বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ০৬:৩৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
রামগতির মেঘনায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ, জেলেদের মুখে হাসি গঙ্গাচড়ায় বিলীন হওয়ার পথে শিমুল গাছ কঠোর লকডাউনের মধ্যেও বরিশালের লাহারহাটে প্রশাসনের চোখের সামনেই চলছে অবৈধ স্পিডবোট মৌলভীবাজারে গত ২৪ ঘন্টায় সর্বোচ্চ আরও ২২৫ জন করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের রেকর্ড ‘অক্সিজেন এক্সপ্রেস’ ট্রেন থেকে ভারতীয় তরল মেডিকেল অক্সিজেন খালাস করে সড়ক পথে নেয়া হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্লান্টে ফেনী সদর উপজেলা ও পৌর বিএনপির উদ্যোগে করোনা ভ্যাকসিন রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমের উদ্বোধন ‘জয়যুগান্তর পত্রিকার অক্সিজেন সিলিন্ডার প্রদান অনুকরণীয়’ যুবলীগ নেতা বক্করের উদ্যোগে আলাউদ্দিন নাসিমের সুস্থতা কামনায় সালাতুন নারিয়া খতম দুর্গাপুরে কমরেড মণি সিংহের ১২০তম জন্মজয়ন্তী পালিত কমলনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্য সেবা ব্যাহত, ৫২ পদের মধ্যে ৩০ টি শূন্য




আহারে বাঁশ ও বেতশিল্প!

ইমরান হুসাইন:
  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১




বিজ্ঞানকে কাজে লাগিয়ে দিন দিন মানুষ হয়ে উঠছে আধুনিক থেকে অত্যাধুনিক। আধুনিকতার এই ছোঁয়া মানুষের জীবনকে করে তুলেছে অনেক সহজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময়। কিন্তু এই আধুনিকতাই যেন আমাদের সমাজের একটা শ্রেণির মানুষের জীবন ও জীবিকা হুমকির কারণ হিসেবে দাঁড়িয়েছে এখন। আধুনিকতার এই ব্যবহার শুধু তাদের জীবিকাকেই হুমকির মুখে ঠেলে দেয়নি, আমাদের গ্রামবাংলার ঐতিহ্য ও সংস্কৃতিকেও কোণঠাসা করে ফেলেছে। বাঁশ ও বেতশিল্প আমাদের গ্রামবাংলার প্রাচীন ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির ধারক। অথচ সেই বাঁশ ও বেতশিল্প আজ প্লাস্টিকের আধুনিকতার ছোঁয়ায় নিষ্পেষিত। মানুষ সব সময়ই সহজলভ্য ও নিত্যনতুনকে বেছে নেয়। ঠিক তেমনি বাঁশ ও বেতের বিকল্প হিসেবে প্লাস্টিকের রংবেরঙের সহজলভ্য পণ্যগুলো জায়গা করে নিয়েছে নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে। যার ফলে বাজারে চাহিদা কমেছে বাঁশ ও বেতের তৈরি জিনিসপত্রগুলো। এক সময় গ্রামীণ জনপদের মানুষ গৃহস্থালি, কৃষি ও ব্যবসা ক্ষেত্রে বেত ও বাঁশের তৈরি সরঞ্জামাদি ব্যবহার করত। বাসাবাড়ি কিংবা অফিস-আদালত সবখানেই ব্যবহার করা হতো বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র। এখনো গুটি কয়েক অফিস-আদালত বা বাসাবাড়িতে বাঁশ ও বেতের তৈরি আসবাবপত্র বা ছোটখাটো সরঞ্জামাদি দেখতে পায়। তবে এগুলো নিতান্তই ঘরের সৌন্দর্য বা বিলাসিতার জন্য।
সময়ের বিবর্তনে বদলে গেছে সবকিছুই। তারপরও গুটি কয়েক মানুষ জীবন ও জীবিকার তাগিদে বাঁশ আর বেতের শিল্পকে আঁকড়ে ধরে রেখেছেন। বর্তমানে বাঁশ ও বেতের নিত্যপ্রয়োজনীয় বিভিন্ন জিনিসের জায়গা করে নিয়েছে স্বল্প দামের প্লাস্টিক ও লোহার তৈরি পণ্য। তাই বাঁশ ও বেতের তৈরি মনকাড়া সেই পণ্যগুলো এখন হারিয়ে যাওয়ার পথে। বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ চাহিদা ও জোগান না থাকায় গ্রামগঞ্জ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে ঐতিহ্যবাহী বাঁশের তৈরি বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় আকর্ষণীয় আসবাবপত্র। অভাবের তাড়নায় এ শিল্পের কারিগররা দীর্ঘদিনের বাপ-দাদার পেশা ছেড়ে আজ অনেকে অন্য পেশার দিকে ছুটছে। শত অভাব অনটনের মধ্যেও হাতেগোনা কয়েকটি পরিবার আজও পৈতৃক এ পেশাটি ধরে রেখেছেন। সম্প্রতি একটি প্রতিবেদনে উঠে এসেছে বাঁশ ও বেতের এই দুরবস্থার কথা, যার সারসংক্ষেপ এটাই যে আধুনিকতার ছোঁয়া ও দামে সস্তা হওয়াতে প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা বেড়েছে অনেক গুণ অন্যদিকে বাঁশ ও বেতের পণ্যের বাজারে চাহিদা কম হওয়াতে বিক্রির পরিমাণ খুবই সীমিত। যার ফলে বিপাকে পড়েছে এই কারিগরগুলো। একসময় গ্রামাঞ্চলের অনেক মানুষ বাঁশ-বেত দিয়ে বিভিন্ন ধরনের সামগ্রী তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করতেন। এবং ধরে রাখতেন বাপ-দাদার পারিবারিক ঐতিহ্য। কিন্তু বর্তমানে বাঁশ-বেত নেই বললেই চলে। এভাবে চলতে থাকলে প্রযুক্তি আর আধুনিকতার ছোঁয়ায় বাঁশ-বেতশিল্প হয়তো আগামী দিনে আর খুঁজে পাওয়া যাবে না। রূপকথার গল্পের মতো বইয়ের পাতায় বাঁশ-বেতশিল্পের কথা লেখা থাকবে আর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এর ব্যবহার জানবেই না। তাই গ্রামবাংলার ঐতিহ্যের এই বাঁশ ও বেতশিল্পকে টিকিয়ে রাখতে আমাদের সচেতন হতে হবে। এ শিল্প যাতে আমাদের মধ্যে প্রাচীন ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক হিসেবে বেঁচে থাকে সে লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে সরকারকে, তাহলেই গ্রামবাংলার হাজার বছরের প্রাচীন ঐতিহ্য এই বাঁশ ও বেতশিল্পকে টিকিয়ে রাখা সম্ভব হবে। লেখক :শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com