নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার কৈলাটি ইউনিয়নের শ্যামপুর এলাকায় হিলফুল ফুজুল দাখিল মাদ্রাসার খেলার মাঠ দখল করে দীর্ঘদিন ধরে বালুর ব্যবসা পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। এতে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা বন্ধ হওয়ার পাশাপাশি বালুর ধুলায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও স্থানীয়দের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও দীর্ঘদিনেও কার্যকর প্রতিকার মেলেনি। ফলে প্রশ্ন উঠেছে- বালু ব্যবসায়ীদের খুঁটির জোর কোথায়? নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা অভিযোগ করেন, সাদেক, আব্দুর রাজ্জাক, ফারুক, এরশাদ ও সৈকতসহ কয়েকজন এই বালু ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের মোবাইল নম্বর দিতে তারা অপারগতা প্রকাশ করেন। একাধিক স্থানীয় সূত্রের দাবি, কলমাকান্দার মহাদেও নদ ও ধেনকি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নৌকাযোগে এবং লেংগুরা ইউনিয়নের গণেশ্বরী নদী থেকে উত্তোলিত বালু বিভিন্ন পথে এনে উপজেলার ডেট্টাখালী ঘাট, কৈলাটি ইউনিয়নের পাগলা, শ্যামপুর ও তেঘরিয়া এলাকায় মজুত করা হচ্ছে। পরে ড্রামট্রাক ও লড়িযোগে দিনে রাতে নেত্রকোনাসহ বিভিন্ন এলাকায় এসব বালু সরবরাহ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। মাদ্রাসার শিক্ষার্থী জাকিয়া আক্তার, রাহুলসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, “মাঠে বালু রাখায় আমরা খেলাধুলা করতে পারি না। বালুর ধুলা বাতাসে উড়ে শ্রেণিকক্ষে ঢুকে চোখে-মুখে পড়ে। এতে অনেক শিক্ষার্থীর চোখে সমস্যাও হচ্ছে।” মাদ্রাসার সুপার আব্দুল লতিফ বলেন, “প্রায় দুই বছর ধরে মাদ্রাসার মাঠ দখল করে বালুর ব্যবসা পরিচালনা করা হচ্ছে। বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় নেতৃবৃন্দসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।” তিনি আরও বলেন, “শ্যামপুর বাজারে এসে কিছু কর্মকর্তা অনৈতিক সুবিধা নিয়ে চলে যান”- এমন অভিযোগ স্থানীয়দের মধ্যে রয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে সত্যতা যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান তিনি। স্থানীয়দের অভিযোগ, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ দখল করে বাণিজ্যিকভাবে বালু মজুত ও পরিবহন চলতে থাকলে শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি জননিরাপত্তা ও পরিবেশও হুমকির মুখে পড়ে। তাদের প্রশ্ন, অভিযোগ বারবার প্রশাসনের নজরে আসার পরও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার কারণ কী ? তাদের ভাষ্য, “একটি মাদ্রাসার খেলার মাঠ দুই বছর ধরে দখল করে বালুর ব্যবসা চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কেন কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারছে না? বালু ব্যবসায়ীদের খুঁটির জোরই বা কোথায়?” এ বিষয়ে সিধলী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জের সরকারি নম্বরে একাধিকবার কল করা হলেও রিং হওয়ার পর তিনি ফোন রিসিভ না করায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। কলমাকান্দার নবাগত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এন. এম. আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, “বিষয়টি গুরুত্বসহকারে খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা প্রশাসন নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে সাজা ও জরিমানা করে আসছে।” স্থানীয়দের দাবি, মাদ্রাসার খেলার মাঠ দ্রুত দখলমুক্ত করে শিক্ষার্থীদের খেলাধুলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে হবে। পাশাপাশি নদী থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন, মজুত ও পরিবহনের অভিযোগ তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সংবাদ শিরোনাম
মাদ্রাসার খেলার মাঠ দখল করে বালুর ব্যবসা দুই বছরেও প্রতিকার নেই, কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ
-
শেখ শামীম (কলমাকান্দা) নেত্রকোনা - আপডেট সময় ০৩:২৩:১৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১১ অগাস্ট ২০২৬
- 67
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























