ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান Logo দেশের পুনর্গঠনে তারেক রহমানের সহায়ক শক্তি হিসেবে কাজ করবে যুবদল: রুহুল কবির রিজভী Logo বাংলাদেশে স্বাস্থ্য খাতে সহযোগিতা বাড়াতে সাসাকাওয়া ফাউন্ডেশনকে ডা. জুবাইদার আহ্বান Logo ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, ১০ মাসে প্রাণ গেল ৪০০ জনের Logo জ্বালানি, প্রযুক্তি, অবকাঠামো ও বিনিয়োগ সহযোগিতা জোরদারে গুরুত্বারোপ Logo দেশে বিশ্বমানের চিকিৎসাসেবা ও রোগীবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতের আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo পাকিস্তান এবার অলআউট ১১০ রানে Logo বাজারে আসতে না আসতেই আইফোন ডুওর পর্দায় ফাটল Logo খিটখিটে মেজাজের সহকর্মীর সঙ্গে কাজ করতে করণীয় Logo ‘সিআইডি’র স্রষ্টা বিপি সিং মারা গেছেনব্রিজেন্দ্র পাল সিং

প্রায় আড়াই যুগ পর শাহজাদপুরে ফিরেছে পাটের সোনালি দিন ঃ ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষিরা

দীর্ঘদিন কাঙ্খিত দাম না থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষকেরা একপ্রকার পাট চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন। এমনকি জেলার এমন কিছু এলাকা ছিল, যেখানে টানা তিন দশক ধরে পাটের আবাদ একদম কম ছিলো, আবাদ একদম না থাকার মতো ছিল। তবে বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক ও স্থানীয় চাহিদা বেড়েছে। ফলে বাজারে আবার পাটের সুদিন ফিরে এসেছে, চাঙ্গা হয়েছে দামও। বর্তমানে নতুন পাট বাজারে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাটের আবাদ করা হয়েছে। প্রথমবারেই পাওয়া গেছে চোখধাঁধানো ও আশাতীত ফলন। পারকোলা এলাকার কৃষক শহিদুল হক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দাম না থাকায় আমরা ৩০ বছর ধরে পাটের আবাদ করিনি। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষ করেছি। যে ফলন হয়েছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি! প্রতিটি পাট গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট লম্বা হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ১৫ মণ করে উৎপাদন পেয়েছি। উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছরে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি দামও খুব ভালো পাবো। পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় মাঠে মাঠে চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর উৎসব: জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে পাট জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো পাট ও পাটকাঠি শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। গ্রামের মেঠোপথ ও খাল-বিলের ঘাটে সুতা আর পাটের শোলার সুবাস ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে আবহমান বাংলার সেই সোনালি অতীত। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে পাটবীজ সংগ্রহ ও আবাদে ঝোঁক বাড়ছে স্থানীয় চাষীদের। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলায় ৪১৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যাহা লক্ষ মাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে এলাকার কৃষকেরা ধান ও সরিষা চাষের পর জমিগুলো পতিত ফেলে রাখতেন। এবার আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করায় তারা পাট চাষ করেন এবং আশাতীত ফলন পান। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই উপজেলায় ব্যাপকহারে পাট চাষ হবে বলে আশা করছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এ বছরে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শে কৃষকেরা পাট চাষ করেছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় চাষের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ সফল করতে দেশবাসীর প্রতি ১১ দলীয় ঐক্যের আহবান

প্রায় আড়াই যুগ পর শাহজাদপুরে ফিরেছে পাটের সোনালি দিন ঃ ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষিরা

আপডেট সময় ০৮:১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন কাঙ্খিত দাম না থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষকেরা একপ্রকার পাট চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন। এমনকি জেলার এমন কিছু এলাকা ছিল, যেখানে টানা তিন দশক ধরে পাটের আবাদ একদম কম ছিলো, আবাদ একদম না থাকার মতো ছিল। তবে বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক ও স্থানীয় চাহিদা বেড়েছে। ফলে বাজারে আবার পাটের সুদিন ফিরে এসেছে, চাঙ্গা হয়েছে দামও। বর্তমানে নতুন পাট বাজারে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাটের আবাদ করা হয়েছে। প্রথমবারেই পাওয়া গেছে চোখধাঁধানো ও আশাতীত ফলন। পারকোলা এলাকার কৃষক শহিদুল হক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দাম না থাকায় আমরা ৩০ বছর ধরে পাটের আবাদ করিনি। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষ করেছি। যে ফলন হয়েছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি! প্রতিটি পাট গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট লম্বা হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ১৫ মণ করে উৎপাদন পেয়েছি। উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছরে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি দামও খুব ভালো পাবো। পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় মাঠে মাঠে চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর উৎসব: জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে পাট জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো পাট ও পাটকাঠি শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। গ্রামের মেঠোপথ ও খাল-বিলের ঘাটে সুতা আর পাটের শোলার সুবাস ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে আবহমান বাংলার সেই সোনালি অতীত। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে পাটবীজ সংগ্রহ ও আবাদে ঝোঁক বাড়ছে স্থানীয় চাষীদের। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলায় ৪১৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যাহা লক্ষ মাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে এলাকার কৃষকেরা ধান ও সরিষা চাষের পর জমিগুলো পতিত ফেলে রাখতেন। এবার আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করায় তারা পাট চাষ করেন এবং আশাতীত ফলন পান। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই উপজেলায় ব্যাপকহারে পাট চাষ হবে বলে আশা করছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এ বছরে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শে কৃষকেরা পাট চাষ করেছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় চাষের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।