মঙ্গলবার, ১৭ মে ২০২২, ১১:৪৬ অপরাহ্ন
শিরোনাম ::
পি কে হালদারকে হস্তান্তরে সময় লাগতে পারে : দোরাইস্বামী ২১ ডেঙ্গু রোগী ঢাকার হাসপাতালে ভর্তি হজে যেতে পাসপোর্টের মেয়াদ থাকতে হবে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত কুমিল্লা সিটি নির্বাচন: মেয়র পদে স্বতন্ত্র প্রার্থী বিএনপির দুই নেতা সম্রাটের জামিন বাতিলের বিষয়ে আদেশ আজ আর্থিক অনুমোদনের ক্ষমতা কমলো পরিকল্পনামন্ত্রীর হানিমুনেই আমাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিল জনি ডেপ: অ্যাম্বার ২০২২-২৩ অর্থবছরের বাজেটে পরিবহন ও যোগাযোগ খাতে সর্বোচ্চ বরাদ্দ পদ্মা সেতুর টোল নির্ধারণ: বড় বাস ২৪০০, মাঝারি ট্রাক ২৮০০, কার/জিপে লাগবে ৭৫০ টাকা কবিতার ইতিহাসে কাজী নজরুলের ‘বিদ্রোহী’ এক অনন্য সাধারণ রচনা : সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী

ঈদযাত্রায় বাসে যাত্রী সংকট: কারণ মোটরসাইকেল

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় সোমবার, ৯ মে, ২০২২

মহামারির দুই বছরের চারটি ঈদে সংক্রমণ ঠেকাতে জারি করা হয়েছিল নানারকম বিধিনিষেধ। সংক্রমণ কমে আসায় এবার কোনোধরনের বিধিনিষেধ ছাড়া মানুষ ঈদ আনন্দ ভাগাভাগি করতে গ্রামে যেতে পেরেছে। সেই সঙ্গে সড়ক, রেল ও লঞ্চেও ছিল অনেকটাই স্বস্তিদায়ক অভিজ্ঞতা। তবে এর মধ্যেও আলোচনায় এসেছে আরেকটি চিত্র। এবছর মোটরসাইকেলেই গ্রামে ঈদ করতে গেছেন অসংখ্য মানুষ। অবস্থা এমন পর্যায়ে গিয়েছিল যে, মোটরসাইকেলের জন্য আলাদা ফেরির ব্যবস্থা করতে হয়েছে। আর উত্তরের পথে যমুনায় বঙ্গবন্ধুর সেতুর সামনে মোটরসাইকেলের জটলাও ছিল চোখে পড়ার মতো। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গেল কয়েকবছরে রাজধানী ঢাকায় রাইডশেয়ারিং অ্যাপের মাধ্যমে মোটরসাইকেল চালক একটা আলাদা পেশা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মোটরসাইকেল চালকদের বড় একটি অংশ নিজেদের বাইকেই গ্রামে গেছেন ঈদ উদযাপন করতে। যাত্রায় সঙ্গে করে পরিবারের সদস্য কিংবা নিজ এলাকার কোনও যাত্রীকেও নিয়ে গেছেন তারা। এতে করে যাত্রায় যেমন সাশ্রয় হয়েছে, অনেকের বাড়তি আয়েরও সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। স্বাভাবিকভাবে এই মোটরসাইকেল যাত্রার প্রভাব পড়েছে আন্তঃজেলা বাসগুলোতে। যেখানে অন্যান্য বছর ঈদে টিকিট নিয়ে হাহাকার দেখা যায়, সেখানে এবছর যাত্রী সংকটের পড়তে হয়েছে বাস সংশ্লিষ্টদের। বাসে যাত্রী সংকটের কারণ হিসেবে উল্লেখ করে মোটরসাইকেল চালকদের নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক খন্দকার এনায়েত উল্যাহ। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবছর মোটরসাইকেলের কারণে আমাদের গণপরিবহনের ব্যবসায় ধস নেমেছে। ঈদে যে সব রুটে নির্ধারিত গাড়ির পরও অতিরিক্ত গাড়ি ছেড়ে যেতো এবার যাত্রী সংকটের কারণে অনেক গাড়ির ট্রিপ বাতিল করা হয়েছে। বাস মালিক সমিতির এই নেতার দাবির সঙ্গে মিলছে সড়কে যান চলাচল ও দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করে এমন সংস্থাগুলোর বক্তব্য। সংস্থাগুলো বলছে, এবার ঈদে সড়ক-মহাসড়ক ব্যবহার করে ২৫ লাখের মতো মোটরসাইকেল বিভিন্ন গন্তব্যে গিয়েছে। যার ফলাফল গিয়ে পড়েছে গণপরিবহনে। অনেকটা যাত্রী চাপ ছাড়াই আসন খালি নিয়ে বাস ছেড়ে যেতে হয়েছে। অনেক বাস যাত্রী সংকটে ট্রিপও বাতিল করেছে।
বেড়েছে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা: বাসের যাত্রী সংকটের চেয়েও উদ্বেগের বিষয় দুর্ঘটনা। এবার ঈদের মোটরসাইকেলে বাড়ি ফেরা যেমন বেড়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত এই বাহনটির মাধ্যমে দুর্ঘটনার সংখ্যাও বেড়েছে। এতে ঘটেছে প্রাণহানিও।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রাজধানীর ভেতরে বা অলিগলিতে মোটরসাইকেল চালানো, আর মহাসড়কে মোটরসাইকেল চালানোর মধ্যে ব্যবধান বিশাল। মহাসড়কে বড় সাইজের যানবাহনে সঙ্গে তাল মিলিয়ে আকারে ছোট মোটরসাইকেল চালাতে হয়। বড় গাড়ি ওভারটেক করার সময় গতি সামর্থের তুলনায় অনেক বাড়াতে হয়। মোটরসাইকেল চালানোর চূড়ান্ত অভিজ্ঞতা না থাকলেই চলতি পথে দুর্ঘটনার আশঙ্কা থেকে যায়। এই আশঙ্কা সত্যি করে অনেক দুর্ঘটনা ঘটেছে।
খন্দকার এনায়েত উল্যাহ বলছেন, ‘দূরের পথে মোটরসাইকেলে ঈদযাত্রার কারণে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়েছে। এ বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।‘ সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ঈদে মোটরসাইকেলে করে বাড়ি যাওয়ার সময় ফাঁকা রাস্তায় ঘটেছে বিপুল সংখ্যক দুর্ঘটনা। প্রাণ হারিয়েছেন শতাধিক ব্যক্তি, আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ৫ শতাধিক। তারাও বলছেন, মোটরসাইকেল কখনও গণপরিবহনের সহায়ক হতে পারে না। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য বলছে, ২৫ এপ্রিল থেকে ৫ মে পর্যন্ত সারাদেশে ১৭৮টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে নিহত হয়েছেন মোট ২৪৯ জন। নিহতদের মধ্যে মোটরসাইকেল আরোহী ছিলেন ৯৭ জন। যা মোট দুর্ঘটনার ৩৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ। নিহত ৫১ জনের বয়স ছিল ১৫ থেকে ২০ বছরের মধ্যে। অর্থাৎ মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ৫৭ শতাংশ ছিল অপ্রাপ্তবয়স্ক। এছাড়া, ১ মে থেকে ৫ মে পর্যন্ত ১১২টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এতে ১৩৯ জন নিহত হয়েছেন। একই সময় ৫৬ জন মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। যা মোট মৃত্যুর ৪০ দশমিক ২৮ শতাংশ।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় বুয়েটের দুর্ঘটনা গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ড. হাদিউজ্জামান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, এবছর গণপরিবহনের যাত্রী কম থাকার কারণ হলো- বিভিন্ন গন্তব্যে বাণিজ্যিকভাবে মোটরসাইকেল ব্যবহৃত হয়েছে। বলাই যায়, মোটরসাইকেল চালকরা এবছর গণপরিবহনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে। যা গণপরিবহনের ক্ষেত্রে কিংবা চলাচলের ক্ষেত্রে ভবিষ্যতের জন্য কোনোভাবেই সুখকর নয়। মহাসড়কগুলোতে মোটরসাইকেল চলাচলের কারণে দুর্ঘটনার সংখ্যা বেড়েছে এবং প্রাণহানি ঘটেছে বলেও উল্লেথ করেন তিনি।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, করোনা মহামারীর পর থেকে রাজধানীতে এমনিতে বেড়েছে মোটরসাইকেল চলাচলে সংখ্যা আর অ্যাপ ভিত্তিক রাইড চালু হওয়ার পর থেকে অনেকের উপার্জনের অন্যতম মাধ্যম হয়ে পড়েছে এ মটরসাইকেল। ঈদে যানজট এবং বাড়তি ভাড়া ঝক্কি ঝামেলা থেকে এড়াতে অনেক মোটরসাইকেলচালক নিজেদের মোটরসাইকেলটি নিয়েই ঈদ করতে বাড়ির উদ্দেশ্যে রওনা হন। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে সড়ক-মহাসড়কে মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণে রাখতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তা না হলে দুর্ঘটনার মাত্রা প্রতিনিয়ত বাড়তেই থাকবে।-বাংলাট্রিবিউন




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com