ঢাকা ০৮:২৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান Logo জাপানি বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর Logo বিদ্যুৎ খাতে লুটপাট করতেই দায়মুক্তি আইন পাস করেছিল আওয়ামী লীগ: রিজভী Logo ঘূর্ণিঝড় অর্ণবের তাণ্ডবে লন্ডভন্ড ভারত Logo ৪৬ বছর পর আবার আলোচনায় শহীদ জিয়ার ‘গঙ্গা ব্যারাজ’ Logo বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী Logo ভবিষ্যতের সব নির্বাচন একই মানদণ্ডে আনার লক্ষ্যে কাজ করছে ইসি : সিইসি Logo কিশোর তাহসিনের ড্রোন শুধু স্বপ্ন নয় Logo ‘স্যরি’ বললেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যায়  Logo চলচ্চিত্রের দুর্দশা কাটাতে করণীয় নির্ধারণে সেমিনার

ধনবাড়ী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার পরিচিত টক মিষ্টি দেশীয় ডেউয়া ফল

এক সময় গ্রামবাংলার মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা বনজঙ্গলে চোখে পড়ত ডেউয়া গাছ। গ্রীষ্মের শুরুতে গাছভর্তি হলুদ রঙের ডেউয়া ফলের টক-মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। শিশু-কিশোরদের কাছে এটি ছিল এক বিশেষ আকর্ষণের দেশীয় ফল। অঞ্চলভেদে ডেউয়া, ঢেউয়া, মাদার কিংবা বনকাঁঠাল নামে পরিচিত এই ফল আজ সময়ের বিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ২৮(জুলাই) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা যদুনাথ পুর ইউনিয়নের মমিনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি পুরোনো টিনের চালাঘরের ওপর গাছটি ডালপালা মেলে আছে। বড় বড় পাতার আড়ালে ডালগুলোয় থোকায় থোকায় ডেউয়া ধরেছে। কচি কাঁঠালের মতো ছোট ছোট গুচ্ছবদ্ধ ফল ঝুলে আছে। কোথাও চার-পাঁচটা, কোথাও দু–একটা। হলুদ হয়ে আসা কিছু ফল মাটিতে ঝরে পড়েছে। ডেউয়া দেখতে অনেকটা ছোট কাঁঠালের মতো। একসময় গ্রামীণ জনপদে অন্য সব গাছের ভিড়ে ডেউয়া ফল আলাদা করে চোখে পড়ত। থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা ফলে ভরে উঠত গাছ। ফলটির উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের কম জানাসহ নানা কারণে ফলটি এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরে এই ফলের দেখা পাওয়া দুর্লভ, অনেক গ্রামেই এখন ফলটির দেখা পাওয়া যায় না। ধনবাড়ীতে‘ডেউয়া’ নামে বেশি পরিচিত হলেও ঢেউয়া, মাদার, ডেউফল, ঢেউফল, বনকাঁঠাল, বত্তাসহ স্থানভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেখতে এবড়োখেবড়ো। ফল গোলাকৃতির, ২ থেকে ৫ ইঞ্চি চওড়া। প্রতিটি ফল ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের মতো যৌগিক বা গুচ্ছ। পাকলে ভেতরে কাঁঠালের মতো কোয়া (কোষ) হয়। প্রতিটি ফলে ২০ থেকে ৩০টি কোয়া ও বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশ খাওয়া হয়। কোষগুলো হলুদ রঙের। পাকা কোষ নরম, মোলায়েম। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ হয়। ডেউয়ার ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। কাঁচা থাকতে ফলের স্বাদ টক। পাকলে টক–মিষ্টি স্বাদের। রান্না করেও ডেউয়া খাওয়া যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মে। একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত এই ফল আজ স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে এখনই ডেউয়াসহ সব দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

ধনবাড়ী থেকে হারিয়ে যাচ্ছে গ্রামবাংলার পরিচিত টক মিষ্টি দেশীয় ডেউয়া ফল

আপডেট সময় ০৯:০৭:৪৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ জুলাই ২০২৬

এক সময় গ্রামবাংলার মেঠোপথ, বাড়ির আঙিনা, খেতের আইল কিংবা বনজঙ্গলে চোখে পড়ত ডেউয়া গাছ। গ্রীষ্মের শুরুতে গাছভর্তি হলুদ রঙের ডেউয়া ফলের টক-মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে পড়ত চারদিকে। শিশু-কিশোরদের কাছে এটি ছিল এক বিশেষ আকর্ষণের দেশীয় ফল। অঞ্চলভেদে ডেউয়া, ঢেউয়া, মাদার কিংবা বনকাঁঠাল নামে পরিচিত এই ফল আজ সময়ের বিবর্তন, বনভূমি ধ্বংস এবং পরিবেশগত পরিবর্তনের কারণে ধীরে ধীরে বিলুপ্তির পথে চলে যাচ্ছে। মঙ্গলবার ২৮(জুলাই) সকালে ধনবাড়ী উপজেলা যদুনাথ পুর ইউনিয়নের মমিনপুর এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, একটি পুরোনো টিনের চালাঘরের ওপর গাছটি ডালপালা মেলে আছে। বড় বড় পাতার আড়ালে ডালগুলোয় থোকায় থোকায় ডেউয়া ধরেছে। কচি কাঁঠালের মতো ছোট ছোট গুচ্ছবদ্ধ ফল ঝুলে আছে। কোথাও চার-পাঁচটা, কোথাও দু–একটা। হলুদ হয়ে আসা কিছু ফল মাটিতে ঝরে পড়েছে। ডেউয়া দেখতে অনেকটা ছোট কাঁঠালের মতো। একসময় গ্রামীণ জনপদে অন্য সব গাছের ভিড়ে ডেউয়া ফল আলাদা করে চোখে পড়ত। থোকায় থোকায় কাঁচা-পাকা ফলে ভরে উঠত গাছ। ফলটির উপকারিতা সম্পর্কে মানুষের কম জানাসহ নানা কারণে ফলটি এখন প্রায় হারিয়ে যাওয়ার পথে। শহরে এই ফলের দেখা পাওয়া দুর্লভ, অনেক গ্রামেই এখন ফলটির দেখা পাওয়া যায় না। ধনবাড়ীতে‘ডেউয়া’ নামে বেশি পরিচিত হলেও ঢেউয়া, মাদার, ডেউফল, ঢেউফল, বনকাঁঠাল, বত্তাসহ স্থানভেদে বিভিন্ন নামে পরিচিত। দেখতে এবড়োখেবড়ো। ফল গোলাকৃতির, ২ থেকে ৫ ইঞ্চি চওড়া। প্রতিটি ফল ২০০ থেকে ৩৫০ গ্রাম। স্ত্রী ও পুরুষ ফুল আলাদা। স্ত্রী ফুল থেকে ফল হয়। ফল কাঁঠালের মতো যৌগিক বা গুচ্ছ। পাকলে ভেতরে কাঁঠালের মতো কোয়া (কোষ) হয়। প্রতিটি ফলে ২০ থেকে ৩০টি কোয়া ও বীজ থাকে। বীজের গায়ের মাংসল অংশ খাওয়া হয়। কোষগুলো হলুদ রঙের। পাকা কোষ নরম, মোলায়েম। কাঁচা ফল সবুজ, পাকলে হলুদ হয়। ডেউয়ার ভেতরের শাঁস লালচে হলুদ। কাঁচা থাকতে ফলের স্বাদ টক। পাকলে টক–মিষ্টি স্বাদের। রান্না করেও ডেউয়া খাওয়া যায়। এটি ভারতীয় উপমহাদেশের সর্বত্র এবং দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় জন্মে। একসময় গ্রামবাংলার অতি পরিচিত এই ফল আজ স্মৃতির পাতায় হারিয়ে যেতে বসেছে। প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা, দেশীয় ফলের বৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং আগামী প্রজন্মের কাছে আমাদের ঐতিহ্য তুলে ধরতে এখনই ডেউয়াসহ সব দেশীয় ফলের গাছ সংরক্ষণ ও ব্যাপক বৃক্ষরোপণের উদ্যোগ নেওয়া সময়ের দাবি।