ঢাকা ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

জ্বালানি সংকটে পদ্মা সেতুতে যান চলাচলে ধস, রাজস্ব আদায়ে বড় পতন

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পদ্মা সেতুতে। ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেতুটির টোল আদায়েও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের পতন। ফলে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যান চলাচল ও রাজস্ব আদায়—উভয় ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে বড় ধস। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার ২৪৯টি যানবাহন সেতু পারাপার করত, সেখানে চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে (১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল) সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩০৩টিতে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে টোল আদায়ের ওপর। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩২ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও এপ্রিলের প্রথমার্ধে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ টাকায়। শতাংশের হিসাবে রাজস্ব কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ, যা সেতুর আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকটই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিতরের পরবর্তী সময়ে যখন স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল বাড়ার কথা, তখন উল্টো ব্যক্তিগত কার ও জিপের সংখ্যা কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। অনেক গাড়িচালক প্রয়োজন ছাড়া সড়কে নামছেন না, ফলে সেতু ব্যবহারও কমে গেছে। সংকটের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন পরিদর্শনে। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মেসার্স হাসান মাহমুদ নায়েব ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যায় তেল নিতে আসা মানুষের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রেজাউল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় চলে যায় শুধু তেলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে। অনেক সময় সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে সামনে গিয়ে জানতে হয়—পাম্পে তেল শেষ। এতে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই লাইনে থাকা এনজিও কর্মী জায়েদ বলেন, কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু তেল সংগ্রহ করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। তাও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায় না কখনো ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি দেওয়া হয় না। ফলে দুই-তিন দিন পরপর আবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এতে কাজের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ও রাজস্ব আদায়ে যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলের এই হঠাৎ পতন সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আবারও আগের মতো যান চলাচল বাড়বে এবং রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

জ্বালানি সংকটে পদ্মা সেতুতে যান চলাচলে ধস, রাজস্ব আদায়ে বড় পতন

আপডেট সময় ০৪:১৭:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে চলমান জ্বালানি তেল সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত পদ্মা সেতুতে। ব্যক্তিগত যানবাহনের চলাচল আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ায় সেতুটির টোল আদায়েও দেখা দিয়েছে বড় ধরনের পতন। ফলে প্রতিদিনই উল্লেখযোগ্য অঙ্কের রাজস্ব হারাচ্ছে রাষ্ট্র। পদ্মা সেতু কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ প্রতিবেদন বিশ্লেষণে দেখা গেছে, মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে যান চলাচল ও রাজস্ব আদায়—উভয় ক্ষেত্রেই নেমে এসেছে বড় ধস। ২০২৬ সালের মার্চ মাসে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ২৩ হাজার ২৪৯টি যানবাহন সেতু পারাপার করত, সেখানে চলতি এপ্রিলের প্রথম ১৫ দিনে (১ এপ্রিল থেকে ১৫ এপ্রিল) সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ১৬ হাজার ৩০৩টিতে। অর্থাৎ খুব অল্প সময়ের মধ্যেই যান চলাচল কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। এই পতনের সরাসরি প্রভাব পড়েছে টোল আদায়ের ওপর। মার্চ মাসে প্রতিদিন গড়ে ২ কোটি ৮৩ লাখ ৮০ হাজার ৮৩২ টাকা রাজস্ব আদায় হলেও এপ্রিলের প্রথমার্ধে তা কমে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ২৬ লাখ ৫ হাজার ৪৩১ টাকায়। শতাংশের হিসাবে রাজস্ব কমেছে প্রায় ২০ শতাংশ, যা সেতুর আর্থিক লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে নতুন করে শঙ্কা তৈরি করেছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জ্বালানি তেলের সংকটই এই পরিস্থিতির মূল কারণ। বিশেষ করে ঈদ-উল-ফিতরের পরবর্তী সময়ে যখন স্বাভাবিকভাবে যান চলাচল বাড়ার কথা, তখন উল্টো ব্যক্তিগত কার ও জিপের সংখ্যা কমে যাওয়া পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে। অনেক গাড়িচালক প্রয়োজন ছাড়া সড়কে নামছেন না, ফলে সেতু ব্যবহারও কমে গেছে। সংকটের বাস্তব চিত্র উঠে এসেছে সরেজমিন পরিদর্শনে। শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার মেসার্স হাসান মাহমুদ নায়েব ফিলিং স্টেশনের সামনে দেখা যায় তেল নিতে আসা মানুষের প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ লাইন। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকে কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ তেল পাচ্ছেন না। লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা রেজাউল নামের এক ভুক্তভোগী জানান, প্রতিদিন ৪ থেকে ৫ ঘণ্টা সময় চলে যায় শুধু তেলের জন্য অপেক্ষা করতে গিয়ে। অনেক সময় সিরিয়ালে দাঁড়িয়ে সামনে গিয়ে জানতে হয়—পাম্পে তেল শেষ। এতে জরুরি প্রয়োজনে ঢাকাসহ বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। একই লাইনে থাকা এনজিও কর্মী জায়েদ বলেন, কাজের প্রয়োজনে প্রতিদিন বিভিন্ন এলাকায় যেতে হয়। কিন্তু তেল সংগ্রহ করতেই দিনের অর্ধেক সময় চলে যাচ্ছে। তাও পর্যাপ্ত তেল পাওয়া যায় না কখনো ২০০ থেকে ৫০০ টাকার বেশি দেওয়া হয় না। ফলে দুই-তিন দিন পরপর আবার লাইনে দাঁড়াতে হচ্ছে, এতে কাজের বড় ধরনের ক্ষতি হচ্ছে। উল্লেখ্য, চলতি বছরের ডিসেম্বর ও মার্চ মাসে পদ্মা সেতুতে যান চলাচল ও রাজস্ব আদায়ে যথাক্রমে ১৩ ও ১৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি দেখা গিয়েছিল। কিন্তু এপ্রিলের এই হঠাৎ পতন সংশ্লিষ্টদের জন্য নতুন করে উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে সেতু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা আশা করছেন, জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পরিস্থিতিরও উন্নতি হবে। নিয়মিত তেল সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে আবারও আগের মতো যান চলাচল বাড়বে এবং রাজস্ব আদায় স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্টদের।