খুলনার পাইকগাছায় ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের দুই ইউপি চেয়ারম্যান প্রশাসনিক ক্ষমতা ফিরে পেতে আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে দুই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার সকালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে পালিয়ে যাওয়া দুই চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী ও কাজল কান্তি বিশ্বাসের বিরুদ্ধে এলাকাবাসী মানবন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন। জানা গেছে, গত ২৪ ফেব্রুয়ারী সোনাদানা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নান মিস্ত্রী তার প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা ফিরে পেতে খুলনা জেলা প্রশাসক বরাবর আবেদন করেন। উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওয়াসিউজ্জামান চৌধুরী ও উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তাকে তদন্ত পুর্ক প্রতিবেদন প্রদানের দায়িত্ব প্রদান করা হয়। বৃহস্পতিবার তদন্ত করতে গেলে এলাকাবাসী ঝাড়ু মিছিল করেন। তদন্তকালে উপস্থি ইউপি সদস্যরা লিখিতভাবে সাবেক ওই চেয়ারম্যানকে পুনর্বহাল না করা দাবী জানান। একই সাথে তার বিরুদ্ধে নানা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড, অনিয়ম ও দুর্নীতির অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ আনেন। অন্যদিকে লতা ইউপি চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাস এক কিশোরীর সাথে আপত্তিকর সেক্সসুয়াল ভিডিও কল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাঁস হলে গত ২০ জুন-২৩ তারিখে এক প্রজ্ঞাপনে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রনালয়ের সিনিয়র উপ সচিব জেসমীন প্রধান চেয়ারম্যান কাজল কান্তি বিশ্বাসকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেন। পরবর্তীতে ৩ মাস ২২ দিন বরখাস্ত থাকার পর আবার স্বপদে বহাল হয়। ২০২৪ সালের ৫ আগষ্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ায় জনতার ভয়ে পরিষদে আসতে না পারায় আবারো স্বপদে পুনর্বহালের জন্য উপজেলা নির্বাহি অফিসারের নিকট আবেদন। ওই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার দুপুরে ইউনিয়ন পরিষদে তদন্তের জন্য আসেন উপজেলা এসএফডিএফ কর্মকর্তা জিএম জাকারিয়া। এখবর জানতে পেরে এলাকাবাসী অনিয়ম, দূর্নীতির, শিরোমণি কাজল কান্তি বিশ্বাসের স্থায়ী বহিষ্কারের জন্য এ মানববন্ধন এর আয়োজন করেন। লতা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারন সম্পাদক আবুমুছা সরদারের সভাপতিত্বে ও শহিদুল ইসলাম খলিফার সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক নিত্যরঞ্জন বিশ্বাস, সুশান্ত মন্ডল, আক্তার সরদার, ইয়াছিন সরদার, বাচ্চু সানা, খোকন গাজী, তপন মন্ডল, আমিরুল ইসলাম, নূরইসলাম সানা, ইব্রাহিম সরদার, সালাম সানা, আজিজ সানা, আশরাফুল ইসলাম, মহিউদ্দিন শিকদার, হারুন তালুকদার, শেখ সুমন সহ আরো প্রমুখ।