দেশে হামে আক্রান্ত হয়ে নতুন করে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও চারজন এ রোগে মারা গেছেন বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
গত শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকাল ৮টা থেকে গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৮টা পর্যন্ত প্রাপ্ত উপাত্তের ভিত্তিতে এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম।
প্রতিবেদনে বলা হয়, একই সময়ে সারাদেশে নতুন করে ৭৮৭ জন সন্দেহভাজন হাম রোগী শনাক্ত হয়েছেন এবং ল্যাবরেটরিতে নিশ্চিত হওয়া রোগী পাওয়া গেছে ৬০ জন। কন্ট্রোল রুম জানায়, গত ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে মোট সন্দেহভাজন হাম রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬ হাজার ৪৭৬ জন। ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিত রোগী হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ৮২৬ জন। এ পর্যন্ত মোট আক্রান্তদের মধ্যে ৪ হাজার ৬২৮ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন এবং ২ হাজার ৬৫৪ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। মৃত্যুর পরিসংখ্যান পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত হামে আক্রান্ত হয়ে মোট ১৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর আগে এ সংখ্যা ৯ জন জানানো হলেও হালনাগাদ তথ্যে আরও সাতজনের মৃত্যুর খবর যুক্ত হয়। অন্যদিকে, সন্দেহভাজন হামে মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে মোট ৯৮ জনে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পরিস্থিতির ওপর সার্বক্ষণিক নজরদারি রাখছে এবং সমন্বিত নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের মাধ্যমে নিয়মিত তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করছে। রোগীদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার পাশাপাশি জনগণকে সচেতন থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বরগুনায় হাম উপসর্গে ৩ শিশুর মৃত্যু: ডেঙ্গুর প্রকোপ কাটতে না কাটতেই বরগুনায় আবারও শুরু হয়েছে হাম আতঙ্ক। গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তিন শিশু মারা গেছে। তারা হলেন- বরগুনা
সদর উপজেলার আফিফা ও জুরাইয়া এবং পাথরঘাটার হাসান। তাদের প্রত্যেকের বয়স ১ বছরের নিচে।
বরগুনা সিভিল সার্জন অফিস সূত্রে জানা যায়, এ জেলায় হাম রোগীদের জন্য বর্তমানে ৩৭টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বরগুনা সদরে ৩০টি এবং অন্যান্য পাঁচ উপজেলায় ৭টি শয্যা প্রস্তুত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে বরগুনা সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট (শিশু) ডা. মেহেদী পারভেজ জানান, গত মাসের মাঝামাঝি থেকে এ জেলায় হামের প্রকোপ দেখা দেয় এবং প্রতিদিন বহির্বিভাগে গড়ে ২০ জন রোগী হামের সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে আসে। গুরুতর রোগীদের ভর্তি রেখে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে এবং জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাদেরকে অন্যত্র পাঠানো হচ্ছে।
বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. রেজওয়ানুর আলম জানান, গতকাল শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুর ১২টা পর্যন্ত সন্দেহজনক উপসর্গ নিয়ে নতুন করে ভর্তি হয়েছে ১০ জন। হাসপাতালে ভর্তি ১৪৯ জনের মধ্যে ২৪ জনের শরীরে হাম ও ১ জনের শরীরে রুবেলা শনাক্ত হয়েছে এবং ৭৩ জনের নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
এ বিষয়ে বরগুনা সিভিল সার্জন ডা. মোহাম্মদ আবুল ফাত্তাহ বলেন, বরগুনার কোনো হাসপাতালে হামের রোগী মারা যায়নি। ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে তিনজন মারা গেছে। কিন্তু এ রোগী আমাদের বরগুনার। প্রত্যেকের বয়স ১ বছরের নিচে।
তিনি বলেন, শিশুর উচ্চ জ্বর, সর্দি বা কাশি হলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতে হবে। সঠিক চিকিৎসা ও আইসোলেশন নিশ্চিত করা গেলে এ রোগ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। আমরা বরগুনা সদরের হাম রোগীদের জন্য বর্তমানে ৪০ হাজার ডোজ হাতে রেখেছি।