ঢাকা ০৫:১৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে বই পড়া উৎসবের মুকুল পর্বের মূল্যায়নী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে বই পড়ার আনন্দময় জগতে ফিরিয়ে আনতে এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ‘বই পড়া উৎসব’ প্রথম পর্ব ‘মুকুল’-এর মূল্যায়নী পরীক্ষা অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২১ জুলাই উপজেলায় বই পড়া উৎসব ২০২৬ উদ্বোধন করা হয়। গতকাল সকালে উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে আয়োজিত এই পরীক্ষায় প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ও উৎসব সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং আয়োজক সংশ্লিষ্টরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মূল্যায়নী পরীক্ষার বিভিন্ন হল কক্ষ পরিদর্শন করেন। এই আয়োজনে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব’ এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে ‘উত্তরণ পাঠাগার’। বই পড়া উৎসব এর সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ বলেন, বই পড়া উৎসবটি তিনটি ধাপে ‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’Ñবিভক্ত। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রথম পর্বের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পরিচালনা করেছেন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন ফোকাল পার্সন শিক্ষক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। উৎসবের পরবর্তী ধাপ এর মুকুল পর্বে ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হবে। ফুল পর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একটি নির্ধারিত নতুন বই পড়বে। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখান থেকে প্রতি শ্রেণির সেরা ৩ জন চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হবে। ফল পর্বে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ের এই পরীক্ষা উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন আরেকটি বই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেবে। চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ, বই ও সনদপত্রসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুরো আয়োজনে একজন শিক্ষার্থীকে অন্তত ৩টি পৃথক বই পড়তে হবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ পাঠকদের যুক্ত করতে এতে একটি ‘উন্মুক্ত বিভাগ’ রাখা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে জন্ম বা বসবাসরত যেকোনো বয়সের মানুষ উপজেলা প্রশাসন, আবৃত্তি উৎসব ও উত্তরণ পাঠাগারের ফেসবুক পেজের লিঙ্কের মাধ্যমে এতে নিবন্ধন করতে পারছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। উৎসবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি (পাস) ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। বইগুলোর মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের ‘আবিষ্কারের নেশায়’, এ. পি. জে. আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’, শাহেদ আলীর ‘জিবরাইলের ডানা’, জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’, হুমায়ুন আজাদের ‘লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী’, জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরু-ভাস্কর’ ও ‘মৃত্যুক্ষুধা’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’। উন্মুক্ত বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও উত্তরণ পাঠাগারের কর্ণধার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বই পড়া উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত পাঠ-আন্দোলনের আবহ। স্থানীয় লাইব্রেরিগুলোতে বই কেনা ও পড়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিচোখে পড়ার মতো ছিল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দেখা গেছে টিফিনের বিরতিতেও শিক্ষার্থীরা বই পড়েছে। কারও হাতে ছিল সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, কারও হাতে জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, আবার কেউ পড়েছে জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বইয়ের একটি গভীর সেতুবন্ধ তৈরি হবে, স্ক্রিননির্ভরতা কমবে এবং গড়ে উঠবে জ্ঞাননির্ভর, মননশীল ও আলোকিত প্রজন্ম। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বই পড়া উৎসবের প্রথম পর্ব ‘মুকুল’ এর মূল্যায়নী পরীক্ষা খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় পর্ব শেষে প্রতিটি শ্রেণি থেকে তিনজন করে চূড়ান্ত পর্বে যাবে। উপজেলা পর্যায়ে সম্মিলিত পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিভাগ-মোট আটটি ক্যাটাগরিতে র‌্যাংকিং করে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। প্রতিটি ক্যাটাগরির সেরা ১০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেরা পাঠকের জন্য থাকবে বিশেষ আকর্ষণীয় পুরস্কার। তিনি আরও বলেন, জ্ঞান হোক শক্তি, পাঠ হোক সংস্কৃতিÑএই বিশ্বাস থেকেই আমরা শ্রীমঙ্গলে বই পড়াকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চাই। বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, আমরা চাই তারা আবার বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। একটি-দুটি বই হয়তো কাউকে বদলে েেদবে না, কিন্তু নিয়মিত পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, পুরস্কার দেওয়ার চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করা, তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানো এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

শ্রীমঙ্গলে উৎসবমুখর পরিবেশে বই পড়া উৎসবের মুকুল পর্বের মূল্যায়নী পরীক্ষা অনুষ্ঠিত, ২৫ হাজার শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ

আপডেট সময় ০৯:০১:৫১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৭ অগাস্ট ২০২৬

শিক্ষার্থীদের মোবাইল ও বিভিন্ন ডিভাইসের স্ক্রিননির্ভরতা কমিয়ে বই পড়ার আনন্দময় জগতে ফিরিয়ে আনতে এবং পাঠাভ্যাস গড়ে তোলার লক্ষ্যে মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রশাসন এর আয়োজনে ‘বই পড়া উৎসব’ প্রথম পর্ব ‘মুকুল’-এর মূল্যায়নী পরীক্ষা অত্যন্ত উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। ‘বই পড়ি, মন গড়ি’ প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে ২১ জুলাই উপজেলায় বই পড়া উৎসব ২০২৬ উদ্বোধন করা হয়। গতকাল সকালে উপজেলার ৩৮টি মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে আয়োজিত এই পরীক্ষায় প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন। পরীক্ষা চলাকালীন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান ও উৎসব সমন্বয়ক দেবাশীষ দাশসহ সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং আয়োজক সংশ্লিষ্টরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে মূল্যায়নী পরীক্ষার বিভিন্ন হল কক্ষ পরিদর্শন করেন। এই আয়োজনে সমন্বয় সহযোগী হিসেবে কাজ করছে ‘শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসব’ এবং পাঠ সহযোগী হিসেবে রয়েছে ‘উত্তরণ পাঠাগার’। বই পড়া উৎসব এর সমন্বয়ক ও শ্রীমঙ্গল আবৃত্তি উৎসবের নির্বাহী পরিচালক দেবাশীষ দাশ বলেন, বই পড়া উৎসবটি তিনটি ধাপে ‘মুকুল’, ‘ফুল’ ও ‘ফল’Ñবিভক্ত। স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করতে প্রথম পর্বের মূল্যায়ন প্রক্রিয়ায় এক প্রতিষ্ঠানের পরীক্ষা অন্য প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা পরিচালনা করেছেন। প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের একজন ফোকাল পার্সন শিক্ষক সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন। উৎসবের পরবর্তী ধাপ এর মুকুল পর্বে ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতিটি শ্রেণি থেকে সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে দ্বিতীয় পর্বের জন্য নির্বাচিত করা হবে। ফুল পর্বে নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা একটি নির্ধারিত নতুন বই পড়বে। আগামী ৩০ ও ৩১ আগস্ট নিজ নিজ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এই পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এখান থেকে প্রতি শ্রেণির সেরা ৩ জন চূড়ান্ত পর্বে উত্তীর্ণ হবে। ফল পর্বে আগামী ১২ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত পর্যায়ের এই পরীক্ষা উপজেলা পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে। নতুন আরেকটি বই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেবে। চূড়ান্ত ফলাফলের ভিত্তিতে উপজেলার প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে ল্যাপটপ, বই ও সনদপত্রসহ আকর্ষণীয় পুরস্কার প্রদান করা হবে। পুরো আয়োজনে একজন শিক্ষার্থীকে অন্তত ৩টি পৃথক বই পড়তে হবে। শুধু শিক্ষার্থী নয়, সাধারণ পাঠকদের যুক্ত করতে এতে একটি ‘উন্মুক্ত বিভাগ’ রাখা হয়েছে। শ্রীমঙ্গলে জন্ম বা বসবাসরত যেকোনো বয়সের মানুষ উপজেলা প্রশাসন, আবৃত্তি উৎসব ও উত্তরণ পাঠাগারের ফেসবুক পেজের লিঙ্কের মাধ্যমে এতে নিবন্ধন করতে পারছেন। ইতোমধ্যে শতাধিক ব্যক্তি নিবন্ধন সম্পন্ন করেছেন। উৎসবে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে ডিগ্রি (পাস) ও অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের জন্য বাংলা ও বিশ্বসাহিত্যের ১৪টি বই নির্বাচন করা হয়েছে। বইগুলোর মধ্যে আবদুল্লাহ আল-মুতী শরফুদ্দিনের ‘আবিষ্কারের নেশায়’, এ. পি. জে. আবদুল কালামের ‘উইংস অব ফায়ার’, শাহেদ আলীর ‘জিবরাইলের ডানা’, জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’, হুমায়ুন আজাদের ‘লাল নীল দীপাবলি বা বাঙলা সাহিত্যের জীবনী’, জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, মুহম্মদ আব্দুল হাইয়ের ‘বিলেতে সাড়ে সাতশ দিন’, কাজী নজরুল ইসলামের ‘মরু-ভাস্কর’ ও ‘মৃত্যুক্ষুধা’, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘রাশিয়ার চিঠি’, সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, জহির রায়হানের ‘আরেক ফাল্গুন’, আনোয়ার পাশার ‘রাইফেল, রোটি, আওরাত’ এবং বিভূতিভূষণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের ‘আরণ্যক’। উন্মুক্ত বিভাগের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে কাজী নজরুল ইসলামের ‘রাজবন্দীর জবানবন্দী’। শ্রীমঙ্গল সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও উত্তরণ পাঠাগারের কর্ণধার মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, বই পড়া উৎসবকে কেন্দ্র করে শ্রীমঙ্গলে তৈরি হয়েছে প্রাণবন্ত পাঠ-আন্দোলনের আবহ। স্থানীয় লাইব্রেরিগুলোতে বই কেনা ও পড়ার জন্য শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের উপস্থিতিচোখে পড়ার মতো ছিল। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও দেখা গেছে টিফিনের বিরতিতেও শিক্ষার্থীরা বই পড়েছে। কারও হাতে ছিল সৈয়দ মুজতবা আলীর ‘দেশে বিদেশে’, কারও হাতে জর্জ অরওয়েলের ‘অ্যানিমেল ফার্ম’, আবার কেউ পড়েছে জুল ভার্নের ‘অ্যারাউন্ড দ্য ওয়ার্ল্ড ইন এইটি ডেজ’। এ আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে বইয়ের একটি গভীর সেতুবন্ধ তৈরি হবে, স্ক্রিননির্ভরতা কমবে এবং গড়ে উঠবে জ্ঞাননির্ভর, মননশীল ও আলোকিত প্রজন্ম। শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, বই পড়া উৎসবের প্রথম পর্ব ‘মুকুল’ এর মূল্যায়নী পরীক্ষা খুবই উৎসবমুখর পরিবেশে ৩৮টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে প্রায় ২৫ হাজার শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেছে। প্রতিটি শ্রেণির সেরা ১০ জন শিক্ষার্থীকে প্রাথমিকভাবে বাছাই করা হবে। দ্বিতীয় পর্ব শেষে প্রতিটি শ্রেণি থেকে তিনজন করে চূড়ান্ত পর্বে যাবে। উপজেলা পর্যায়ে সম্মিলিত পরীক্ষার মাধ্যমে চূড়ান্ত মেধাক্রম নির্ধারণ করা হবে। ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণি, স্নাতক, স্নাতকোত্তর ও উন্মুক্ত বিভাগ-মোট আটটি ক্যাটাগরিতে র‌্যাংকিং করে শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করা হবে। প্রতিটি ক্যাটাগরির সেরা ১০ জনকে পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি সেরা পাঠকের জন্য থাকবে বিশেষ আকর্ষণীয় পুরস্কার। তিনি আরও বলেন, জ্ঞান হোক শক্তি, পাঠ হোক সংস্কৃতিÑএই বিশ্বাস থেকেই আমরা শ্রীমঙ্গলে বই পড়াকে একটি সামাজিক সংস্কৃতিতে পরিণত করতে চাই। বর্তমান সময়ে তরুণদের একটি বড় অংশ স্ক্রিননির্ভর হয়ে পড়েছে উল্লেখ করে ইউএনও বলেন, আমরা চাই তারা আবার বইয়ের জগতে ফিরে আসুক। একটি-দুটি বই হয়তো কাউকে বদলে েেদবে না, কিন্তু নিয়মিত পড়ার অভ্যাস একজন মানুষকে সমৃদ্ধ করে। তিনি বলেন, পুরস্কার দেওয়ার চেয়েও বড় উদ্দেশ্য হলো শিক্ষার্থীদের বইয়ের সঙ্গে পরিচিত করা, তাদের মেধা ও মননের বিকাশ ঘটানো এবং আগামী দিনের বাংলাদেশ বিনির্মাণে যোগ্য নেতৃত্ব হিসেবে গড়ে তোলা। পাঠ্যবইয়ের বাইরেও সাহিত্য, ইতিহাস, বিজ্ঞান ও বিশ্বসাহিত্যের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেওয়া এবং নিয়মিত বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য।