গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলার পশ্চিম নয়ানপুর গ্রামের ভূমিহীন বাস্তহারা পরিবার গুলোকে করতোয়া পরিত্যক্ত বাঁধ হতে বসতবাড়ী উচ্ছেদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নোটিশ। জানা গেছে, উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নের পশ্চিম নয়ানপুর মর্চ্চ নদীর করতোয়া বাঁধে ১৯৯৮ সালে বন্যার সময় ওই এলাকার ১৩টি পরিবারের বসতবাড়ী না থাকায় তারা মর্চ্চ-আখিরা নীর বাঁধে আশ্রয় নেয়। পবিরারগুলোর নিজস্ব কোন জমি-জমা বা বসতবাড়ি না থাকায় সেই অবধি ওই বাঁধেই কুড়ে ঘর তুরে বসবাস শুরু করে। জমিটি ছিল পানি উন্নয়ন বোর্ডের বাঁধের। পরবর্তীতে বাঁধটির কিছু অংশে ভেঙ্গে গেলে ওই বাঁধের পাশ দিয়ে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে অন্য একটি বাঁধ নির্মাণ করা হয়। সেই অবধি এই পরিবার গুলো ভাঙ্গা বাঁধের ভাঙ্গা অংশে ঘর-দরজা নির্মাণ করে বসবাস করে আসে। সময়ের ব্যবধানে ওই সকর বসতবাড়ীতে পল্লী বিদ্যুতের সংযোগ দেয়া হয়। এছাড়াও অসহায় ওই পরিবার গুলোকে স্বাবলম্বী করার লক্ষ্যে গ্রামীণ ব্যাংক, আশা এনজিওসহ বেশ কয়েকটি এনজিও ঋণ প্রদান করেন। বর্তমানে সেই পরিত্যক্ত বাঁধে ভূমিহীন পরিবার হিসেবে বসবাস করছেন। যথাক্রমে আঃ সামাদ, আঃ ছাত্তার, মজনু মিয়া, গোলজার, এখলাস, মমতা বেওয়া, আতিয়ার, মাসুদ, হাসানুর, ফরহাদ, শাহারুল, ছারমান ও ওলফি বেগম সাংবাদিকের উপস্থিতি দেখে ভূমিহীন ও বাস্তুহারা এই পরিবার গুলো কান্না জড়িত কন্ঠে বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী যে মুহুর্তে গৃহহীন মানুষকে ঘর করে দিচ্ছেন, ঠিক সেই মুহুর্তে আমাদের বসত উচ্ছেদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ড নোটিশ দেওয়ার বিষয়টি দুঃখ জনক। আমাদের এই বাঁধের জায়গা থেকে উচ্ছেদ করা হলে মাথা গোজার কোন ঠাই নেই। কারণ আমরা সবাই ভূমিহীন, অসহায় ও গরীব দুঃখী মানুষ। এ ছাড়াই ওই ভাঙ্গা বাঁধের অপর অংশে জেলে সম্প্রদায়ের ৮টি পরিবার খাস জমির উপর নদীর তীরে বাঁধ নির্মাণের অনেক পূর্বে থেকে অর্থাৎ ৭০/৮০ বছর যাবৎ বসত ঘর নির্মাণ করে বসবাস করে আসছিল। গত ২৯/০৩/২০২৩ইং তারিখে ওই জেলে সম্প্রদায়কেও উচ্ছেদের জন্য পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ হাফিজুল হক স্বাক্ষরিত একখানি নোটিশ প্রদান করেন। যা তাদের জন্য দুঃখজনক। তাই ভূক্তভোগী ভূমিহীন পরিবার গুলো তাদের দখলীয় ওইস্থান সমূহে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহার স্বরূপ ঘর নির্মাণের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের জরুরী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। জেলে সম্প্রদায়ের বানেশ্বর চন্দ্র, বিজেশ্বর চন্দ্র, সঞ্জিত, সাঞ্জু, শান্ত, নিখিল, নিমাই, ও নংকু চন্দ্র আরো জানান আমরা বাপ-দাদার আমল থেকে এখানে বসবাস করে আসছি। আমাদের নিজস্ব কোন জায়গা জমি বা সম্পদ নেই। তাই আমারেদ বসতি স্থায়ীকরণের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী গাইবান্ধার জেলার প্রশাসক, পলাশবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং উপজেলা চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।