মঙ্গলবার, ০৪ অক্টোবর ২০২২, ০২:১৯ পূর্বাহ্ন

জনগণের ঐক্য হওয়ায় সরকার ভয় পেয়েছে : মির্জা ফখরুল

ইকবাল হোসেন:
  • আপডেট সময় সোমবার, ২৯ আগস্ট, ২০২২

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, সরকার ভয় পেয়েছে, কারণ জনগণের ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে। জনগণের এই ঐক্য সরকারের পতন ত্বরান্বিত করবে। গতকাল সোমবার জাতীয় প্রেসক্লাবে এক স্মরণ সভায় তিনি এসব কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান (একাংশ) কাজী জাফর আহমেদের সপ্তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে জাতীয় পার্টি এই স্মরণ সভার আয়োজন করে। এ সময় কাজী জাফরের স্মৃতিচারণ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কাজী জাফর সারাটা জীবন রাজনীতির মাঠে চড়াই উতরাইয়ের মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে। তার দেশের প্রতি ভালোবাসা, দেশের মানুষের প্রতি ভালোবাসা, সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম, আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই সংগ্রাম। গণতন্ত্রের পক্ষে শোষণমুক্ত সমাজের পক্ষে রাষ্ট্র নির্মাণের পক্ষে সারাটা জীবন তিনি লড়াই করেছেন। কখনো সরকারে থেকে, কখনো সরকারের বাইরে থেকে। তিনি বলেন, আজকে জাতি অত্যান্ত সঙ্কটময় একটি সময় অতিক্রম করছে। গণতন্ত্রের মাতা, যিনি গণতন্ত্রের জন্য লড়াই করেছেন সংগ্রাম করেছেন। গতকাল আমাদের নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে আবারো হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে তার মুক্তির সংগ্রাম করছি, দীর্ঘদিন ধরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশে নেয়ার কথা বলছি। এ সরকার নির্বাচিত নয়, তাই তাদের জনগণের প্রতি কোনো দায?িত্ববোধ নেই। তারা মনে করে, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা বেগম খালেদা জিয়া। এ কারণেই তাকে বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দিচ্ছে না। বিএনপি মহাসচিব বলেন, বর্তমান শাসকগোষ্ঠী আমাদের মুক্তিযুদ্ধের যে স্বপ্ন আকাঙ্ক্ষা সব ধ্বংস করে দিয়েছে। আমাদের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। নিজেরা ক্ষমতায় থাকার জন্য গোটা রাষ্ট্রকে তারা একটি ফ্যাসবাদী, একটি একনায়কতন্ত্র কর্তৃত্ববাদী রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। মির্জা ফখরুল বলেন, সারাদেশে বিএনপি’র চলমান কর্মসূচিতে জনগণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে নেমে আসছে। এই সরকারের বিরুদ্ধে জনগণ প্রতিবাদ করছে। এজন্য সরকার আওয়ামী লীগের সন্ত্রাসী বাহিনী লেলিয়ে দিয়েছে। বিএনপির এই শীর্ষ নেতা বলেন, আমরা বিশ্বাস করি সমস্ত রাজনৈতিক দলগুলোর ঐক্য সৃষ্টি হবে। আমরা সেই আহ্বানও করেছি। রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ করে আমরা সামনে এই ভয়াবহ দানবীয় সরকারকে সরিয়ে সত্যিকার অর্থে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠা করব। জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দারের সভাপতিত্বে এ সময় উপস্থিত ছিলেন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল- জেএসডি সভাপতি আ স ম আবদুর রব, ২০ দলীয় জোট নেতা মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, ফরিদুজ্জামান ফোরহাদ, খন্দকার লুৎফর রহমান, এসানুল হুদা ও জাতীয় পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, যুগ্ম মহাসচিব এএসএম শামীম প্রমুখ।
জোট নিয়ে জামায়াত আমিরের বক্তব্যের জবাবে ফখরুল: ২০ দলীয় জোটের শরিক জামায়াতের ‘জোট ত্যাগ’ প্রসঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, ‘আপনারা বলতে পারেন, জিজ্ঞাসা করতে পারেন। কিন্তু এ ব্যাপারে আমি উত্তর দেবো না। জিজ্ঞাসা করাটা আপনাদের যেমন গণতান্ত্রিক অধিকার, ঠিক তেমনি উত্তর না দেওয়াটাও আমার গণতান্ত্রিক অধিকার। আপনারা গণতান্ত্রিকভাবে যা খুশি বলতে পারেন, লিখে দেন নো প্রবলেম।’ গতকাল সোমবার (২৯ আগস্ট) রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
জ্বালানি তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রতিবাদে বিএনপির কর্মসূচি ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে জানিয়ে তিনি বলেন, আমাদের কর্মসূচি গত ২২ আগস্ট থেকে চলমান, এই কর্মসূচির সময় বাড়ানো হয়েছে। কর্মসূচিতে আমরা অভূতপূর্ব সাড়া পেয়েছি। যেসব জেলা, উপজেলা, ইউনিয়ন, মহল্লায় কর্মসূচি পালন করা সম্ভব হয়নি সেসব স্থানে এ কর্মসূচি আগামী ১০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। মির্জা ফখরুল বলেন, কর্মসূচিতে জনগণের সম্পৃক্ততা দেখে আওয়ামী লীগ ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছে। তাদের যে সন্ত্রাসী চরিত্র, সেটা আরও একবার উদ্ভাসিত হয়েছে। আওয়ামী লীগের রক্তেই সন্ত্রাস আছে। দলটি রাজনৈতিকভাবে সম্পূর্ণ দেউলিয়া হয়ে গেছে। বলপ্রয়োগ ছাড়া তাদের টিকে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই।
আওয়ামী লীগ আবারও দমন নীতির আশ্রয় নিয়েছে উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, কিছুদিন আগে প্রধানমন্ত্রী বললেন, কাউকেই গ্রেফতার করা হবে না। সভা-সমাবেশ সবকিছু করতে দেওয়া হবে। কিন্তু তার উল্টা রূপ দেখা যাচ্ছে। এটাই আওয়ামী লীগের চরিত্র। তারা কথা বলবে একটা, কাজ করবে আরেকটা। এভাবেই তারা দেশের গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে এবং দেশকে একটা ব্যর্থ রাষ্ট্রে পরিণত করেছে। বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নিয়ে জোটের অন্যতম শরিক জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের দেওয়া এক বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। এ নিয়ে বিএনপিতে এক ধরনের অস্বস্তি তৈরি হয়েছে। দলটির নেতাদের কেউ কেউ বলছেন, বিএনপির সঙ্গে থাকা নিয়ে জামায়াত আমির যে বক্তব্য দিয়েছেন তা বিএনপির জন্য অত্যন্ত বিব্রতকর এবং অস্বস্তিকর। তবে দলটির সিনিয়র নেতারা এ পরিস্থিতিতে কথা বলতে চাইছেন না।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com