সোমবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৩, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
শেরপুরে সরিষার বাম্পার ফলন নাজিরপুরের মাহামুদকান্দা মাদ্রাসার পরিচালনা পরিষদ কমিটিতে আবারও বিনা প্রতিদন্ধিতায় সভাপতি হলেন মিজানুর রহমান দুলাল পাখি কিনেন প্রভাবশালীরা, হরিণ শিকারও বেড়েছে গোদাগাড়ীতে পুরোদমে চলছে বোরো চাষবাদ নালিতাবাড়ীর নিশ্চিন্তপুর আলিম মাদ্রাসার অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ বরিশালে ৬ষ্ট ও ৭তম শ্রেণির সিলেবাস বাতিলের দাবীতে ইমাম সমিতির বিক্ষোভ সমাবেশ চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে সামাজিক বনায়নের গাছ কাটা অতঃপর জব্দ শিক্ষা যেমন ডিজিটাল হচ্ছে তেমনি শিক্ষকদেরও ডিজিটাল হতে হবে- মনোহরদীতে শিল্পমন্ত্রী হারবাংয়ে জমি দখলে নিতে অসহায় মহিলার বসতভিটা আগুনে পুড়িয়ে দিলো দূর্বৃত্তরা আলফাডাঙ্গায় শিক্ষার্থীদের মাঝে কুরআন ও সনদ বিতরণ

রাজশাহীতে বিএনপির সমাবেশে আসতে শুরু করেছে নেতাকর্মীরা

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় বৃহস্পতিবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২২

শহরজুড়ে অবস্থানের ঘোষণা আ. লীগের
আজ ৩ ডিসেম্বর রাজশাহীতে বিএনপির বিভাগীয় গণসমাবেশ উপলক্ষ্যে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে আসতে শুরু করেছেন নেতাকর্মীরা। এদিকে আওয়ামী লীগের সভাপতি ম-লীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ঘোষণা দিয়েছেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা দেবে না। তবে তারা অরাজকতা যাতে সৃষ্টি করতে না পারে, তা পর্যবেক্ষণ করতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া হবে।’
১ ডিসেম্বর থেকে পরিবহন ধর্মঘটের কারণে তারা আগে থেকেই নেতাকর্মীরা রাজশাহীতে আসছেন। তবে এখনও কাউকে মাঠে প্রবেশ করতে দেখা যায়নি। তারা বিএনপি পার্টি অফিসে ও ভাড়া করা কমিউনিট সেন্টারগুলোতে থাকছেন। আজ ৩ ডিসেম্বর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে সর্বশেষ বিভাগীয় গণসমাবেশ করবে বিএনপি। এরপরই দলটি ঢাকায় ১০ ডিসেম্বর মহাসমাবেশ করবে। এরই মধ্যে ৮ শর্তে রাজশাহী সমাবেশের অনুমতি দিয়েছে পুলিশ। প্রতিটি বিভাগীয় সমাবেশের আগেই বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে বাস ও গণপরিবহন। তাই আগে থেকেই নেতাকর্মীরা ছুটে আসছেন রাজশাহীতে। বুধবার সাকল থেকেই বিভিন্ন জেলা ও উপজেলাগুলো তেতাকর্মীরা রাজশাহীতে প্রবেশ করেছে। গত বুধবার বিকালে সিরাজগঞ্জ থেকে রাজশাহীতে এসেছেন ইনতিয়াজ আহমেদসহ এক সাথে ১০ জন। তিনি বলেন, বাস তো বন্ধ হয়ে যাবে তাই চলে এসিছি। এখন বিএনপি অফিসে যাচ্ছি। সন্ধায় মাঠে যাবে। সেখানেই থাকবো।
বগুড়া জেলা শিবগঞ্জ উপজেলা থেকে এসেছেন সাইফুল ইসলাম। তিনি বলেন, বিরোধী দল অবোরধ বা হরতাল দেয় শুনেছি। কিন্তু এখন তো সরকারই হরতাল দিচ্ছে। তাই আগেই চলে এসেছি।
সাইফুল বলেন, সাথে করে চিড়া মুড়ি ও গুড় নিয়ে এসেছি। আজকেই মাঠে যাবো। সেখানে এসব খেয়ে থাকা শুরু করবো। বিএনপির সামাবেশ উপলেক্ষে এসেছেন মাজহার হোসেন। তিনি বলেন, আমার নামেও মামলা দেওয়া হয়েছে। এছাড়ও কাল থেকেই বাস বন্ধ। তাই আজকেই চলে এসেছি। এখন পার্টি অফিসেই আছি। এখানেই থাকবো। বিকেলে মাঠে যাবে।
এবিষয়ে রাজশাহী বিভাগীয় জনসভার সমনবয়ক ও বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক এডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু বলেন, মাদ্রাসা মাঠ ১ ডিসেম্বররের আগে ব্যাবহার করতে দিবো না। আমরা বিভিন্ন কমিউনিটি সেন্টার ভাড়া করে ছিলাম। কিন্তু কিছু পুলিশ কর্মকর্তা তাদের হুমকি দিয়েছে গ্রেপ্তারের। আজকের মধ্যেই লক্ষ লক্ষ মানুষ আসবে। আমার চেষ্টা করছি তারদের বিভিন্ন স্থানে রাখতে। বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু বলেন, রাজশাহীতে মানুষ পদ্মা নদীর শ্রেতের মতই আসবে। আজকের রাত্রিতেই সেটি প্রমান হয়ে যবে। ১৫ লাক্ষ মানুষ এই সমাবেশ আসবে। মিনু বলেন, আমরা রাজশাহীর মানুষ অতিথী পরায়ন। প্রতিটি বাড়িতে বাড়িতে আমাদের নেতাকর্মীদের স্থান দিবে। নিজেরা না খেয়ে হলেও তারা তাদের খেতে দিবে।
শহরজুড়ে অবস্থানের ঘোষণা আ. লীগের: আওয়ামী লীগের সভাপতি মণ্ডলীর সদস্য এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন ঘোষণা দিয়েছেন, বিএনপির ষড়যন্ত্র ও অপপ্রচারের প্রতিবাদে তারা গতকাল বৃহস্পতিবার থেকেই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করবেন এবং ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত শহরের বিভিন্ন জায়গায় অবস্থান নেবেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার শহরের কুমারপাড়া এলাকায় রাজশাহী সিটি আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘আগামী ৩ ডিসেম্বর সমাবেশকে কেন্দ্র করে বিএনপি যদি কোনো ধরনের অরাজকতা ও নাশকতার চেষ্টা করে, তাহলে তাদেরকে স্থানীয়ভাবেই প্রতিহত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগ বিএনপির শান্তিপূর্ণ সমাবেশে কোনো বাধা দেবে না। তবে তারা অরাজকতা যাতে সৃষ্টি করতে না পারে, তা পর্যবেক্ষণ করতে শহরের বিভিন্ন স্থানে অবস্থান নেওয়া হবে।’
তবে, কোন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা অবস্থান নেবেন সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত করে কিছু জানাননি।
লিটন বলেন, ‘সমাবেশ করা বিএনপির গণতান্ত্রিক অধিকার। কিন্তু সমাবেশের নামে যদি তারা অরাজকতার সৃষ্টি করে, দেশদ্রোহী কর্মকাণ্ডে জড়িত হয় কিংবা জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রায় সমস্যার সৃষ্টি করে, তাহলে আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘বিএনপি বলছে, দেশে নিরাপত্তা নেই, আইন-কানুন নেই, রিজার্ভ নেই, ব্যাংক থেকে টাকা তুলে নিতে মানুষকে প্রলুব্ধ করছে। এসব কর্মকা- দেশবিরোধী।’
বিএনপি আবারও জামাত-শিবিরের সহযোগিতায় নাশকতার রাজনীতিতে মেতে ওঠার পরিকল্পনা করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ঘোষণা দিয়ে না হলেও জামায়াত-শিবিরের সদস্যরা বিএনপির এই সমাবেশে ওতপ্রোতভাবে জড়িত আছে। তাদের উপস্থিতি আমরা বিভিন্ন জায়গায় লক্ষ্য করছি।’ ‘বিএনপি অতীতে যেমন জামায়াত-শিবিরকে নিয়ে পেট্রোল বোমা-আগুন সন্ত্রাসের রাজনীতি করেছে, আবারও তারা দেশকে অস্থিতিশীল করার জন্য নাশকতার রাজনীতির পরিকল্পনা করেছে’, যোগ করেন তিনি।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com