ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

শ্রীমঙ্গলে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে মো. তাজ উদ্দিন তাজুকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, অগঠনতান্ত্রিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন দলটির এই নেতা। গতকাল দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. তাজ উদ্দিন তাজু বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম এম এ সাইফুর রহমানের হাত ধরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির দুইবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি উপজেলা আহবায়ক কমিটিতেস্বাক্ষরক্ষমতাসম্পন্ন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলের দুঃসময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩০টির অধিক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়। এসব রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় তাকে প্রায় ৭২০ দিন কারাবরণ করতে হয় এবং তার পরিবারও নির্যাতিত হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট আগমন উপলক্ষে স্বাগত মিছিলে পুলিশের হামলায় তার ডান পা ভেঙে যায়। পরবর্তীতে জেলহাজত থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে তাকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও কারাভোগ করতে হয়। দলের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় তাকে বাদ দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির কাছে সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই রেজুলেশন পাস করা হয়েছে এবং কাউকে কিছু বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। নুরুল আলম সিদ্দিকী আক্ষেপ করে জানান, এভাবে চলতে থাকলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং তিনি বিষয়টি মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে অবহিত করেছেন। তাজ উদ্দিন তাজু জানান, গত ১৬ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাকে কোনো ধরনের শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ গত ৮-৯ মাস ধরে তাকে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, যা তিনি মৌখিকভাবে ও চিঠির মাধ্যমে জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছিলেন। েেয ব্যক্তি দলের কার্যক্রমে নেই, তার পক্ষে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ কীভাবে সম্ভবÑএমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাংগঠনিক বিরোধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করেছেন। নির্বাচনের দুই-তিন সপ্তাহ পূর্বে দলীয় কিছু বিষয় ও ব্যক্তিগত আর্থিক দেনা-পাওনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলে তাকে বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়। বিষয়টি তিনি ২০ ও ২৪ জুলাই লিখিতভাবে দলীয় নেতৃত্বকে জানান। এছাড়া উপজেলা বিএনপির রেজুলেশনের পর ১৪ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বাক্ষরক্ষমতাসম্পন্ন যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে ইচ্ছেমতো ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন করে ‘পকেট কমিটি’ করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা বিরোধের প্রভাবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত পরিচালিত হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি ৫ দফা দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা।
একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয় এবং তাকে কেন সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি গঠন স্থগিত রাখা। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত হয়ে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ নিশ্চিত করা। অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় রাজপথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে চান। তিনি কেবল গঠনতান্ত্রিক নিয়মে দলের দীর্ঘদিনের কর্মীর ন্যায়বিচার ও সম্মান ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা সেলিম মাহমুদসহ বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে আনিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

শ্রীমঙ্গলে বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতির প্রতিবাদ ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

আপডেট সময় ০২:৪৪:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২১ অগাস্ট ২০২৬

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে মো. তাজ উদ্দিন তাজুকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘অন্যায়, অগঠনতান্ত্রিক ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে দাবি করেছেন দলটির এই নেতা। গতকাল দুপুরে শ্রীমঙ্গল শহরের স্টেশন রোডের গ্র্যান্ড তাজ রেস্টুরেন্টে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই প্রতিবাদ জানান। একই সঙ্গে অবিলম্বে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা এবং একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে মো. তাজ উদ্দিন তাজু বলেন, ২০০৬ সালে তৎকালীন অর্থমন্ত্রী ও বিএনপির প্রবীণ নেতা মরহুম এম এ সাইফুর রহমানের হাত ধরে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির দুইবারের সাবেক সাধারণ সম্পাদকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। সর্বশেষ তিনি উপজেলা আহবায়ক কমিটিতেস্বাক্ষরক্ষমতাসম্পন্ন যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছিলেন। দলের দুঃসময়ের আন্দোলন-সংগ্রামে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি জানান, ২০০৯ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত তার বিরুদ্ধে ৩০টির অধিক মিথ্যা ও গায়েবি মামলা দায়ের করা হয়। এসব রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলায় তাকে প্রায় ৭২০ দিন কারাবরণ করতে হয় এবং তার পরিবারও নির্যাতিত হয়। এছাড়া ২০১৮ সালের ৫ জানুয়ারি বিএনপির চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সিলেট আগমন উপলক্ষে স্বাগত মিছিলে পুলিশের হামলায় তার ডান পা ভেঙে যায়। পরবর্তীতে জেলহাজত থেকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে তাকে দীর্ঘ সময় চিকিৎসা ও কারাভোগ করতে হয়। দলের গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়া লঙ্ঘনের অভিযোগ এনে তিনি আরও বলেন, গত ১৩ আগস্ট সন্ধ্যা ৬টায় তাকে বাদ দিয়ে শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির একটি সভা অনুষ্ঠিত হয় এবং তাকে অব্যাহতি দেওয়ার জন্য জেলা বিএনপির কাছে সুপারিশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তাৎক্ষণিকভাবে উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক নুরুল আলম সিদ্দিকীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে এই রেজুলেশন পাস করা হয়েছে এবং কাউকে কিছু বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। নুরুল আলম সিদ্দিকী আক্ষেপ করে জানান, এভাবে চলতে থাকলে দল অস্তিত্ব সংকটে পড়বে এবং তিনি বিষয়টি মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও সদস্য সচিবকে অবহিত করেছেন। তাজ উদ্দিন তাজু জানান, গত ১৬ আগস্ট মৌলভীবাজার জেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. ফয়জুল করিম ময়ূন এবং সদস্য সচিব আব্দুর রহিম রিপন স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে তাকে কোনো ধরনের শোকজ বা কারণ দর্শানোর নোটিশ ছাড়াই অব্যাহতি দেওয়া হয়। অথচ গত ৮-৯ মাস ধরে তাকে দলীয় কার্যক্রম থেকে বিরত রাখা হয়েছিল, যা তিনি মৌখিকভাবে ও চিঠির মাধ্যমে জেলা বিএনপি ও কেন্দ্রীয় নেতাদের অবহিত করেছিলেন। েেয ব্যক্তি দলের কার্যক্রমে নেই, তার পক্ষে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ কীভাবে সম্ভবÑএমন প্রশ্ন তোলেন তিনি। সাংগঠনিক বিরোধের পেছনের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, গত সংসদ নির্বাচনের পূর্ব পর্যন্ত তিনি মৌলভীবাজার-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাজী মুজিবুর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রমে একসঙ্গে কাজ করেছেন। নির্বাচনের দুই-তিন সপ্তাহ পূর্বে দলীয় কিছু বিষয় ও ব্যক্তিগত আর্থিক দেনা-পাওনা নিয়ে মতবিরোধ তৈরি হলে তাকে বিভিন্ন কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়। বিষয়টি তিনি ২০ ও ২৪ জুলাই লিখিতভাবে দলীয় নেতৃত্বকে জানান। এছাড়া উপজেলা বিএনপির রেজুলেশনের পর ১৪ আগস্ট মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বরাবর আবেদন করেন। তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, স্বাক্ষরক্ষমতাসম্পন্ন যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দিয়ে ইচ্ছেমতো ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি অনুমোদন করে ‘পকেট কমিটি’ করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে। ব্যক্তিগত পছন্দ-অপছন্দ বা বিরোধের প্রভাবে সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত পরিচালিত হলে তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তি ও অসন্তোষ তৈরি হবে। সংবাদ সম্মেলন থেকে তিনি ৫ দফা দাবি পেশ করেন। এর মধ্যে রয়েছে, শ্রীমঙ্গল উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক পদ থেকে অব্যাহতির সিদ্ধান্ত অবিলম্বে পুনর্বিবেচনা করা।
একটি নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে পুরো বিষয় এবং তাকে কেন সাংগঠনিক কার্যক্রম থেকে দূরে রাখা হয়েছিল তা খতিয়ে দেখা। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নেওয়া সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত ও ওয়ার্ড-ইউনিয়ন কমিটি গঠন স্থগিত রাখা। ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে একক ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর প্রভাবমুক্ত হয়ে দলীয় গঠনতন্ত্র অনুসরণ নিশ্চিত করা। অব্যাহতির সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো ব্যক্তিগত বিরোধ বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা। সংবাদ সম্মেলনে দলীয় চেয়ারম্যান তারেক রহমান ও ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীসহ কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের প্রতি কৃতজ্ঞতা ও আস্থা প্রকাশ করে তিনি বলেন, দলের দুঃসময়ে তিনি সবসময় রাজপথে ছিলেন এবং ভবিষ্যতেও বিএনপির একজন নিবেদিতপ্রাণ কর্মী হিসেবে কাজ করে যেতে চান। তিনি কেবল গঠনতান্ত্রিক নিয়মে দলের দীর্ঘদিনের কর্মীর ন্যায়বিচার ও সম্মান ফিরে পাওয়ার প্রত্যাশা করেন। সংবাদ সম্মেলনে যুবদল নেতা সেলিম মাহমুদসহ বিএনপি ও অঙ্গ এবং সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। তবে সংবাদ সম্মেলনে আনিত বিভিন্ন অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মৌলভীবাজার জেলা ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়কের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও সাড়া পাওয়া যায়নি।