ঢাকা ০৫:০৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদ-

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে সংঘটিত নানা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রায় বিবরণী অনুযায়ী, বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে অনুপস্থিতিতেই (ইন অ্যাবসেন্টেশিয়া) মৃত্যুদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
একই মামলায় রাশিয়ায় অবস্থানরত আসাদের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও পরিকল্পিত হত্যা ও চরম নির্যাতনের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান এবং আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, আসাদ আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন নাজিব। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান এবং পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। আদালতের বিচারক যখন রায় ঘোষণা করছিলেন, তখন নাজিব আসামির কাঠগড়ায় বন্দীর পোশাক পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিত হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
সাবেক আসাদ সরকারের হেভিওয়েট নেতাদের বিচারে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের রায়।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে বিচারক আল-আরিয়ান জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে সাবেক সিরীয় শাসক বাশার আল-আসাদই ছিলেন এসব অপরাধের ‘প্রধান নীতি-নির্ধারক’। তিনি এসব অপরাধ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিলেন।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওবায়দা হিত্তো জানান, আজকের এই রায় সাধারণ সিরিয়ানদের মনে বিশাল স্বস্তি এনে দেবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করবে।
হিত্তো বলেন, “এই দিনটির জন্য তারা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছিল। যেসব অপরাধী তাদের সন্তানদের নির্যাতন করেছে, ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে- জনগণ তাদের উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি দেখতে চায়।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই রায়টি আসাদ আমলের অন্যান্য অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রেও একটি শক্ত আইনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আল-জাজিরার আরেক প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ জানান, “সিরিয়াজুড়ে মানুষ কেবল বাশার আল-আসাদের শাস্তিই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে যারা হত্যা-নির্যাতন চালিয়েছিল, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নকারীদেরও বিচার দেখতে চায়।”
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদ-

আপডেট সময় ১২:৩০:৩৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১২ অগাস্ট ২০২৬

সিরিয়ার ক্ষমতাচ্যুত প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ, তার ভাই মাহের আল-আসাদ এবং মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মৃত্যুদ- দিয়েছেন দেশটির একটি আদালত। প্রায় ১৪ বছর ধরে চলা রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধে সংঘটিত নানা অপরাধে দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তাদের এই সর্বোচ্চ সাজা দেওয়া হলো।
গতকাল মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের একটি ফৌজদারি আদালত এ ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলার রায় বিবরণী অনুযায়ী, বাশার আল-আসাদকে পরিকল্পিত হত্যা, নির্যাতন এবং মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে দোষী সাব্যস্ত করে অনুপস্থিতিতেই (ইন অ্যাবসেন্টেশিয়া) মৃত্যুদ-ের আদেশ দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে এক গণঅভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর আসাদ বর্তমানে রাশিয়ায় নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন।
একই মামলায় রাশিয়ায় অবস্থানরত আসাদের ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকেও পরিকল্পিত হত্যা ও চরম নির্যাতনের দায়ে অনুপস্থিতিতে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে।
অন্যদিকে, দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান এবং আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার বর্তমান কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করে।
অন্যদিকে, আসাদ আমলের প্রভাবশালী কর্মকর্তা ও দেশটির দক্ষিণাঞ্চলীয় দারা প্রদেশের সাবেক রাজনৈতিক নিরাপত্তা প্রধান আতেফ নাজিবকে মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য সরাসরি মৃত্যুদ- দেওয়া হয়েছে। গত বছরের জানুয়ারিতে সিরিয়ার বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষ তাকে গ্রেপ্তার করেছিল।
২০১১ সালে দারা প্রদেশে সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ওপর নির্মম দমন-পীড়ন চালিয়েছিলেন নাজিব। সেই ঘটনাই পরবর্তীতে দেশজুড়ে গণঅভ্যুত্থান এবং পূর্ণাঙ্গ গৃহযুদ্ধে রূপ নেয়। আদালতের বিচারক যখন রায় ঘোষণা করছিলেন, তখন নাজিব আসামির কাঠগড়ায় বন্দীর পোশাক পরে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
আদালতের নথিপত্র অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্টভাবে হত্যা, ১৫ বছরের কম বয়সী শিশুদের পরিকল্পিত হত্যা এবং নির্যাতনের মাধ্যমে মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়ার অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে।
সাবেক আসাদ সরকারের হেভিওয়েট নেতাদের বিচারে গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন কর্তৃপক্ষের অধীনে এটিই প্রথম কোনো উচ্চপর্যায়ের রায়।
আদালতে দেওয়া বক্তব্যে বিচারক আল-আরিয়ান জানান, সাক্ষীদের জবানবন্দিতে স্পষ্টভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে সাবেক সিরীয় শাসক বাশার আল-আসাদই ছিলেন এসব অপরাধের ‘প্রধান নীতি-নির্ধারক’। তিনি এসব অপরাধ বাস্তবায়নে রাষ্ট্রের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে ব্যবহার করেছিলেন।
সিরিয়ার রাজধানী দামেস্ক থেকে আল-জাজিরার প্রতিনিধি ওবায়দা হিত্তো জানান, আজকের এই রায় সাধারণ সিরিয়ানদের মনে বিশাল স্বস্তি এনে দেবে এবং তাদের দীর্ঘদিনের ক্ষত নিরাময়ে সাহায্য করবে।
হিত্তো বলেন, “এই দিনটির জন্য তারা বহু বছর ধরে অপেক্ষা করছিল। যেসব অপরাধী তাদের সন্তানদের নির্যাতন করেছে, ভিটামাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে এবং দেশকে ধ্বংসস্তূপে পরিণত করেছে- জনগণ তাদের উপযুক্ত বিচার ও শাস্তি দেখতে চায়।”
তিনি আরো উল্লেখ করেন, এই রায়টি আসাদ আমলের অন্যান্য অপরাধীদের বিচারের ক্ষেত্রেও একটি শক্ত আইনি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
আল-জাজিরার আরেক প্রতিনিধি ওসামা বিন জাভেদ জানান, “সিরিয়াজুড়ে মানুষ কেবল বাশার আল-আসাদের শাস্তিই নয়, বরং মাঠপর্যায়ে যারা হত্যা-নির্যাতন চালিয়েছিল, সেই নির্দেশ বাস্তবায়নকারীদেরও বিচার দেখতে চায়।”
তথ্যসূত্র: আল-জাজিরা