রবিবার, ২৮ নভেম্বর ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
আগৈলঝাড়ায় সরকারি সম্পত্তি থেকে গাছ কর্তন, অবশেষে সমস্ত গাছ সিজ করল বন কর্মকর্তা আজ তৃতীয় ধাপে ফুলবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন প্রেমের টানে মেক্সিকো থেকে জামালপুর লামায় অভিষেক ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠান ছাতিম ফুল: যে ফুলের সুবাসে সুবাসিত হয় হেমন্তের রজনী অপরিণত নবজাতক শিশুকে জন্মের এক মাসের মধ্যে চিকিৎকদের কাছে আনতে হবে রায়গঞ্জে রোপা আমন ধান কাটা শুরু, ফলন এবং দাম ভাল জ্বালানী তেল ও গণপরিবহনে ভাড়া বৃদ্ধি এবং দ্রব্যমূল্য বাড়ায় প্রতিবাদে কুষকদলের লিফলেট বিতরন ঠাকুরগাঁওয়ে গ্রামবাসীর তাড়া খেয়ে মরল নীলগাই স্বাধীনতার সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আরশিনগরে বর্ণাঢ্য আয়োজনের ঘোষণা




আহারে বাঁশ ও বেতশিল্প!

ইমরান হুসাইন:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১




বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দিন দিন মানুষ হয়ে উঠছে আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক। আধুনিকতার এই ছোঁয়া মানুষের জীবনকে করে তুলেছে অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। কিন্তু এই আধুনিকতাই যেন আমাদের সমাজের একটা শ্রেণির মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এখন। আধুনিকতার এই ব্যবহার শুধু তাদের জীবিকাকেই হুমকির মুখে ঠেলে দেয়নি, আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও কোণঠাসা করে ফেলেছে। বাঁশ ও বেতশিল্প আমাদের গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। অথচ সেই বাঁশ ও বেতশিল্প আজ প্লাস্টিকের আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিষ্পেষিত। মানুষ সব সময়ই সহজলভ্য ও নিত্যনতুনকে বেছে নেয়। ঠিক তেমনি বাঁশ ও বেতের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের রংবেরঙের সহজলভ্য পণ্যগুলো জায়গা করে নিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে। যার ফলে বাজারে চাহিদা কমেছে বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্রগুলো। এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করত। বাসাবাড়ি কিংবা অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখনো গুটি কয়েক অফিস-আদালত বা বাসাবাড়িতে বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র বা ছোটখাটো সরঞ্জামাদি দেখতে পায়। তবে এগুলো নিতান্তই ঘরের সৌন্দর্য বা বিলাসিতার জন্য।
সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই। তারপরও গুটি কয়েক মানুষ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেতের শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। বর্তমানে বাঁশ ও বেতের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের জায়গা করে নিয়েছে স্বল্প দামের প্লাস্টিক ও লোহার তৈরি পণ্য। তাই বাঁশ ও বেতের তৈরি মনকাড়া সেই পণ্যগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাহিদা ও জোগান না থাকায় গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় আকর্ষণীয় আসবাবপত্র। অভাবের তাড়নায় এ শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে আজ অনেকে অন্য পেশার দিকে ছুটছে। শত অভাব অনটনের মধ্যেও হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈতৃক এ পেশাটি ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাঁশ ও বেতের এই দুরবস্থার কথা, যার সারসংক্ষেপ এটাই যে আধুনিকতার ছোঁয়া ও দামে সস্তা হওয়াতে প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেড়েছে অনেক গুণ অন্যদিকে বাঁশ ও বেতের পণ্যের বাজারে চাহিদা কম হওয়াতে বিক্রির পরিমাণ খুবই সীমিত। যার ফলে বিপাকে পড়েছে এই কারিগরগুলো। একসময় গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ বাঁশ-বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এবং ধরে রাখতেন বাপ-দাদার পারিবারিক ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে বাঁশ-বেত নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ-বেতশিল্প হয়তো আগামী দিনে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। রূপকথার গল্পের মতো বইয়ের পাতায় বাঁশ-বেতশিল্পের কথা লেখা থাকবে আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর ব্যবহার জানবেই না। তাই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের এই বাঁশ ও বেতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে। এ শিল্প যাতে আমাদের মধ্যে প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বেঁচে থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে, তাহলেই গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এই বাঁশ ও বেতশিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com