ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগরে দেশের বিভিন্ন স্থানের মত প্লাস্টিক সামগ্রীর সহজ লভ্যতায় বাঁশ-বেত শিল্পের বাজার দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিক। প্রয়োজনীয় পুঁজি সঙ্কট, শ্রমিক মজুরিসহ উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদিত পণ্যের মূল্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া ও প্লাস্টিক সামগ্রীর মূল্যের সাথে বাঁশ-বেতের তৈরি পণ্যের মূল্যের তফাৎই আজ এ শিল্পের করুণ দশা। নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান মাওলানা আমির হোসেন সখ করে শিক্ষকতার পাশাপাশি দীর্ঘ দিন ধরে প্লাস্টিক দিয়ে ঝুড়ি, গরুর মুখোস, ডালা, চালুন, ডুলা, পাটি ইত্যাদি তৈরী করে বন্ধু-বান্ধব ও স্বজনদেরকে উপহার হিসেবে প্রধান করে আসছেন। তিনি জানান, আবহমান গ্রাম বাংলার এক সময়ের প্রচীন ঐতিহ্য ছিল বাঁশ শিল্প। এ বাঁশকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠে কুটির শিল্প। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে কৃষক সম্প্রদায়ের মানুষেরা এ পেশার সাথে জড়িত ছিল। এক সময় ভোর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এ শিল্পের কারিগররা রাস্তার ধারে বা বাড়ির আঙ্গিনায় বসে বাঁশ দিয়ে চাটাই, কুলা, ডালা, চাঙারি, ডালি, টোপা, মাছ ধরার পল, মোড়া, মুরগীর খাঁচাসহ বিভিন্ন জিনিসপত্র তৈরীর কাজ করত। পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও এই সব জিনিস তৈরীর কাজে সহযোগিতা করত। বাঁশের তৈরী এই সব জিনিসপত্র গ্রামে ফেরি করে বা হাটবাজারে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। আমন ধান কাটার মৌসুমে শুরুতেই এই শিল্পের কুলা, ডালা, চালুনসহ বিভিন্ন সামগ্রীর চাহিদা বেড়ে যেত। কারিগর রমিজ মিয়া জানান, এক সময় গ্রামগঞ্জের ঘরে ঘরে বাঁশের তৈরী এই সব সামগ্রীর খুবই কদর ছিল। এখন সেই স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরী রঙ বেরঙের নানা জিনিস। বর্তমানে বেশী দামের কারনে বাঁশের তৈরী জিনিসপত্র তেমন আর বিক্রি হয় না। ইউছুব আলী জানান, এ শিল্প কে আকড়ে ধরে ৩৫ টি বছর পাড় করেছি। বর্তমানে বাঁশের দাম বেড়ে যাওয়ায় আগের মতো এ কাজে তেমন লাভ হয় না। বয়স হয়েছে অন্য কাজ করতে পারি না, তাই এ কাজকেই আকঁড়ে ধরে আছি। আগে গ্রামে প্রচুর বাঁশের ঝাঁড় ছিল তাই দাম ও কম ছিল। বর্তমানে বাঁশ ঝাঁড় কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে অনেক। বর্তমানে হাটবাজার গুলোতে বাঁশ শিল্পের ধ্বংস নেমেছে, সে স্থান দখল করে নিয়েছে প্লাস্টিকের তৈরী পরিবেশ ধ্বংশকারী সস্তা দরের বিভিন্ন জিনিসপত্র। ফলে প্লাস্টিকের এ সব জিনিস পত্রের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে টিকতে না পড়ে মুখ থুবড়ে পড়েছে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য এই কুটির শিল্পটি। তারপরও অনেকেই নিরূপায় হয়ে খেয়ে না খেয়ে পূর্ব পুরুষের এ পেশা টিকে রাখতে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। আমির হোসেনের উপজেলার ফতেপুর গ্রামে মো. আব্দুল ওয়াহেদ মোল্লা। তিনি লাউর ফতেপুর তুজুমিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসায় নবম শ্রেনীতে পড়াশুনা করার সময় দাদা মরহুম আজিজুল ইসলামের কাছ থেকে এই কাজ শিখেন। উল্লেখ্য তিনি ১৯৯৫ সালে ১২ মার্চ নবীনগর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করে।
সংবাদ শিরোনাম
শখ করে প্লাস্টিক দিয়ে প্রয়োজনীয় সামগ্রী তৈরী করেন শিক্ষক আমির হোসেন
-
নবীনগর প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০৮:৪৮:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬
- 55
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
















