ঢাকা ০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

প্রায় আড়াই যুগ পর শাহজাদপুরে ফিরেছে পাটের সোনালি দিন ঃ ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষিরা

দীর্ঘদিন কাঙ্খিত দাম না থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষকেরা একপ্রকার পাট চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন। এমনকি জেলার এমন কিছু এলাকা ছিল, যেখানে টানা তিন দশক ধরে পাটের আবাদ একদম কম ছিলো, আবাদ একদম না থাকার মতো ছিল। তবে বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক ও স্থানীয় চাহিদা বেড়েছে। ফলে বাজারে আবার পাটের সুদিন ফিরে এসেছে, চাঙ্গা হয়েছে দামও। বর্তমানে নতুন পাট বাজারে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাটের আবাদ করা হয়েছে। প্রথমবারেই পাওয়া গেছে চোখধাঁধানো ও আশাতীত ফলন। পারকোলা এলাকার কৃষক শহিদুল হক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দাম না থাকায় আমরা ৩০ বছর ধরে পাটের আবাদ করিনি। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষ করেছি। যে ফলন হয়েছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি! প্রতিটি পাট গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট লম্বা হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ১৫ মণ করে উৎপাদন পেয়েছি। উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছরে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি দামও খুব ভালো পাবো। পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় মাঠে মাঠে চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর উৎসব: জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে পাট জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো পাট ও পাটকাঠি শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। গ্রামের মেঠোপথ ও খাল-বিলের ঘাটে সুতা আর পাটের শোলার সুবাস ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে আবহমান বাংলার সেই সোনালি অতীত। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে পাটবীজ সংগ্রহ ও আবাদে ঝোঁক বাড়ছে স্থানীয় চাষীদের। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলায় ৪১৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যাহা লক্ষ মাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে এলাকার কৃষকেরা ধান ও সরিষা চাষের পর জমিগুলো পতিত ফেলে রাখতেন। এবার আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করায় তারা পাট চাষ করেন এবং আশাতীত ফলন পান। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই উপজেলায় ব্যাপকহারে পাট চাষ হবে বলে আশা করছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এ বছরে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শে কৃষকেরা পাট চাষ করেছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় চাষের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

প্রায় আড়াই যুগ পর শাহজাদপুরে ফিরেছে পাটের সোনালি দিন ঃ ব্যস্ত সময় পার করছে পাট চাষিরা

আপডেট সময় ০৮:১২:৫৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৩ অগাস্ট ২০২৬

দীর্ঘদিন কাঙ্খিত দাম না থাকায় সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে কৃষকেরা একপ্রকার পাট চাষের আগ্রহই হারিয়ে ফেলেছিলেন। এমনকি জেলার এমন কিছু এলাকা ছিল, যেখানে টানা তিন দশক ধরে পাটের আবাদ একদম কম ছিলো, আবাদ একদম না থাকার মতো ছিল। তবে বহুমুখী ব্যবহারের কারণে বর্তমানে পাটজাত পণ্যের বৈশ্বিক ও স্থানীয় চাহিদা বেড়েছে। ফলে বাজারে আবার পাটের সুদিন ফিরে এসেছে, চাঙ্গা হয়েছে দামও। বর্তমানে নতুন পাট বাজারে প্রতি মণ ৪ হাজার ২০০ থেকে ৪ হাজার ৫০০ টাকায় কেনাবেচা হচ্ছে। দীর্ঘ ৩০ বছর পর এ বছর সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার পারকোলা গ্রামে স্থানীয় কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে পাটের আবাদ করা হয়েছে। প্রথমবারেই পাওয়া গেছে চোখধাঁধানো ও আশাতীত ফলন। পারকোলা এলাকার কৃষক শহিদুল হক উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, দাম না থাকায় আমরা ৩০ বছর ধরে পাটের আবাদ করিনি। এ বছর কৃষি অফিসের পরামর্শে চাষ করেছি। যে ফলন হয়েছে, তা আমরা কল্পনাও করতে পারিনি! প্রতিটি পাট গাছ ১২ থেকে ১৪ ফুট লম্বা হয়েছে এবং বিঘা প্রতি ১৫ মণ করে উৎপাদন পেয়েছি। উপজেলার গাড়াদহ গ্রামের আদর্শ কৃষক আব্দুল লতিফ জানান, এ বছরে সাড়ে তিন বিঘা জমিতে পাট চাষ করেছি। আলহামদুলিল্লাহ ফলন খুব ভালো হয়েছে। আশা করছি দামও খুব ভালো পাবো। পাটকাঠি জ্বালানি হিসেবে বিঘাপ্রতি ৬ থেকে ৭ হাজার টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে। সরেজমিন ঘুরে দেখা যায় মাঠে মাঠে চলছে পাট জাগ দেওয়া ও আঁশ ছাড়ানোর উৎসব: জেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন পুরোদমে চলছে পাট কাটা, খাল-বিল ও বন্যার পানিতে পাট জাগ দেওয়া, পাটের আঁশ ছাড়ানো পাট ও পাটকাঠি শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকেরা। গ্রামের মেঠোপথ ও খাল-বিলের ঘাটে সুতা আর পাটের শোলার সুবাস ফের মনে করিয়ে দিচ্ছে আবহমান বাংলার সেই সোনালি অতীত। খরচের তুলনায় লাভ বেশি হওয়ায় এবং ভালো দাম পাওয়ায় নতুন করে পাটবীজ সংগ্রহ ও আবাদে ঝোঁক বাড়ছে স্থানীয় চাষীদের। শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, উপজেলায় ৪১৮ হেক্টর জমিতে পাট চাষ হয়েছে। যাহা লক্ষ মাত্রার চেয়েও বেশি আবাদ হয়েছে এলাকার কৃষকেরা ধান ও সরিষা চাষের পর জমিগুলো পতিত ফেলে রাখতেন। এবার আমরা তাদের উদ্বুদ্ধ করায় তারা পাট চাষ করেন এবং আশাতীত ফলন পান। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকেরা লাভবান হচ্ছেন। আগামীতে এই উপজেলায় ব্যাপকহারে পাট চাষ হবে বলে আশা করছি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক এ কে এম মঞ্জুরে মাওলা বলেন, এ বছরে জেলায় প্রায় ১৫ হাজার হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। কৃষি বিভাগের মাঠপর্যায়ের পরামর্শে কৃষকেরা পাট চাষ করেছেন। খরচ কম ও লাভ বেশি হওয়ায় চাষের পরিধি দিন দিন বাড়ছে। চলতি মৌসুমে বাম্পার ফলন ও বাজারদর ভালো থাকায় কৃষকেরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।