ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, শিক্ষার্থীদের দিয়ে বিভিন্ন কাজ করানো এবং সংবাদ সংগ্রহে গিয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের বাধা, অবরুদ্ধ রাখা ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দা ওহাব মিয়াসহ কয়েকজনের অনুরোধে গণমাধ্যমকর্মীরা বিদ্যালয়ে যান। অভিযোগ অনুযায়ী, সেখানে গিয়ে দেখা যায়, পাঠদান চলাকালে কয়েকজন শিক্ষক শ্রেণিকক্ষে না থেকে অফিসকক্ষে বসে মোবাইল ফোন ব্যবহার ও আড্ডায় ব্যস্ত ছিলেন। একই সময় বিদ্যালয়ের সামনের সড়কসংলগ্ন এলাকায় কয়েকজন শিক্ষার্থীকে খেলাধুলা করতে দেখা যায়। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে শিক্ষকরা নিয়মিত সময়মতো উপস্থিত ও প্রস্থান করেন না। এছাড়া শিক্ষার্থীদের দিয়ে টয়লেট পরিষ্কার, থালা-বাসন ও হাঁড়ি-পাতিল ধোয়া, ঝাড়ু দেওয়া, বিদ্যালয় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা এবং রান্নার কাজ করানো হয়। অভিভাবকদের দাবি, বিদ্যালয়ের তৃতীয়, চতুর্থ ও পঞ্চম শ্রেণির অনেক শিক্ষার্থী এখনো সাবলীলভাবে বই পড়তে পারে না। পাশাপাশি গণিত ও ইংরেজি বিষয়েও তাদের দক্ষতা আশানুরূপ নয়। অভিযোগের বিষয়ে জানতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দিয়েছেন বলে জানা যায়। অভিযোগ রয়েছে, জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠেন। অভিযোগ অনুযায়ী, শিক্ষক এস. এম. আল আমিনসহ কয়েকজন শিক্ষক গণমাধ্যমকর্মীদের পথ অবরোধ করে বাকবিত-ায় জড়িয়ে পড়ে বিভিন্ন আপত্তিকর মন্তব্য-; এ চাকরি না করলেও চলবে, এই বেতনে কোন হালার পুত ও শিক্ষকতা করত না। ক্লাসের সময় মোবাইল চালালে কি তোমরার সমস্যা হয়। এখন গ্রামবাসী আসবে ভয় দেখিয়ে। গণমাধ্যম কর্মীকে ফাজিল আখ্যা দেন হাইকোর্টের রোল অমান্য করে শিক্ষক আলামিন বলেন বিদ্যালয় প্রবেশের পূর্বে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে এবং অবগত করে কর্তৃপক্ষ নিয়ে বিদ্যালয় প্রবেশ করতে হবে। একপর্যায়ে সাংবাদিকের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয়, তাকে মারধর করা হয় এবং একটি কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। পরে সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে হয়ে গণমাধ্যমকর্মীদের উদ্ধার করেন এবং ছিনিয়ে নেওয়া মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষকদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। স্থানীয়রা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সংবাদ শিরোনাম
বিজয়নগরের রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অনিয়মের অভিযোগ
-
শফিকুর রহমান শাহীন ব্রাহ্মণবাড়িয়া - আপডেট সময় ০১:২০:১৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬
- 97
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ


























