বৃহস্পতিবার, ০৪ মার্চ ২০২১, ০৩:৪৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম ::
খাল খননে অনিয়মের অভিযোগ হারিয়ে যাচ্ছে করাতি সম্প্রদায় ত্রিশালে প্রডিউসার অর্গানাইজেশন কমিটি গঠনে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বরাবর স্বজনপ্রীতির অভিযোগ গৃহ নির্মাণে সীমানা নির্ধারণের কাজ চলছে ঠাকুরগাঁওয়ের ইউএনও গ্রামে আইসিএমবির সভাপতি নির্বাচিত হলেন সোনাগাজীর ছেলে আবু বকর সিদ্দিক নওগাঁয় নতুন জাতের ‘বল সুন্দরি’ বরই চাষে সাফল্য রংপুরে ফাগুনের আগুন ছড়িয়েছে শিমুল ফুল শিক্ষানবিশ আইনজীবী হত্যা বিচার বিভাগীয় তদন্তের নির্দেশ হাইকোর্টের সোনাগাজী পৌরসভার এনভারমেন্টাল স্যানিটেশন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভাতা ভোগীদের সাথে মতবিনিময় ধানের বীজের দাম বৃদ্ধির দাবিতে মানববন্ধন




আজ পহেলা ফাল্গুন, বসন্তের প্রথম দিন

খবরপত্র ডেস্ক:
  • আপডেট সময় শনিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারী, ২০২১




রোববার ফাল্গুনের প্রথম দিন। বসন্তের প্রথম দিন । আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ‘হে কবি! নীরব কেন-ফাল্গুন যে এসেছে ধরায়, বসন্তে বরিয়া তুমি লবে না কি তব বন্দনায়?- বসন্তকে বরণ করে নেওয়ার আকাক্সক্ষা কবির থাক বা না থাক আজ পহেলা ফাল্গুন। ঋতুরাজ বসন্তের প্রথম দিন। প্রকৃতির চিরাচরিত স্বভাব অনুযায়ী বন-বনান্তে কাননে কাননে পারিজাতের রংয়ের কোলাহলে ভরে উঠেছে চারদিক। কচি পাতায় আলোর নাচনের মতোই বাঙালির মনেও লেগেছে রংয়ের দোলা। হৃদয় হয়েছে উচাটন।
পাতার আড়ালে আবডালে লুকিয়ে থাকা বসন্তের দূত কোকিলের মধুর কুহুকুহু ডাক, ব্যাকুল করে তুলবে অনেক বিরহী অন্তর। কবি তাই বলেছেন ‘সে কি আমায় নেবে চিনে/ এই নব ফাল্গুনের দিনে…’। তবে বসন্তের সমীরণ বলছে এ ঋতু সব সময়ই বাঙালির মিলনের বার্তা বহন করে। কারণ বসন্তেই ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙালির স্বাধীনতার বীজ রোপিত হয়েছিল। বসন্তেই বাঙালি মুক্তিযুদ্ধ শুরু করেছিল।
বসন্তেই বাঙালি গণ-অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তাদের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধুকে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা থেকে মুক্ত করেছিলেন। আবার এ বসন্তেই তরুণ প্রজন্মের আন্দোলনের মধ্য দিয়ে যুদ্ধাপরাধীদের ফাঁসির রায় ঘোষিত হয়। আর শহরের নাগরিক জীবনে বসন্তের আগমণবার্তা নিয়ে আসে ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি…’ ও একুশের বইমেলা।
এদিনেই অসংখ্য রমনী বাসন্তী রংয়ে নিজেদের রাঙিয়ে রাজধানীর রাজপথ, পার্ক, বইমেলা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সবুজ চত্বরসহ পুরো নগরী সুশোভিত করে তোলে। বসন্তের পূর্ণতার এ দোলা ছড়িয়ে পড়ুক বাংলাদেশের সর্বত্র এবং সারা পৃথিবীর সকল বাঙালির ঘরে ঘরে। কোকিলের কুহুতান, দখিনা হাওয়া, ঝরা পাতার শুকনো নুপুরের নিক্কন, প্রকৃতির মিলন, সব এ বসন্তেই।
তাই বসন্ত মানে পূর্ণতা। বসন্ত মানে নতুন প্রাণের কলরব। বসন্ত মানে একে অপরের হাত ধরে হাঁটা। মিলনের ঋতু বসন্তই মনকে সাজায় বাসন্তী রংয়ে, মানুষকে করে আনমনা। কবিও তাই ব্যক্ত করেছেন, ‘ফুল ফুটুক, আর না-ই ফুটুক আজ বসন্ত’। বসন্তের এ সময়ে শীতের জীর্ণতা সরিয়ে ফুলে ফুলে সেজে ওঠে প্রকৃতি। গাছে গাছে নতুন পাতা, স্নিগ্ধ সবুজ কচি পাতার ধীরগতিতে বাতাসের সঙ্গে বয়ে চলা জানান দেয় নতুন কিছুর।
শীতে খোলসে ঢুকে থাকা বন-বনানী অলৌকিক স্পর্শে জেগে উঠে। পলাশ, শিমুল গাছে লাগে আগুন রংয়ের খেলা। প্রকৃতিতে চলে মধুর বসন্তে সাজ সাজ রব। আর এ সাজে মন রাঙিয়ে গুন গুন করে অনেকেই কাল গেয়ে উঠবেন ‘মনেতে ফাগুন এলো..’। বসন্ত তারুণ্যের ঋতু বলেই সবার মনে বেজে ওঠে, কবির ওই বাণী ‘বসন্ত ছুঁয়েছে আমাকে। ঘুমন্ত মন তাই জেগেছে, পহেলা ফাল্গুন আনন্দের দিনে’।
১৮ বছর আগে বঙ্গাব্দ ১৪০১ সাল থেকে প্রথম ‘বসন্ত উৎসব’ উদযাপন করার রীতি চালু হয়। সেই থেকে জাতীয় বসন্ত উৎসব উদযাপন পরিষদ বসন্ত উৎসব আয়োজন করে আসছে। বসন্তের নাচ, গান ও কবিতার পাশাপাশি ফুলের প্রীতি বন্ধনী ও বসন্ত কথনের মাধ্যমে রাজধানীর চারটি স্পটে বসন্ত বরণের অনুষ্ঠানমালার আয়োজন করা হয়েছে।
আজ বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। ফাগুনে গাছে গাছে ফুটেছে শিমুল ও পলাশ। প্রকৃতি সেজেছে বাহারি রঙে। আর নগরে বসন্ত এসেছে তরুণ-তরুণীর বেশভূষায়। এই উৎসবের আমেজ থাকবে আজও। ভালোবাসার দিবসে। ইতিহাসে যা সেন্ট ভ্যালেন্টাইনস ডে নামে পরিচিত। এর প্রচলন পশ্চিমের দুনিয়ায়, বহু আগে।
আজকের এই ভালোবাসা দিবসের পেছনের যে গল্প, তা আত্মদানের গল্প। এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকার তথ্য এমন, রোমান সম্রাট ক্লডিয়াস-২ (মে ২১৩-জানুয়ারি ২৭০) সেনাবাহিনীতে লোকবল বাড়াচ্ছেন। হঠাৎ তিনি ঘোষণা দিলেন, কোনো যুবক আর বিয়ে করতে পারবেন না। এই অদ্ভুত ঘোষণার বিরোধিতা করে সন্ত ভ্যালেন্টাইন গোপনে যুবকদের বিয়ের আয়োজন চালিয়ে যেতে লাগলেন। একসময় ধরা পড়ে গেলেন ভ্যালেন্টাইন, নিক্ষিপ্ত হলেন কারাগারে। এর মধ্যে ভ্যালেন্টাইন মনে মনে ভালোবেসে ফেলেছেন কারারক্ষীর মেয়েটিকে। এর কিছুদিন পর ১৪ ফেব্রুয়ারি সম্রাটের নির্দেশে ভ্যালেন্টাইনের শিরচ্ছেদ করা হয়। কথিত আছে, ওই দিনই প্রথম তিনি মেয়েটিকে এক চিঠিতে জানান তাঁর ভালোবাসার কথা। চিঠির নিচে লেখেন, ‘ইতি, তোমারই ভ্যালেন্টাইন’।
দিনটিকে ইউরোপে পরিচিত করে তোলেন জিওফ্রে চসার চতুর্দশ শতকে। পরে এর ব্যাপ্তি ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্র ছেড়ে পৌঁছায় চীন, জাপান, ভারত ও বাংলাদেশের মতো এশিয়ার বিভিন্ন দেশেও। বাংলাদেশে দিনটিতে ফুলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়। সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো নানা আনন্দ আয়োজনের উদ্যোগ নেয়। দেশে চলমান অস্থির পরিস্থিতিতেও এবার এর ব্যতিক্রম হবে না।




শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর









© All rights reserved © 2020 khoborpatrabd.com
Theme Developed BY ThemesBazar.Com