রবিবার, ০৫ মে ২০২৪, ০১:২৬ অপরাহ্ন

হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালের বিরুদ্ধে নগরকর না দেওয়ার অভিযোগ ঢাকা দক্ষিণ সিটির

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১০ নভেম্বর, ২০২২

৩৫ মাসের পাওনা নগরকর দাবি করে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকাকে আটবার তাগিদপত্র দিয়েছে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি)। এখন পর্যন্ত এই করের কোনও অর্থ পরিশোধ করেনি পাঁচ তারকা বিশিষ্ট হোটেলটি। হোটেল কর্তৃপক্ষ নিয়মিত গৃহকর দেওয়া হচ্ছে দাবি করে জানায়, এর বাইরে নগরকর আরোপ অযৌক্তিক—যা পর‌্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।
জানা যায়, স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯ এর ৮৪ নং ধারার ক্ষমতাবলে প্রণয়ন করা ‘আদর্শ কর তফসিল ২০১৬’ এর ৯ ধারা অনুযায়ী করপোরেশন এলাকার পাঁচ, চার ও তিন তারকা হোটেলে অবস্থানকারীদের কক্ষের ভাড়া থেকে তারকাভেদে ৩, ৪ ও ৫ ভাগ নগরকর হিসেবে পাবে সিটি করপোরেশন। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের মালিকানাধীন ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা হোটেলে অবস্থানকারীদের ভাড়ার ওপর পাঁচ ভাগ কর পাওয়ার কথা ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) অভিযোগ, ২০১৯ সালের ১৩ জানুয়ারি থেকে ২০২১ সালের ৭ ডিসেম্বর পর্যন্ত মোট আটবার তাগিদপত্র প্রেরণ করার পরও নগরকরের কোনও অর্থ পায়নি তারা। এদিকে হোটেল কর্তৃপক্ষ বলছে, করোনাকালে ব্যবসার ওপর প্রভাব, সংস্কারের জন্য নেওয়া ব্যাংক লোন ও ভ্যাট-ট্যাক্সসহ প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা দায়গ্রস্ত প্রতিষ্ঠানটি। পাশাপাশি তারা এ কর বাতিলের অনুরোধ করেছে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে। ডিএসসিসির রাজস্ব বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, তাগিদপত্র পাঠানোর পর হোটেল কর্তৃপক্ষ এ কর প্রদানের অঙ্গীকার করেও পরে তা দেয়নি।
ডিএসসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ফরিদ আহাম্মদ সই করা সর্বশেষ তাগিদপত্র গত বছরের ৭ ডিসেম্বর পাঠানো হয়েছিল। এতে বলা হয়, “ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা একটি পাঁচ তারকা মানের হোটেল বিধায় সিটি করপোরেশন ‘আদর্শ কর তফসিল ২০১৬’ এর ৯ ধারার বিধান অনুসারে ওই হোটেলে অবস্থানকারীদের নিকট থেকে আদায়কৃত কক্ষ ভাড়ার উপর ৫% হারে নগরকর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রাপ্য।” এতে আরও বলা হয়েছে, হোটেলটির সংস্কার কাজ সমাপ্তির পর গত ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে পুনরায় চালু হওয়ায় ওই তারিখ থেকে অদ্যাবধি ৫% হারে নগরকর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের পাওনা রয়েছে। ইতোপূর্বে বর্ণিত পত্রগুলোর মাধ্যমে পাওনা নগরকর পরিশোধ করার জন্য বারংবার অনুরোধ করা সত্ত্বেও হোটেল কর্তৃপক্ষ ওই নগরকর অদ্যাবধি পরিশোধ করেনি। ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনভুক্ত অ লের পৌরকরসহ বিভিন্ন প্রকার করের অর্থ দিয়ে করপোরেশন এলাকায় মশক নিধন, আবর্জনা অপসারণ, জলাবদ্ধতাদূরীকরণ, সড়ক বাতি সেবা নিশ্চিতকরণ ও নগর উন্নয়নমূলক বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়ে থাকে। সিটি করপোরেশনের প্রাপ্য কর আদায় হলে এসকল কার্যক্রমে আরও গতিশীলতা আসবে।
“এমতাবস্থায় ৩১ ডিসেম্বর ২০১৮ থেকে ৩০ নভেম্বর ২০২১ পর্যন্ত সময়ে ইন্টারকন্টিনেন্টাল, ঢাকা হোটেলে অবস্থানকারীদের নিকট হতে আদায়কৃত কক্ষ ভাড়ার উপর ৫% হারে নগরকর ‘মেয়র, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন’-এর অনুকূলে ঢাকাস্থ যেকোনও তফসিলি ব্যাংকের পে-অর্ডারের মাধ্যমে পরিশোধ করার এবং পরিশোধকৃত টাকার উপর ১৫% হারে ভ্যাট জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের অনুকূলে চালানের মাধ্যমে ব্যাংকে জমা করে চালানের কপিসহ ভাড়া আদায় বিবরণী দাখিল করে নগরবাসীর সেবা ও উন্নয়নমূলক কাজ সম্পাদনে সহযোগিতা প্রদানের লক্ষ্যে পুনরায় বিশেষভাবে অনুরোধ করা হলো।”
এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাজস্ব বিভাগের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা হোটেল কর্তৃপক্ষকে অনেকবার ডেকেছি, তারাও এসেছেন কিন্তু কেন যে নগরকর দিচ্ছে না তা আমরা জানি না।’
তিনি জানান, দক্ষিণ সিটির আওতায় চার তারকা হোটেল ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট আর তিনি তারকা হোটেল হোটেল রাজমনি ঈসা খাঁ, এশিয়া হোটেল অ্যান্ড রিসোর্ট, হোটেল ৭১ লিমিটেড, হোটেল পূর্বাণী ইন্টারন্যাশনাল নগরকর দিচ্ছে। এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল ঢাকা’র মালিক বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (যুগ্ম সচিব) মোহাম্মদ আতিকুর রহমান জানান, হোটেল ব্যবসায় করোনার প্রভাব, ব্যাংকের দায় ও অপরিশোধিত ট্যাক্স ইত্যাদি মিলিয়ে ১ হাজার কোটি টাকার ওপর দায় আছে তাদের।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার শেষে ২০১৯ সালের শেষে আমাদের হোটেলের বাণিজ্যিক যাত্রা শুরু হয়। এরপর ২০২০ সালে শুরু হয় করোনা। সিটি করেপোরেশনের এ করের বিষয়ে আমরা জানতাম না। করোনার মধ্যে আমাদের এ করের বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়। কিন্তু করোনার কারণে আমাদের ২০২০-২১ সালে পুরো কার্যক্রম বন্ধই ছিল।’ সিটি করপোরেশনকে নিয়মিত গৃহকর দেওয়া হচ্ছে দাবি করে তিনি বলেন, এর বাইরে নগরকর আরোপ অযৌক্তিক যা পর‌্যটন খাতকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। এজন্য তাদের দাবির প্রেক্ষিতে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত সংসদীয় কমিটি এ কর প্রত্যাহারের সুপারিশ করেছে।
তিনি আরও দাবি করেন, হোটেলটি বিমানবন্দর থেকে দূরে হওয়ায় এবং যানজট পরিস্থিতিসহ নানা কারণে ২২৬টি কক্ষের মাত্র ৪০ ভাগ ভাড়া হয়। তিনি বলেন, ‘হোটেল তো চলছেই না তার উপর পাঁচ শতাংশ কর বাড়ালে তার চাপ পড়বে পর্যটকদের ওপর। ফলে ভাড়া আরও বেড়ে যাবে।’
বাংলাদেশ সার্ভিস লিমিটেডের ব্যবস্থাপক (অর্থ ও হিসাব) আলী ইমাম হোসাইন জানান, তারা হোটেলের রক্ষণাবেক্ষণের জন্য অগ্রণী ব্যাংক থেকে ২০১৪ সালে ৫৭৪ কোটি টাকা ঋণ নেন। বর্তমানে এর দায় প্রায় ১ হাজার কোটি টাকা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সম্পূরক কর ও শুল্ক কর বাবদ ১০৩ কোটি টাকা পাবে। তিনি আরও জানান, হোটেলটির আয় দিয়ে পরিচালনা ও রক্ষণাবেক্ষণ করা যায় কিন্তু ঋণের কারণে সমস্যা হয়। উল্লেখ্য, ব্যাংকের ঋণ নিয়ে হোটেলটির সংস্কার কাজে দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া যায় গত ২৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির সভার কার্যবিবরণী থেকে। দুর্নীতির অভিযোগ তদন্ত করছে এ কমিটি দ্বারা গঠিত ২নং সাব-কমিটি।-বাংলাট্রিবিউন




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com