রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬, ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খুলনাঞ্চলে নদী খননে বদলে যাবে কৃষি অর্থনীতি সান্তাহারে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনের ৯টি বগি লাইনচ্যুত, শতাধিক যাত্রী আহত আত্রাই এলাকার উন্নয়নে আমার চেষ্টার ত্রুটি থাকবে না-এমপি রেজু শেখ রাজশাহীতে সমাহিত করা হবে অভিনেতা শামস সুমন ধামইরহাটে দল ও জনগণের সমর্থন পেলে পৌরবাসীর সেবা করতে চান আনোয়ারুল ইসলাম কয়রায় প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলের অর্থ বিতরণ করলেন এমপি আবুল কালাম আজাদ তারাকান্দায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেক অসহায় ও দুঃস্থদের মাঝে বস্ত্র বিতরণ এনাম ডেন্টাল অ্যান্ড আই কেয়ারের উদ্যোগে দোয়া ও ইফতার প্রধানমন্ত্রীর ঈদ উপহার পৌঁছাল নিহত বিএনপি নেতা অলিউল্লাহ মোল্যার বাড়িতে নড়াইলের লোহাগড়ায় জিয়া পরিষদের আলোচনা সভা ও ইফতার মাহফিল

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে ১৬৭টি চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে শ্রমিকরা

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২

মজুরি ১২০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার দাবিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেছেন ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা। বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে শনিবার থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন শুরু করেন সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও চট্টগ্রামের ১৬৭টি চা বাগানের শ্রমিকরা। অনেক বাগানের শ্রমিকরা চা বাগান ছেড়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন। এসময় বাগান মালিকদের দুদিনের আলটিমেটাম দেন তারা। আগামী রোববার ও সোমবার সাপ্তাহিক ও সরকারি ছুটির দুদিনের মধ্যে মজুরি বৃদ্ধির দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে ফের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘটে যাবেন তারা। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো রিপোর্টে-

মৌলভীবাজারের ৯২টি চা বাগানের শ্রমিকরা অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করছেন। শনিবার সকাল থেকে জেলার বিভিন্ন চা বাগানের শ্রমিকরা চায়ের পাতা উত্তোলন ও চা ফ্যাক্টরিতে কাজে যোগ না দিয়ে আঞ্চলিক মহাসড়ক ও ফ্যাক্টরি এলাকায় তাদের দাবি আদায়ের লক্ষে অবস্থান নেন। দুপুর ১২ টার দিকে বিভিন্ন বাগান থেকে কয়েক হাজার শ্রমিক শ্রীমঙ্গল শহরের চৌমুহনায় জড়ো হন। এসময় তারা সড়ক অবরোধ করে প্রতিবাদ সমাবেশ ও বিক্ষোভ মিছিল পালন করে। সমাবেশে চা শ্রমিকরা জানান, সাপ্তাহিক ছুটি রোববার ও শোক দিবসের ছুটি আগামী ২দিন। ওই ২দিনের মধ্যে ৩শ টাকা মজুরি দাবি না মানলে মঙ্গলবার থেকে আবার অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট পালন করবেন তারা।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি পংকজ পন্দ, সাংগঠনিক সম্পাদক বিজয় হাজরা সহ বিভিন্ন ভ্যালি থেকে আসা চা শ্রমিক নেতারা।
সমাবেশে শ্রমিক নেতারা বলেন, বর্তমান সময়ে বাজারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কারণে চা-শ্রমিকরা দৈনিক ১২০ টাকা মজুরি দিয়ে অতি কষ্টে দিনযাপন করছেন। প্রতিটি পরিবারে খরচ বেড়েছে। মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে একাধিক সময়ে বাগান মালিকদের সাথে বৈঠক করা হয়েছে। প্রতি বছর মজুরি বাড়ানোর কথা থাকলেও গত ৩ বছর ধরে নানা টালবাহানা করে মজুরি বাড়ানো হচ্ছে না। এতে করে চা শ্রমিকদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। তাই বাধ্য হয়ে তারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
টানা চারদিন দুই ঘণ্টা করে কর্মবিরতি পালনের পরও দাবি আদায় না হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য পূর্ণদিবস কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। সকালে দেউন্ডি, চান্দপুর, চন্ডি ও লস্করপুর চা বাগানে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন শ্রমিকরা। ন্যায্য মজুরির দাবিতে দেশের সকল চা বাগানে কর্মবিরতি, বিক্ষোভ মিছিল-সমাবেশ করছেন চা শ্রমিকরা। এরই অংশ হিসেবে শনিবার সকাল থেকে হবিগঞ্জের ২৪টি চা বাগানে লাগাতার ধর্মঘট পালন করছেন শ্রমিকরা।
হবিগঞ্জের বিভিন্ন চা বাগানে বিক্ষোভ সমাবশে বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন রায়, দেউন্ডি চা বাগানের পঞ্চায়েত সভাপতি প্রবীর ব্যুনার্জী, সাধারণ সম্পাদক আপন বাগতি। সকাল থেকে হবিগঞ্জের ২৪টি বাগানের শ্রমিকরা কাজ বন্ধ রেখে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসুচি পালন করেন। পরে মিছিল নিয়ে চুনারুঘাট ও বাহুবল উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কাছে তাদের দাবি-দাওয়া পেশ করে।
চা শ্রমিকরা জানান, বর্তমানে তাদের দৈনিক মজুরি ১২০ টাকা। দ্রব্যমুল্য উর্ধ্বগতির কারণে এই টাকায় তাদের চলতে কষ্ট হচ্ছে। তাই তারা ৩০০ টাকা মজুরি দাবি করছেন। তাদের দাবি মানা না হলে তারা কাজে ফিরবেন না। প্রয়োজনে তারা রাস্তায় নামতে বাধ্য হবেন বলেও জানান তিনি। সমাবেশে চা শ্রমিক নেতারা বলেন বর্তমানে দ্রব্যমূল্য, যাতায়াত ভাড়াসহ সবকিছুর মূল্য আকাশচুম্বি। তাই পূর্বের ১শ’ ২ টাকা মজুরিতে আমাদের সংসার সংসার চলে না। তাই মজুরি অন্তত ৩শ’ টাকা করার আগ পর্যন্ত চা বাগানের সকল কাজকর্ম বন্ধ থাকবে।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের ডাকে শনিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতির কর্মসূচি পালন করছেন চট্টগ্রামের ২৩টি বাগানের শ্রমিকরা। তাদের দাবি, প্রতিনিয়ত নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েই চলেছে। অথচ বাংলাদেশের চা শ্রমিককরা ১২০ টাকা মজুরিতে কাজ করছেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে শ্রমিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়ন ও বাগান মালিকদের সংগঠন বাংলাদেশ চা সংসদ নেতৃবৃন্দের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। এ সময় শ্রমিকদের মজুরি বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করার সিদ্ধান্ত হয়। কিন্তু চুক্তির ১৯ মাস অতিবাহিত হলেও সেই প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন করেনি মালিক পক্ষ। তাই তারা আন্দোলনে নেমেছেন। তাদের দাবি না মানা হলে কেন্দ্রীয় নেতাদের নির্দেশনাক্রমে আন্দোলন আরো কঠোর করা করার হুমকি দেন চা শ্রমিকরা।
রামগড় চা বাগান পঞ্চায়েত কমিটির সভাপতি মদন রাজগর বলেন, ‘বাংলাদেশে চা শ্রমিকদের একটা বিশাল অংশ রয়েছে। এ দেশের ভোটার হয়েও তারা অবহেলিত। মৌলিক অধিকারও তাদের ভাগ্যে জুটে না। এছাড়া রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ১২০ টাকা মজুরি পায়। এভাবে আর আমরা চলতে পারছি না। ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া করানোর সাধ্য হচ্ছে না। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের যেভাবে দাম বেড়েছে আমাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে।’




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com