ঢাকা ১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন Logo ‘মা ভালো’: ১৭ বছরের সেবাযত্ন অচেতন পুত্রবধূকে জাগিয়ে তুললেন চীনা নারী Logo বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস উত্তোলনে সুইডিশ কোম্পানিকে স্পিকারের আমন্ত্রণ Logo ১ নভেম্বর থেকে পর্যটকদের জন্য খুলছে সেন্ট মার্টিন Logo আমরা যুবসমাজের আকাঙ্ক্ষার বাংলাদেশ গড়তে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ: ডা. শফিকুর রহমান এমপি Logo অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী শেরে বাংলা একে ফজলুল হকের জন্মদিন আজ Logo সারা দেশে যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপিত প্রবারণা পূর্ণিমা Logo জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীকে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম Logo টেক্সটাইল শিক্ষার মানোন্নয়ন ও গবেষণায় গুরুত্ব আরোপ রাষ্ট্রপতির Logo বাংলাদেশে পলাতক অপরাধীকে কোন অপতৎপরতা চালানোর সুযোগ দেওয়া হবে না: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার ঘোষণা মিয়ানমারের

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিজ দেশের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফেরত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত দেওয়া হয়েছে।এবড়মৎধঢ়যরপ জবভবৎবহপব
গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকায় যাচাই-বাছাই শেষে ৩০৮,৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম সামরিক অভিযানের মুখে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মিলিয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ওই সেনা অভিযানকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় “জাতিগত নিধন” ও “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করে।
তবে মিয়ানমার ঐতিহ্যগতভাবেই রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে। তাদের “বাঙালি” হিসেবে উল্লেখ করে অবৈধ অভিবাসী বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ কর্তৃক সরবরাহ করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৭ সালের সংঘাতের সময় ১০ লাখ নয়, বরং ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে এসেছে এবং ২ লক্ষাধিক মানুষ উত্তর রাখাইনেই থেকে গিয়েছিল বলে দাবি মিয়ানমারের।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পাদন করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০২১ সালে মিয়ানমারের নির্বাচিত অং সান সু চি সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
সর্বশেষ ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র তীব্র যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে রাখাইনের সিংহভাগ এলাকা আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে, যার ফলে রাখাইন থেকে নতুন করে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশে ত্রাণ ও বৈদেশিক সাহায্যের ঘাটতি এবং শিবিরে মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ট্রলারে করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করলেও, মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং স্পষ্ট করেছেন যে কেবল মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা নিশ্চিত মিয়ানমার নাগরিকদের ফেরত নেওয়া হবে, সাধারণভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নয়।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বিক্ষোভে উত্তাল ইতালি, মিলানে সেনা মোতায়েন

তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গাকে ফেরত নেওয়ার ঘোষণা মিয়ানমারের

আপডেট সময় ০৯:৫৪:২২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৬

বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া তিন লক্ষাধিক রোহিঙ্গা শরণার্থীকে নিজ দেশের বাসিন্দা হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে ফেরত নেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক সরকার। তবে এই প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য রাখাইন রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতির উন্নতির শর্ত দেওয়া হয়েছে।এবড়মৎধঢ়যরপ জবভবৎবহপব
গতকাল শনিবার (১৫ আগস্ট) মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ থেকে পাঠানো তালিকায় যাচাই-বাছাই শেষে ৩০৮,৭৯৭ জন রোহিঙ্গাকে রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে।
২০১৭ সালের আগস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর নির্মম সামরিক অভিযানের মুখে ৭ লক্ষাধিক রোহিঙ্গা প্রাণ বাঁচাতে বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। এর আগে বিভিন্ন সময়ে আসা আরও কয়েক লাখ রোহিঙ্গা মিলিয়ে কক্সবাজারের শরণার্থী শিবিরগুলোতে বর্তমানে প্রায় ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বসবাস করছে। ওই সেনা অভিযানকে জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় “জাতিগত নিধন” ও “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করে।
তবে মিয়ানমার ঐতিহ্যগতভাবেই রোহিঙ্গাদের নিজস্ব ১৩৫টি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর একটি হিসেবে স্বীকৃতি দিতে অস্বীকার করে আসছে। তাদের “বাঙালি” হিসেবে উল্লেখ করে অবৈধ অভিবাসী বোঝানোর চেষ্টা করা হয়।
মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, বাংলাদেশ কর্তৃক সরবরাহ করা ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন রোহিঙ্গার তালিকার মধ্যে জুলাইয়ের শেষ পর্যন্ত ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ লাখ ৮ হাজার ৭৯৭ জন রাখাইনের সাবেক বাসিন্দা হিসেবে নিশ্চিত করা হয়েছে। ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০৭ জনের সঠিক পরিচয় পাওয়া যায়নি। ৪ হাজার ২৪১ জনের বিরুদ্ধে তথাকথিত সন্ত্রাসী কর্মকা-ে যুক্ত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে।
২০১৭ সালের সংঘাতের সময় ১০ লাখ নয়, বরং ৫ লাখ ৪০ হাজার মানুষ বাংলাদেশে এসেছে এবং ২ লক্ষাধিক মানুষ উত্তর রাখাইনেই থেকে গিয়েছিল বলে দাবি মিয়ানমারের।
২০১৮ সালে বাংলাদেশ ও মিয়ানমার দুই বছরের মধ্যে প্রত্যাবাসন সম্পাদন করার চুক্তিতে স্বাক্ষর করলেও বাস্তবে তা আলোর মুখ দেখেনি। ২০২১ সালে মিয়ানমারের নির্বাচিত অং সান সু চি সরকারকে হটিয়ে সেনাবাহিনী ক্ষমতা দখলের পর থেকে দেশটির সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটে।
সর্বশেষ ২০২৩ সাল থেকে রাখাইনের নিয়ন্ত্রণে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর সাথে বিদ্রোহী গোষ্ঠী ‘আরাকান আর্মি’র তীব্র যুদ্ধ শুরু হলে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে। বর্তমানে রাখাইনের সিংহভাগ এলাকা আরাকান আর্মির দখলে রয়েছে, যার ফলে রাখাইন থেকে নতুন করে বহু রোহিঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করছে।
বাংলাদেশে ত্রাণ ও বৈদেশিক সাহায্যের ঘাটতি এবং শিবিরে মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতির কারণে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জীবন ঝুঁকিতে ফেলে হাজার হাজার রোহিঙ্গা ট্রলারে করে মালয়েশিয়া ও ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছে। সম্প্রতি মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম মালয়েশিয়ায় থাকা ৫ হাজার রোহিঙ্গাকে ফেরত নিতে মিয়ানমার সম্মত হয়েছে বলে দাবি করলেও, মিয়ানমার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা হান উইন অং স্পষ্ট করেছেন যে কেবল মালয়েশিয়ার ডিটেনশন সেন্টারে আটকে থাকা নিশ্চিত মিয়ানমার নাগরিকদের ফেরত নেওয়া হবে, সাধারণভাবে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নয়।