ইংল্যান্ডের প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার এবং স্কাই স্পোর্টসের ধারাভাষ্যকার মার্ক বুচার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের শাসনব্যবস্থার তীব্র সমালোচনা করেছেন। তিনি ২০২৬ সালের পুরুষদের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ থেকে বাংলাদেশের আকস্মিক বাদ পড়ার বিষয়ে তিনি বলেছেন, এই ঘটনা স্পষ্ট করে দেখিয়ে দিয়েছে যে, কীভাবে ভারতের স্বার্থ রক্ষায় ক্রিকেটের নীতি ও ন্যায্যতাকে বারবার বিসর্জন দেওয়া হচ্ছে।
উইজডেন ক্রিকেট উইকলি পডকাস্টে বুচার বলেন, টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহ আগে নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগ দেখিয়ে বাংলাদেশকে বাদ দেওয়াকে ‘নিশ্চিত ভন্ডামি’ হিসাবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, এই পরিণতি আগে থেকেই অনুমেয় ছিল, কারণ আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) দীর্ঘদিন ধরে ভারতের খেয়ালখুশি অনুযায়ী টুর্নামেন্টের কাঠামো বদলে আসছে, এবং কঠোর ও অভিন্ন নিয়ম প্রয়োগ করছে না।২০২৫ সালের চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির জন্য ভারতের পাকিস্তান সফরে অস্বীকৃতির সাথে সরাসরি সাদৃশ্য েেট বুচার উল্লেখ করেছেন যে ফলাফল শুরু থেকেই স্পষ্ট ছিল।
ফাইনালসহ ভারতের ম্যাচগুলি দুবাইতে স্থানান্তরিত করার আইসিসির চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের কথা উল্লেখ করে। তিনি বলেন, ‘এটা এতটাই স্পষ্ট ছিল যে আপনি তা মহাকাশ থেকেও দেখতে পেতেন।’
অথচ একই ধরনের পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে নির্বিঘেœ বাদ দিয়ে স্কটল্যান্ডকে ঢোকানো হয়েছে। এতে স্পষ্ট হয়ে উঠেছে, ক্রিকেটে এক ধরনের দ্বিস্তরীয় ব্যবস্থা চলছে এক নিয়ম ভারতের জন্য, আরেক নিয়ম বাকিদের জন্য।
বুচার বলেন, আইসিসির সামনে স্পষ্ট একটি পথ ছিল, কিন্তু তারা তা বেছে নেয়নি। তাঁর মতে, যদি কোনো দল সরকার বা নিজেদের কারণে কোনো দেশে খেলতে না চায়, তাহলে তাদের উচিত পুরো টুর্নামেন্টকে জিম্মিনা করে বরং সরে দাঁড়ানো। বাস্তবে দেখা যাচ্ছে, ভারতের ক্ষেত্রে পছন্দের নিরপেক্ষ ভেন্যু, বিশেষ চুক্তি আর সাজানো সময়সূূচী যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে।
বুচার স্পষ্ট করে বলেছেন, ভারতের আর্থিক প্রভাব কোনো অজুহাত হতে পারে না। ক্রিকেটের নৈতিকতা টাকার উৎসের চেয়েও বড় হওয়া উচিত। তিনি সতর্ক করে বলেন যে এই ধরনের পক্ষপাতিত্ব বিশ্বাস এবং বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে।
বুচার আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের পাশে দাঁড়ানোর ইঙ্গিত দেওয়ায় পাকিস্তান অযথা চাপের মুখে পড়েছে।’ বুচার ভবিষ্যতের জন্য একটি কড়া বার্তা দিয়ে বলেন, ‘হয় তুমি যাও এবং খেলো, অথবা তুমি সরে যাও এবং অন্য কেউ খেলবে।’ তিনি বলেন, ভারতকে একই মানদ-ে না আনা পর্যন্ত বিশ্ব ক্রিকেট নীতি নয়, বরং একটি বোর্ডের প্রভাবের কাছে জিম্মি থাকবে।