ঢাকা ০১:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

কারাগারে থাকায় প্রয়াত পিতাকে দেখতে না পারায় সংগীত সাধনা শুরু করেছিলেন বাউল নিধু রঞ্জন দাস

পঞ্চরতœ বাউলের দেশ সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কান্দিগাঁও গ্রামে নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন এক গুণী বাউল সাধক, গীতিকার ও সুরকার। নাম তাঁর বাউল নিধু রঞ্জন দাস(৬৩)। এক বুক কষ্ট যন্ত্রণা, চরম অবহেলা আর উপেক্ষাকে সঙ্গী করে জীবনের শেষ দিনগুলো পার করে যাচ্ছেন তিনি। প্রচারের আড়ালে থেকে নিজের ডায়েরির পাতায় তিনি বন্দি করে রেখেছেন প্রায় ৪শ থেকে ৫শ কালজয়ী আধ্যাত্মিক গান। ১৯৬৩ সালের ১লা মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই থানার করিমপুর ইউনিয়নের নাগেরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি। পরে তার পিতা নীলমনি দাস ও মাতা হেমলতা দাস তাকে নিয়ে স্বপরিবারে এসে বসতি স্থাপন করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বর্তমান কান্দিগাঁও গ্রামে। ভারতের আসাম প্রদেশের প্রখ্যাত গীতিকার ও কীর্ত্তনিয়া শ্রী শ্রী বিশ্বরুপ গোস্বামী পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের প্রখ্যাত সংগীতগুরু পালাগানের সম্রাট বাউলকবি কামাল উদ্দিন (কামাল পাশা) কে ওস্তাদ মান্য করেন তিনি। প্রতিবছর ৬ ডিসেম্বর বাউল কামাল পাশার জন্মদিন উপলক্ষ্যে জেলা শহরে বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শুদ্ধরুপে কামালগীতি পরিবেশন করেন তিনি। এছাড়া বিশেষ কোন কারণ ছাড়া তার জেলা সদরে তেমন একটা আসা হয়না। তরুণ বয়সে এক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে নিধু রঞ্জনকে যেতে হয়েছিল কারাগারের অন্ধকারে। কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তাঁর একমাত্র আশ্রয়স্থল পিতা নিলমণি দাসের মৃত্যু হয়। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখার সুযোগও পাননি তিনি। বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে না পারার সেই আজন্ম হাহাকার থেকেই কারাগারের দেওয়ালে হাত রেখে তিনি লিখেছিলেন জীবনের প্রথম অবিনশ্বর গান, “আমায় ভিখারি বানাইলায় বা দয়াল কাঙালি বানাইলায়”। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আর সংসারে জড়াননি নিধু রঞ্জন। আজীবন চিরকুমার থেকে সুরকেই পরমাত্মা বানিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন পুরো জীবন। তাঁর রচিত দেহতত্ত্ব, মনশিক্ষা ও বিচ্ছেদ ধারার গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,’মাতা পিতা অমূল্য ধন চিনলে না মন পাগলা রে, “কর মন রে নিজের বিচার, “হিংসা গৌরব লোভ লালসা কইরো না মন” “ভব সিন্ধুর পারে বসিরে ডাকি যে তোমারে, তুমি বিনে নাই কান্ডার” ইত্যাদি। বর্তমানে গ্রামে একটি ছোট্ট মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এই গুণী শিল্পী। এই দোকানটিই এখন এলাকার তরুণ ও গানপাগল মানুষদের অন্যতম প্রধান মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক বাতিঘর। দিনে দোকানদারী আর রাতে সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়েই চলছে তার জীবনযাত্রা। তাঁর সংগীত সাধনায় আকৃষ্ট হয়ে ইতিমধ্যে বাউল জাকির হোসেন, কানাই পাল, আজিজুল হক, সেলু মিয়া, মাসুক মিয়া, রনু পাল, সুমন পাল ও দীপক পালসহ অগনিত শিষ্য ও ভক্তরা সংগীত জগতে পদার্পন করেছেন। শুধু গান রচনা,স্বকন্ঠে পরিবেশন করাই নয় বরং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিজে বাজিয়ে তাতে সুরসৃষ্টি করার কৃতিত্বের অধিকারীও তিনি। শিষ্য ও সংগীত পিপাসুদের দাবী প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারের অভাবে ডায়েরির পাতায় বন্দি তার অমূল্য সম্পদ মরমী গানগুলো যেন কালের বিবর্তনে হারিয়ে না যায়। দেশের লোক সংস্কৃতিপ্রিয় গবেষকরা এই সাধকের রচিত গানগুলো সংগ্রহ ও প্রচার প্রসারে এগিয়ে আসবেন এবং তার সংগীত কর্মগুলো বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেবেন এমন প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী। সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাউল আল হেলাল,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক গীতিকবি নজরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সাংবাদিক আফতাব উদ্দিন তাদের প্রিয় গীতিকার বাউল নিধু রঞ্জন দাসের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

কারাগারে থাকায় প্রয়াত পিতাকে দেখতে না পারায় সংগীত সাধনা শুরু করেছিলেন বাউল নিধু রঞ্জন দাস

আপডেট সময় ০৮:০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৩ অগাস্ট ২০২৬

পঞ্চরতœ বাউলের দেশ সুনামগঞ্জ জেলার শান্তিগঞ্জ (দক্ষিণ সুনামগঞ্জ) উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের কান্দিগাঁও গ্রামে নিভৃতে দিন কাটাচ্ছেন এক গুণী বাউল সাধক, গীতিকার ও সুরকার। নাম তাঁর বাউল নিধু রঞ্জন দাস(৬৩)। এক বুক কষ্ট যন্ত্রণা, চরম অবহেলা আর উপেক্ষাকে সঙ্গী করে জীবনের শেষ দিনগুলো পার করে যাচ্ছেন তিনি। প্রচারের আড়ালে থেকে নিজের ডায়েরির পাতায় তিনি বন্দি করে রেখেছেন প্রায় ৪শ থেকে ৫শ কালজয়ী আধ্যাত্মিক গান। ১৯৬৩ সালের ১লা মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই থানার করিমপুর ইউনিয়নের নাগেরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহন করেন তিনি। পরে তার পিতা নীলমনি দাস ও মাতা হেমলতা দাস তাকে নিয়ে স্বপরিবারে এসে বসতি স্থাপন করেন শান্তিগঞ্জ উপজেলার পাথারিয়া ইউনিয়নের বর্তমান কান্দিগাঁও গ্রামে। ভারতের আসাম প্রদেশের প্রখ্যাত গীতিকার ও কীর্ত্তনিয়া শ্রী শ্রী বিশ্বরুপ গোস্বামী পরবর্তীতে সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার ভাটিপাড়া গ্রামের প্রখ্যাত সংগীতগুরু পালাগানের সম্রাট বাউলকবি কামাল উদ্দিন (কামাল পাশা) কে ওস্তাদ মান্য করেন তিনি। প্রতিবছর ৬ ডিসেম্বর বাউল কামাল পাশার জন্মদিন উপলক্ষ্যে জেলা শহরে বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদ আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে শুদ্ধরুপে কামালগীতি পরিবেশন করেন তিনি। এছাড়া বিশেষ কোন কারণ ছাড়া তার জেলা সদরে তেমন একটা আসা হয়না। তরুণ বয়সে এক মিথ্যা মামলার শিকার হয়ে নিধু রঞ্জনকে যেতে হয়েছিল কারাগারের অন্ধকারে। কারাগারে বন্দি থাকাবস্থায় তাঁর একমাত্র আশ্রয়স্থল পিতা নিলমণি দাসের মৃত্যু হয়। শেষবারের মতো বাবার মুখ দেখার সুযোগও পাননি তিনি। বাবার মরদেহের পাশে বসে কাঁদতে না পারার সেই আজন্ম হাহাকার থেকেই কারাগারের দেওয়ালে হাত রেখে তিনি লিখেছিলেন জীবনের প্রথম অবিনশ্বর গান, “আমায় ভিখারি বানাইলায় বা দয়াল কাঙালি বানাইলায়”। কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে আর সংসারে জড়াননি নিধু রঞ্জন। আজীবন চিরকুমার থেকে সুরকেই পরমাত্মা বানিয়ে কাটিয়ে দিয়েছেন পুরো জীবন। তাঁর রচিত দেহতত্ত্ব, মনশিক্ষা ও বিচ্ছেদ ধারার গানগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো,’মাতা পিতা অমূল্য ধন চিনলে না মন পাগলা রে, “কর মন রে নিজের বিচার, “হিংসা গৌরব লোভ লালসা কইরো না মন” “ভব সিন্ধুর পারে বসিরে ডাকি যে তোমারে, তুমি বিনে নাই কান্ডার” ইত্যাদি। বর্তমানে গ্রামে একটি ছোট্ট মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন এই গুণী শিল্পী। এই দোকানটিই এখন এলাকার তরুণ ও গানপাগল মানুষদের অন্যতম প্রধান মিলনমেলা ও সাংস্কৃতিক বাতিঘর। দিনে দোকানদারী আর রাতে সংস্কৃতি চর্চার মধ্যে দিয়েই চলছে তার জীবনযাত্রা। তাঁর সংগীত সাধনায় আকৃষ্ট হয়ে ইতিমধ্যে বাউল জাকির হোসেন, কানাই পাল, আজিজুল হক, সেলু মিয়া, মাসুক মিয়া, রনু পাল, সুমন পাল ও দীপক পালসহ অগনিত শিষ্য ও ভক্তরা সংগীত জগতে পদার্পন করেছেন। শুধু গান রচনা,স্বকন্ঠে পরিবেশন করাই নয় বরং বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্র নিজে বাজিয়ে তাতে সুরসৃষ্টি করার কৃতিত্বের অধিকারীও তিনি। শিষ্য ও সংগীত পিপাসুদের দাবী প্রাতিষ্ঠানিক প্রচারের অভাবে ডায়েরির পাতায় বন্দি তার অমূল্য সম্পদ মরমী গানগুলো যেন কালের বিবর্তনে হারিয়ে না যায়। দেশের লোক সংস্কৃতিপ্রিয় গবেষকরা এই সাধকের রচিত গানগুলো সংগ্রহ ও প্রচার প্রসারে এগিয়ে আসবেন এবং তার সংগীত কর্মগুলো বিশ্বদরবারে ছড়িয়ে দেবেন এমন প্রত্যাশা করেন এলাকাবাসী। সুনামগঞ্জের সাংস্কৃতিক সংগঠন বাউল কামাল পাশা সংস্কৃতি সংসদের সভাপতি বিএনপি নেতা সেলিম উদ্দিন আহমদ, সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক বাউল আল হেলাল,বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী বাউল দল সুনামগঞ্জ জেলা শাখার আহবায়ক গীতিকবি নজরুল ইসলাম ও সদস্য সচিব সাংবাদিক আফতাব উদ্দিন তাদের প্রিয় গীতিকার বাউল নিধু রঞ্জন দাসের সার্বিক সফলতা কামনা করেন।