মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২০, ১১:৫৩ অপরাহ্ন




৬ দেশের ক্রস বর্ডার সংযোগ স্থাপনে বড় বিনিয়োগ চীনের

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০




বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সাথে ভারত, ভুটান, নেপাল, মিয়ানমার ও চীনের ক্রস বর্ডার সংযোগ স্থাপনসহ উপ-আঞ্চলিক সড়ক যোগাযোগ স্থাপন করা হবে। এর মাধ্যমে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোর সঙ্গে আমদানি-রফতানি ও ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণের পথ সুগম হবে। এজন্য মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা ‘সিলেট-তামাবিল মহাসড়ক পৃথক এসএমভিটি লেনসহ চার লেনে উন্নীতকরণ’ শীর্ষক একটি প্রকল্প অনুমোদন দেয়া হয়েছে। এতে খরচ হবে ৩ হাজার ৫৮৬ কোটি ৫ লাখ টাকা। তার মধ্যে বাংলাদেশ সরকার দেবে ৬১৫ কোটি ৪৯ লাখ, বাকি ২ হাজার ৯৭০ কোটি ৫৬ লাখ টাকা ঋণ দেবে চীন নেতৃত্বাধীন এশীয় অবকাঠামো বিনিয়োগ ব্যাংক (এআইআইবি), যার সদর দফতর বেইজিংয়ে। একনেক সভা-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে পরিকল্পনামন্ত্রী এম এ মান্নান বলেন, ‘আশা করছি, পূর্বদিগন্তে আমাদের যে ওপেনিং আপ হবে, আসাম, ত্রিপুরা, ভুটান, নেপালের সঙ্গে ইত্যাদি। পূর্বদিগন্তে আমরা যেতে চাচ্ছি। এটা ক্রস বর্ডার রোড হবে। চীনের সঙ্গে, মিয়ানমারের সঙ্গে আজ হয়তো একটু উত্তেজনা আছে, আগামীতে আশা করি থাকবে না। উই আর ফ্রেন্ডস (আমরা বন্ধু)। এ রাস্তাটি হলো ৫৬ দশমিক ১ কিলোমিটার। এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ রাস্তা। এটাকে চার লেনে উন্নীত করা হবে। সব আন্তঃজেলা, আন্তঃদেশ, আন্তর্জাতিক সড়ককে চার থেকে ছয় লেনে উন্নীত করা হবে। এটা আমাদের জাতীয় লক্ষ্য।’ সূত্র জানায়, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ/সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে সড়ক ও জনপথ অধিদফতর প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে। সিলেট জেলার সিলেট সদর, দক্ষিণ সুরমা, জৈন্তাপুর ও গোয়াইনঘাট উপজেলায় প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। চলতি বছরের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। প্রকল্পের উদ্দেশ্য হলো- সিলেট থেকে তামাবিল পর্যন্ত সড়কের উভয় পাশে ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক লেনসহ চার লেনে উন্নীত করা, ঢাকা-সিলেট-তামাবিল করিডোরের মাধ্যমে উপ-আঞ্চলিক সংযোগ স্থাপন করা, স্থলবন্দর, অর্থনৈতিক অঞ্চল, রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চলে যাতায়াত সহজীকরণ, পর্যটন বিকাশে সুযোগ সৃষ্টি করাসহ আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অবদান রাখা। প্রকল্পটির প্রধান কার্যক্রমের মধ্যে রয়েছে- সড়ক পেভমেন্ট নির্মাণ ৫৬ দশমিক ১৬ কিলোমিটার, মাটির কাজ ৫৫ দশমিক ৪৩ লাখ ঘনমিটার, এসফল্ট প্লান্ট ও ইমালসন প্লান্টসহ রক্ষণাবেক্ষণ ওয়ার্কশপ একটি, ব্রিজ (২১টি) ১ হাজার ৯৩৯ দশমিক ৮৪৯ মিটার, কালভার্ট নির্মাণ (৪৯টি) ৬২৫ দশমিক ৫ মিটার, ফুটওভার ব্রিজ নির্মাণ (১০টি) ৩৬৫ দশমিক ৭৬ মিটার, টোল প্লাজা নির্মাণ একটি, এক্সেল লোড নির্মাণ একটি, প্রকল্পের জনবলের বেতন-ভাতা (প্রেষণে) ১৪৪০ জনমাস, আউটসোর্সিং জনবল ১৫০০ জনমাস, নির্মাণ তদারকি পরামর্শক সেবা ৯৩৬ জনমাস, এনজিও সেবা (রি-সেটেলমেন্ট কাজের জন্য) ৫৯৫ জনমাস, যানবাহন সংগ্রহ (৩টি জিপ, ৬টি ডাবল কেবিন পিক-আপ, একটি মাইক্রোবাস ও ৬টি মোটরসাইকেল) ক্রয় ১৬টি, কম্পিউটার একসেসরিজ, অফিস সরঞ্জাম, ফার্নিচার এবং টেলিফোন সরঞ্জাম ক্রয় ৩৮৭টি, ভূমি অধিগ্রহণ, রি-সেটেলমেন্ট, ইউটিলিটি শিফটিং ইনসিডেন্সিয়াল (সড়ক নিরাপত্তা বেষ্টনি, সাইন-সিগনাল, বাস-বে, ড্রেন নির্মাণ) ইত্যাদি কাজ সম্পন্ন করা হবে। বাংলাদেশ তাইওয়ানের উপহার নেয়ায় ‘দুঃখ’ পেয়েছে চীন: মহামারি করোনাভাইরাস মোকাবিলায় তাইওয়ানের কাছ থেকে উপহার নেয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে টেলিফোন করে নিজেদের দুঃখ পাওয়ার কথা জানিয়েছে চীন। দেশটির দূতাবাসের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মৌখিকভাবে এই বার্তা দেয়া হয়েছে বলে মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন। বিবিসি বাংলা সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এ কর্মকর্তা বিবিসি বাংলাকে বলেন, চীনের দূতাবাস থেকে মৌখিকভাবে টেলিফোন করে তাদের দুঃখের বিষয়টি জানিয়েছে। পুরো বিষয়টি জানতে চেয়েছে তারা। বাংলাদেশ এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করে, সেই দৃষ্টিভঙ্গির কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে আমরা তাদের আশ্বস্ত করেছি। তিনি জানান, ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেয়া মন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তারা জানা গেছে, বেসরকারি একটি প্রতিষ্ঠানের আয়োজনে তারা গিয়েছিলেন। চীনের দূতাবাসকেও এই তথ্য জানানো হয়েছে বলে জানান এই কর্মকর্তা। গত ৩১ আগস্ট ঢাকায় একটি অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বেশকিছু চিকিৎসা সামগ্রী প্রদান করে তাইওয়ান। সেই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ, বাণিজ্য এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তিন মন্ত্রী ও তিন সচিব উপস্থিত ছিলেন। তাইওয়ান এক্সটারনাল ট্রেড ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল নামে একটি প্রতিষ্ঠান এক লাখ সার্জিক্যাল মাস্ক, ১৬০০ এন-৯৫ মাস্ক, ২০ হাজার কাপড়ের মাস্ক, ১০ হাজার ফেস শিল্ড, পিপিই, গগলস, দুই সেট ভেন্টিলেটর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কাছে হস্তান্তর করে। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকা তিন মন্ত্রীর একজন ছিলেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি। তিনি বলেন, তাইওয়ানের কাছ থেকে উপহার সামগ্রী নেয়া হচ্ছে সেটা আমরা জানতাম না। আমাদের বলা হয়েছিল ওয়ালটন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে কিছু উপহার সামগ্রী দেবে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিল। অনুষ্ঠানে এসে শুনলাম, তাইওয়ান থেকে ওনাদের মাধ্যমে পাঠিয়েছে। এর বেশি আমাদের জানাও ছিল না, আমরা জানতামও না যে এখানে তাইওয়ানের কোনো ব্যাপার আছে।’ চীনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছেন মুন্সি ফয়েজ আহমেদ। এ ঘটনায় বাংলাদেশ-চীনের সম্পর্কে কেনো প্রভাব পড়তে পারে কি-না, জানতে চাইলে তিনি বলেন, চীনের সঙ্গে সম্পর্ক রাখার একটি বিশেষ শর্ত হলো, এক চীন নীতিতে বিশ্বাস করতে হয়। সেটার ব্যতিক্রম করলে চীন সেটা খুশি মনে মেনে নেয় না। বাংলাদেশ ও পৃথিবীর বেশিরভাগ দেশ যখন এক চীন নীতির কথা বলে, সেটা তারা মেনে চলে। তিনি বলেন, অনেক শক্তিধর দেশ হয়তো ব্যতিক্রম করে। কিন্তু সেখানেও চীন যে খুশি হয় না, সেটা তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেয়। তাইওয়ানের সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে, ব্যবসা-বাণিজ্য করতে কোনো দেশকে চীন বাধা দেয় না, সেটা তাদের নীতি নয়। কিন্তু তারা চায়, তাইওয়ান যে একটি আলাদা রাষ্ট্র নয়, সেটা যেন খেয়াল রাখা হয়। সেরকম কোনো সম্পর্ক যেন গড়ে তোলা না হয়। মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, অনুষ্ঠানে তিনজন মন্ত্রী গিয়েছেন, সেটা হয়তো চীনের ভালো লাগবে না। সেটা তারা প্রকাশ করবে স্বাভাবিক। তবে এটা আসলে কোনো স্বীকৃতিও না। হয়তো একটা ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ আছে। তবে আমি মনে করি, বাংলাদেশ সরকারের দিক থেকে এ ব্যাপারে কোনো সমস্যা নেই। কারণ তাইওয়ানকে আলাদাভাবে গুরুত্ব দেয়ার বিষয় কোনো চিন্তাভাবনা নেই সরকারের। তবে কোথায় সীমারেখা, সেটা সম্পর্কে হয়তো সম্যক ধারণা নাও থাকতে পারে।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com