বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬, ০১:৫৫ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান মধ্যস্থতায় এগিয়ে আসছে পাকিস্তান পর্যাপ্ত তেল আছে, পাম্পে দীর্ঘ লাইন দেওয়ার প্রয়োজন নেই: জ্বালানিমন্ত্রী সাবেক সংসদ সদস্য অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী গ্রেফতার জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি দেওয়ার অধ্যাদেশ গ্রহণ করবে সরকারি দল : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আইএমএফের এশিয়া ও প্যাসিফিক বিভাগের পরিচালকের সাক্ষাৎ ফ্রান্সের কোচ হতে জিদানের সম্মতি সুযোগ সীমিত: ফেসবুক পোস্টেই আয় ৩ হাজার ডলার বৃষ্টিতে চুলের যতœ নেবেন হ-য-ব-র-ল অবস্থায়ও ভালো আয় করছে শাকিব খানের ‘প্রিন্স’ শাওয়ালের ছয় রোজা: অল্প আমলে সারা বছরের সওয়াব

একটি মানবিক আবেদন : থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত ১৪ বছরের নূর

সাগর মিয়া (জাজিরা) শরীয়তপুর
  • আপডেট সময় রবিবার, ২২ জুন, ২০২৫

একটি শিশুর চোখে ভরপুর থাকা উচিত স্বপ্নের দীপ্তি। তার হাতে থাকা উচিত স্কুল ব্যাগ, বুকভরা থাকা উচিত দৌড়ে বেড়ানোর আনন্দ। কিন্তু ১৪ বছরের নূরে আলমের জীবনে নেই কোনো খেলা, নেই বইয়ের পাতা উল্টানোর গল্প। তার চোখে কেবলই ক্লান্তি, ব্যথা আর বেঁচে থাকার আকুতি। প্রতি মাসে দু’বার হাসপাতালে যেতে হয় তাকে, শুধু বাঁচতে। শরীরের ভেতরে রক্ত তৈরি হয় না বললেই চলে। থ্যালাসেমিয়া নামের এক নির্মম রোগ তার প্রতিটি দিন কেড়ে নিচ্ছে ধীরে ধীরে। জাজিরা উপজেলার লকাই কাজী কান্দি গ্রামে মা-বাবার সঙ্গে নানাবাড়িতে থাকে নূর। তার বাবা মো. গাজী মৃধা একসময় ঢাকার কামরাঙ্গীরচরে ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন। তবে সন্তানের দীর্ঘস্থায়ী চিকিৎসা, আর্থিক অসচ্ছলতা ও পারিবারিক চাপ সামলাতে না পেরে তিনি গত এক বছর ধরে গ্রামে ফিরে একটি ছোট চায়ের দোকান চালাচ্ছেন। সেই দোকান থেকেই চলে পরিবারের সব খরচ, ভাড়া, ওষুধ এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নূরের চিকিৎসা। প্রতি মাসে নূরের জন্য প্রয়োজন হয় অন্তত দুই ব্যাগ রক্ত। এর পাশাপাশি ওষুধ ও অন্যান্য চিকিৎসা খরচে মাসিক ব্যয় দাঁড়ায় প্রায় ছয় হাজার টাকা। অথচ দোকান থেকে মাসে আয় হয় প্রায় ১৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে দোকান ভাড়াতেই দিতে হয় চার হাজার টাকা। ফলে চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। চিকিৎসকদের মতে, জরুরি একটি অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে নূরের শরীরে রক্তের প্রয়োজন অনেকটাই কমিয়ে আনা সম্ভব। কিন্তু সেই অস্ত্রোপচারের খরচ প্রায় আড়াই লাখ টাকা। যা গাজী মৃধার মতো একজন সাধারণ চা বিক্রেতার পক্ষে জোগাড় করা একেবারেই অসম্ভব। অর্থাভাবে এক বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে নূরের পড়াশোনা। সে ঢাকার একটি বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত পড়েছিল। এখন আর্থিক সীমাবদ্ধতায় স্কুলে ফেরার স্বপ্নটাও যেন দূরের এক গল্প। নূরের বাবা মো. গাজী মৃধা বলেন, “গত ১৩ বছর ধরে ছেলের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছি। এখন আর পেরে উঠছি না। এক বছর হলো স্কুলে পাঠাতেও পারছি না। ওর চিকিৎসা চালিয়ে নিতেও হিমশিম খাচ্ছি। আমি সমাজের সবার কাছে আমার ছেলের জন্য সাহায্য চাই। জাজিরা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান হাওলাদার বলেন, নূরের পরিবার অত্যন্ত অসহায়। ছেলেটি দীর্ঘদিন ধরে থ্যালাসেমিয়ায় আক্রান্ত। চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা তাদের পক্ষে একেবারেই সম্ভব নয়। সমাজের বিত্তবানদের এগিয়ে আসা জরুরি। জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. রোমান বাদশা বলেন, থ্যালাসেমিয়া একটি বংশগত রক্তরোগ। এতে ত্রুটিপূর্ণ রক্তকণিকা তৈরি হয় এবং দ্রুত ভেঙে যায়। ফলে রোগীকে বারবার রক্ত দিতে হয়। প্লীহা (স্প্লিন) বড় হয়ে গেলে রক্তের চাহিদা আরও বেড়ে যায়। এ কারণে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে প্লীহা কেটে ফেললে রক্তের প্রয়োজন অনেকটা কমে আসে। নূরের ক্ষেত্রেও সেটাই জরুরি। এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাবেরী রায় বলেন, আমরা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব সহযোগিতা করব। সমাজসেবা অফিসের মাধ্যমে অনুদানের ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও নূরের পড়াশোনা যেন আবার শুরু হয়, সেজন্য সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করব। নূরের মা-বাবা এখন তাকিয়ে আছেন সমাজের সহৃদয়বান, মানবিক মানুষদের দিকে। হয়তো আপনার একটি ফোন কল বা সামান্য একটি সহায়তা বদলে দিতে পারে নূরের ভাগ্য।
যোগাযোগ: ০১৯৯৭৮০১১৭১ (নূরের বাবা-মো. গাজী মৃধা)




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com