) হাদিস শরিফে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মসজিদ নির্মাণ করবে মহান আল্লাহ তার জন্য জান্নাতে অনুরূপ ঘর তৈরি করবেন।’ (বুখারি)
তা ছাড়া মসজিদ নির্মাণ এমন এক পুণ্যময় কাজ যার সাওয়াব মৃত্যুর পরও অব্যাহত থাকবে। হাদিসে এসেছে, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে তখন তার সব আমল বন্ধ হয়ে যায় তিন প্রকার আমল ছাড়া- ১. সদকায়ে জারিয়া; ২. এমন ইলম যার উপকার হয়; ৩. নেক সন্তান যে তার জন্য দোয়া করতে থাকে। ওই সদকায়ে জারিয়ার মধ্যে মসজিদ নির্মাণ অন্যতম একটি আমল বা সদকা।
উপরোক্ত আলোচনা দ্বারা বোঝা যায়, মসজিদ নির্মাণ অত্যন্ত সাওয়াবের কাজ। আল্লাহর প্রিয় হওয়ার মাধ্যম। তাই আমাদের উচিত একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় মসজিদ নির্মাণ করা, কারো সেই সামর্থ্য না থাকলে কমপক্ষে সহযোগিতা করবে। মসজিদের রক্ষণাবেক্ষণে আত্মনিয়োগ করবে। সবচেয়ে বড় দায়িত্ব হলো মুসল্লিদের মসজিদে এসে নামাজ পড়ার দাওয়াত দেয়ার মাধ্যমে নামাজ কায়েম করা। আল্লাহকে ভুলে যাওয়া মানুষকে আল্লাহর পথে নিয়ে আসা। মসজিদের সাথে তাদের মন সম্পৃক্ত করে দেয়া। কিয়ামতের দিন সেসব মানুষকে আরশের ছায়ায় স্থান দেয়া হবে, যাদের অন্তর মসজিদের সাথে লেগে থাকে। মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে সেই তৌফিক দান করুন। আমিন। লেখক : সহকারী শিক্ষক, নাদির হোসেন উচ্চ বালিকা বিদ্যালয়, পাংশা, রাজবাড়ী।