ঢাকা ০৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

এআই নজরদারি এড়াতে নম্বরপ্লেট ঢেকে চলাচল: অবশেষে ধরা

অভিযুক্ত লাবলু

ঢাকার সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে চলাচলের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহের তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করলে তাকে এক মাসের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তখনই পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারত। কারণ একজন ব্যক্তি সফলভাবে আইন ফাঁকি দিতে পারলে অন্যরাও একই ধরনের কর্মকা-ে উৎসাহিত হতে পারেন। সেই বিবেচনায় ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবিতে মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একই ধরনের মোটরসাইকেল খুঁজে বের করা হয়। পাশাপাশি আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন মোটরসাইকেলের নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়।
তদন্তে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি লাবলু হক (৩৮)। তিনি পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল হক ও মা আনোয়ারা বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য বিশ্লেষণের পর সোমবার তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছেন। পুলিশ ধারণা করেছিল, এই পরিবর্তন আনতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে যখন রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল কম, তখনও অনেককে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য মামলা বা সাজা বাড়ানো নয়; বরং মানুষকে আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক সদস্যদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার রাকিব হোসেন তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে আসে প্রায় সাত দিন আগে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবি কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যম থেকেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত অনেকটাই অনুমানের ভিত্তিতে শুরু করতে হয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ের বিজি প্রেসসংলগ্ন এলাকায় ছবিটি তোলা হয়েছিল। এরপর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। যেহেতু নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রাখা হয়েছিল, তাই সম্ভাব্য বিভিন্ন নম্বরের সমন্বয় ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়।
তদন্তকারীরা মোটরসাইকেলের রং, মডেল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য যানবাহনের তালিকা তৈরি করেন। পরে একে একে সেসব মোটরসাইকেলের মালিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঈদের ছুটির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। ধাপে ধাপে সম্ভাব্য তালিকা ছোট করতে করতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল নিয়ে কাজ করা হয়।
রাকিব হোসেন বলেন, শেষ পর্যন্ত নম্বরপ্লেটের নকশা ও অন্যান্য তথ্যের মিল পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তেজগাঁও এলাকায় জরুরি কাজে যাওয়ার সময় হেলমেট না থাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যে নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রেখেছিলেন। পরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেন।
ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনায় মূল বার্তা হলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলেও তা শনাক্ত করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। তবে সড়কে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও সমানভাবে প্রয়োজন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

এআই নজরদারি এড়াতে নম্বরপ্লেট ঢেকে চলাচল: অবশেষে ধরা

আপডেট সময় ০৭:৫৯:২৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুন ২০২৬

ঢাকার সড়কে এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে মোটরসাইকেলের নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে চলাচলের ঘটনায় অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবি ও ভিডিওর সূত্র ধরে প্রায় এক সপ্তাহের তদন্ত শেষে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতে তিনি দোষ স্বীকার করলে তাকে এক মাসের কারাদ- ও অর্থদ- দেয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) ডিএমপির এক সংবাদ সম্মেলনে অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মো: আনিছুর রহমান জানান, বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ঘটনাটি ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। তখনই পুলিশ বিষয়টিকে গুরুত্বের সঙ্গে নিয়ে তদন্ত শুরু করে।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টার মধ্যে এ ধরনের ঘটনা উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারত। কারণ একজন ব্যক্তি সফলভাবে আইন ফাঁকি দিতে পারলে অন্যরাও একই ধরনের কর্মকা-ে উৎসাহিত হতে পারেন। সেই বিবেচনায় ঘটনাটির দ্রুত তদন্ত ও দায়ী ব্যক্তিকে শনাক্ত করা জরুরি হয়ে পড়ে।
পুলিশ জানায়, ভাইরাল হওয়া ছবিতে মোটরসাইকেল আরোহীর মুখ স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল না। ফলে তদন্তকারীদের জন্য কাজটি ছিল বেশ চ্যালেঞ্জিং। রাজধানীর বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে একই ধরনের মোটরসাইকেল খুঁজে বের করা হয়। পাশাপাশি আংশিক দৃশ্যমান নম্বরপ্লেটের তথ্যের সঙ্গে বিভিন্ন মোটরসাইকেলের নম্বর মিলিয়ে দেখা হয়।
তদন্তে শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি লাবলু হক (৩৮)। তিনি পুরান ঢাকার লালবাগ এলাকার বাসিন্দা। তার বাবা আব্দুল হক ও মা আনোয়ারা বেগম। পুলিশ জানিয়েছে, দীর্ঘ অনুসন্ধান ও তথ্য বিশ্লেষণের পর সোমবার তাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়।
সংবাদ সম্মেলনে ডিএমপি কমিশনার নগরবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, নতুন ট্রাফিক ব্যবস্থার সঙ্গে সাধারণ মানুষ প্রত্যাশার চেয়েও দ্রুত মানিয়ে নিচ্ছেন। পুলিশ ধারণা করেছিল, এই পরিবর্তন আনতে অন্তত ছয় মাস সময় লাগবে। কিন্তু মাত্র ১৫ দিনের মধ্যেই সড়কে দৃশ্যমান পরিবর্তন দেখা গেছে। ঈদের ছুটিতে যখন রাজধানীর সড়কে যানবাহনের চাপ ছিল কম, তখনও অনেককে ট্রাফিক নিয়ম মেনে চলতে দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পুলিশের উদ্দেশ্য মামলা বা সাজা বাড়ানো নয়; বরং মানুষকে আইন মেনে চলতে উৎসাহিত করা। তবে কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে আইন ভঙ্গ করলে তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে। একই সঙ্গে ট্রাফিক সদস্যদের সাধারণ মানুষের সঙ্গে ভালো আচরণের নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপকমিশনার রাকিব হোসেন তদন্তের বিস্তারিত তুলে ধরে বলেন, ঘটনাটি তাদের নজরে আসে প্রায় সাত দিন আগে। তবে ভাইরাল হওয়া ছবি কোথায় এবং কখন তোলা হয়েছে, সে বিষয়ে গণমাধ্যম থেকেও নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে তদন্ত অনেকটাই অনুমানের ভিত্তিতে শুরু করতে হয়।
তিনি জানান, বিভিন্ন ছবি ও ভিডিও বিশ্লেষণ করে ধারণা করা হয়, রাজধানীর সাতরাস্তা মোড়ের বিজি প্রেসসংলগ্ন এলাকায় ছবিটি তোলা হয়েছিল। এরপর ওই এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখা হয়। যেহেতু নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রাখা হয়েছিল, তাই সম্ভাব্য বিভিন্ন নম্বরের সমন্বয় ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়।
তদন্তকারীরা মোটরসাইকেলের রং, মডেল ও অন্যান্য বৈশিষ্ট্য বিবেচনায় নিয়ে সম্ভাব্য যানবাহনের তালিকা তৈরি করেন। পরে একে একে সেসব মোটরসাইকেলের মালিকদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হয়। ঈদের ছুটির মধ্যেও পুলিশ সদস্যরা বিভিন্ন ঠিকানায় গিয়ে তথ্য যাচাই করেন। ধাপে ধাপে সম্ভাব্য তালিকা ছোট করতে করতে শেষ পর্যন্ত প্রায় ৭০ থেকে ৮০টি মোটরসাইকেল নিয়ে কাজ করা হয়।
রাকিব হোসেন বলেন, শেষ পর্যন্ত নম্বরপ্লেটের নকশা ও অন্যান্য তথ্যের মিল পাওয়ার পর অভিযুক্ত ব্যক্তিকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি জানান, তেজগাঁও এলাকায় জরুরি কাজে যাওয়ার সময় হেলমেট না থাকায় এআইভিত্তিক ট্রাফিক নজরদারি এড়ানোর উদ্দেশ্যে নম্বরপ্লেটের তিনটি ডিজিট ঢেকে রেখেছিলেন। পরে তিনি ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিজের দোষ স্বীকার করেন।
ডিএমপির কর্মকর্তারা বলছেন, এই ঘটনায় মূল বার্তা হলো প্রযুক্তি ব্যবহার করে ট্রাফিক আইন ফাঁকি দেয়ার চেষ্টা করলেও তা শনাক্ত করার সক্ষমতা পুলিশের রয়েছে। তবে সড়কে দীর্ঘমেয়াদি শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি সাধারণ মানুষের সহযোগিতাও সমানভাবে প্রয়োজন।