সীতাকুন্ডের সমুদ্র সৈকত যেন পাখিদের অভয়াশ্রমে পরিণত হচ্ছে। বর্ষায় উপকূলীয় খাল-বিলে এসেছে পযাপ্ত পানি এতে প্রতিনিয়ত বাড়ছে বর্ণিল প্রজাতির মায়াবী পাখিদের আগমণ। সৈকতের পূর্বাংশে বেড়িবাঁধের গাছপালা ও সংযোগ খালে পাখির কলতানে মুখর হয়ে উঠছে পরিবেশ। বেড়িবাঁধের ঝাউগাছ‘সহ বিভিন্ন গাছপালায় ঝাঁক বেঁধে সামদ্রিক পাখিরা এসে নিরাপদে অবস্থান নেয়। উপজেলায় প্রায় ২৪ কিঃ মিঃ এলাকা সমুদ্র সৈকত থাকায় পাখিগুলোর খাবারের নেই কোনো সংকট। দিনভর এরা পাশ্ববর্তী খাল-নালা, ডোবা, জলাশয় ও পুকুর-দীঘি‘সহ বিভিন্ন স্থান থেকে খাবার খেয়ে পড়ন্ত বিকালে উপকূলীয় গাছপালায় নিরাপদে আশ্রয় নিচ্ছে। কোলাহলমুক্ত পরিবেশ থাকায় এখানে কেউ তাদের বিরক্ত করছে না বরং দল বেঁধে চলার অপরূপ দৃশ্যে মহূর্তের জন্য থামিয়ে দেয় পথচারীদের ক্লান্তি। উপজেলার পশ্চিম সৈয়দপুর, গুলিয়াখালী, ভাটেরখীল, গুপ্তাখালী, আকিলপুর, বাঁশবাড়ীয়া ও অলিনগরে বেড়িবাঁধের পশ্চিমাংশে সৈকতের অভ্যন্তরে বিভিন্ন গাছপালায় পাখিগুলো নিরাপদ আশ্রয়ে দিন কাটিয়ে দিচ্ছে। এতে বেশ কয়েক হাজার সামুদ্রিক পাখি সমুদ্র সৈকত ও বেড়িবাঁধের গাছপালায় অনেকটা নিরাপদে অবস্থান করছে। ১নং সৈয়দপুর ইউনিয়ন জামায়াতের সেক্রেটারী মুহাম্মদ সাইফুদ্দীন বলেন, প্রতিদিন হাজার হাজার পাখির কলকাকলিতে মুখর হয়ে উঠেছে পশ্চিম সৈয়দপুরের মনোরম সমুদ্র সৈকত। স্থানীয়রা যেমন এসব পাখির কলকাকলি কিংবা দলবেঁধে উড়ার দৃশ্যে দারূণ মুগ্ধ, তেমনি পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় এদের সার্বিক নিরাপত্তা বেশ জরুরি বলে মনে করেন। প্রসঙ্গত উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় ৬টি মৌজার ৬৮ লক্ষ ১৪ হাজার ৯শত ৫৫ একর ভূমি উপকূলীয় বনায়নের জন্য সংরক্ষিত রেখেছে বন ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়। সরকারের বর্ণিল প্রকল্পের আওতায় অসংখ্য প্রজাতির গাছ-গাছালিতে ভরে ওঠা এ বনাঞ্চল যেন অতিথি পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়স্থল। পূর্ব সৈয়দপুর থেকে মো. আলা উদ্দিন আল-আজাদ বলেন, গত কয়েক বছরের তুলনায় সৈকতে এবার নানা প্রজাতির পাখির সংখ্যা বেড়েছে। পাখিদের ঝাঁক সকাল-সন্ধ্যা ডানা মেলে সেখানে খেলায় মেতে ওঠে। তাদের কিচির-মিচির ও উড়া-উড়িতে পুরো বেড়িবাঁধ ও সমুদ্র সৈকত যেন এক প্রকার পাখিদের নিরাপদ অভয়াশ্রমে রূপ নিয়েছে। সীতাকু- পৌরসদর ব্যবসায়ী দোকান মালিক সমিতির ক্রীড়া সম্পাদক মোহন পাল বলেন, প্রতিদিন বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা ভ্রমণপ্রেমীরা সৈকতে পাখিগুলোর এ দৃশ্য উপভোগ করতে সেখানে থমকে দাঁড়ান। অনেকে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিচ্ছেন। এর ফলে পাখি দেখতে সমুদ্র সৈকতে বাড়ছে দর্শনার্থীদের ভিড়। সমুদ্র তীরে পাখিদের নেই খাদ্যের কোন সংকট। আর সৈকতঘেঁষা এ অঞ্চলে পাখিদের রয়েছে খাদ্যের সহজলভ্যতা। পাশাপাশি এখানে কোনো শিকারি সক্রিয় না থাকায় পাখিরা নির্ভয়ে সৈকত ও বেড়িবাঁধের গাছপালাতে নিরাপদে আশ্রয় নিয়েছে। তবে পাখিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সবার সচেতনতার বিষয়টি জরুরি। উপজেলা বিএনপির আহবায়ক ডা. কমল কদর বলেন, পাখি প্রকৃতির ভারসাম্য রক্ষা করছে। প্রকৃতির অপরূপ এ সৌন্দর্য ধরে রাখতে পাখিদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ বজায় রাখা প্রয়োজন। এদের সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়া আমাদের দায়িত্ব। প্রকৃতি ও জীব-বৈচিত্র্যের অপরূপ সৌন্দর্য উপভোগ করতে সীতাকু-ের সমুদ্র সৈকত যেন হয়ে ওঠেছে পর্যটনস্পট। সীতাকু-ে প্রায় ২৪ কিঃ মিঃ এলাকা সমুদ্র সৈকত থাকায় পাখিগুলোর খাবারের কোনো সংকট হচ্ছে না। তাছাড়া এখানে কেউ অতিথি পাখি শিকার করছে এমন অভিযোগ নেই।
সংবাদ শিরোনাম
সীতাকুন্ডে কোলাহলমুক্ত সমুদ্র সৈকত হয়ে ওঠেছে পাখিদের অভয়াশ্রম
-
নাছির উদ্দিন (সীতাকুন্ড) চট্টগ্রাম - আপডেট সময় ০৮:০৭:১৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৬
- 53
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ













