ঢাকা ০৮:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে পঞ্চম অবস্থানে আইইউবিএটি Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাকিস্তানে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। শান্তি আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই শহরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৬০০-এর বেশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে নূর খান বিমানঘাঁটি ও ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকাগুলো রোববার মধ্যরাত থেকে সিল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়িতে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বেশ কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকার রেস্তোরাঁ, বাজার এবং পাবলিক পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন, কবুতর ওড়ানো এবং যেকোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের সম্ভাব্য বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশগ্রহণের গুঞ্জন থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে নতুন দফার আলোচনা আগামী ২৬ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ হতে পারে বলে জানিয়েছে আরব টেলিভিশন চ্যানেল আল হাদাথ। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই আলোচনার জন্য পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইসলামাবাদ আলোচনার আয়োজন ও সমন্বয়ের বিষয়ে কাজ করছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট নয়।
চ্যানেলটির দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধানের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের সময় ইরান স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনায় অংশ নিলেও তারা নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। এই অবস্থানকে তেহরানের কৌশলগত নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য ইসলামাবাদ বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তথ্যসূত্র : তাস

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

টাইমস হায়ার এডুকেশন ওয়ার্ল্ড ইউনিভার্সিটি র‍্যাংকিংয়ে পঞ্চম অবস্থানে আইইউবিএটি

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান বৈঠক ঘিরে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা পাকিস্তানে

আপডেট সময় ০৯:০৯:২০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য দ্বিতীয় দফার উচ্চপর্যায়ের বৈঠককে কেন্দ্র করে রাজধানী ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডিতে নজিরবিহীন নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পাকিস্তান। শান্তি আলোচনার পরিবেশ বজায় রাখতে এবং বিদেশি প্রতিনিধিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এই দুই শহরে ১০ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। শনিবার রাত থেকেই গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে ৬০০-এর বেশি চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে নূর খান বিমানঘাঁটি ও ইসলামাবাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের আশপাশের এলাকাগুলো রোববার মধ্যরাত থেকে সিল করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাকিস্তান সরকারের একটি সূত্র জানিয়েছে, যদিও আনুষ্ঠানিকভাবে বৈঠকের তারিখ এখনও ঘোষণা করা হয়নি, তবে ২২ এপ্রিল বর্তমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই এই আলোচনা হওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। এই আলোচনার মাধ্যমে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা প্রশমন এবং হরমুজ প্রণালী পুনরায় উন্মুক্ত করার বিষয়ে একটি স্থায়ী চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করা হচ্ছে।
নিরাপত্তার কড়াকড়িতে ইসলামাবাদ ও রাওয়ালপিন্ডির বেশ কিছু এলাকায় সাধারণ মানুষের চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। সংবেদনশীল এলাকার রেস্তোরাঁ, বাজার এবং পাবলিক পার্ক সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ড্রোন উড্ডয়ন, কবুতর ওড়ানো এবং যেকোনো ধরনের আকাশসীমা লঙ্ঘনের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১০ এপ্রিল পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে প্রথম দফার আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এবারের সম্ভাব্য বৈঠকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অংশগ্রহণের গুঞ্জন থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে পাকিস্তানি নিরাপত্তা বাহিনী।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-এর মধ্যে নতুন দফার আলোচনা আগামী ২৬ এপ্রিল ইসলামাবাদ-এ হতে পারে বলে জানিয়েছে আরব টেলিভিশন চ্যানেল আল হাদাথ। তবে এখন পর্যন্ত দুই দেশের কোনো পক্ষই বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেনি। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সম্ভাব্য এই আলোচনার জন্য পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ প্রস্তুতি নিচ্ছে। কূটনৈতিক সূত্রের বরাতে জানানো হয়, ইসলামাবাদ আলোচনার আয়োজন ও সমন্বয়ের বিষয়ে কাজ করছে, যদিও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনও স্পষ্ট নয়।
চ্যানেলটির দাবি অনুযায়ী, পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধানের সাম্প্রতিক তেহরান সফরের সময় ইরান স্পষ্ট করেছে যে, আলোচনায় অংশ নিলেও তারা নিজেদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি থেকে সরে আসবে না। এই অবস্থানকে তেহরানের কৌশলগত নীতির অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ইরান বরাবরই দাবি করে আসছে যে, তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি প্রতিরক্ষামূলক এবং জাতীয় নিরাপত্তার জন্য অপরিহার্য। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দীর্ঘদিন ধরে এই কর্মসূচিকে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হিসেবে বিবেচনা করে আসছে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা, বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েল ইস্যুকে ঘিরে পরিস্থিতি জটিল অবস্থায় রয়েছে। এই প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য ইসলামাবাদ বৈঠককে কূটনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, যেহেতু এখনো কোনো পক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনার বিষয়টি নিশ্চিত করেনি, তাই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত এ বিষয়ে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যাচ্ছে না। তথ্যসূত্র : তাস