ঢাকা ০২:০৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

শ্রীপুরে বাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, হামলায় আহত ১

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীর চালা এলাকায় একটি বসতবাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক অবৈধ রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাড়ির মালিক মৃত সাত্তার খানের বড় মেয়ে নূরুন্নাহার। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুরে মৃত আব্দুল হাই খানের ছেলে মামুন খান ও হাবিবুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ মরহুম সাত্তার খানের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাড়ির গাছপালা কেটে ফেলে, সাবমার্সিবল পানির পাম্প ভাঙচুর করে এবং বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বাড়ির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে নূরুন্নাহারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার বুক ও পেটে ইট ও বালুভর্তি টুকরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত নূরুন্নাহারকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মাওনার আল হেরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার পায়ে গুরুতর ফোলা দেখা গেছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সাংবাদিকদের কাছে নূরুন্নাহার বলেন, এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা বোনেরা মিলে এখানে বাড়ি করেছি। অভিযুক্তরা পৌরসভার নাম ভাঙিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা করতে চাইছে। আমি বাধা দেওয়ায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হলেও সেখানে অভিযুক্তদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হট্টগোলের কারণে বৈঠকটি স্থগিত হয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। যা স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছেন। সালিশি ভেস্তে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লুৎফুন্নাহার লতা তাদের জমিতে গেলে অভিযুক্ত মামুন খান মারমুখী আচরণ করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরায় তার সেই আচরণ ধারণ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্তদের যাতায়াতের জন্য আগে থেকেই দুটি রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক নতুন রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর শ্রীপুর পৌর প্রশাসকের কাছে প্রথম অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে হামলার পর ১২ এপ্রিল শ্রীপুর মডেল থানায় এবং ১৬ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উক্ত স্থানে কোনো নতুন রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পৌরসভার নাম ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

শ্রীপুরে বাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা, হামলায় আহত ১

আপডেট সময় ০৪:২১:৫৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

গাজীপুরের শ্রীপুর পৌরসভার বৈরাগীর চালা এলাকায় একটি বসতবাড়ির ওপর দিয়ে জোরপূর্বক অবৈধ রাস্তা নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় কয়েকজনের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বাধা দিতে গেলে হামলায় গুরুতর আহত হয়েছেন বাড়ির মালিক মৃত সাত্তার খানের বড় মেয়ে নূরুন্নাহার। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, গত ১২ এপ্রিল দুপুরে মৃত আব্দুল হাই খানের ছেলে মামুন খান ও হাবিবুল্লাহ খানের নেতৃত্বে ১০-১২ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল দেশীয় অস্ত্রসহ মরহুম সাত্তার খানের বাড়িতে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা বাড়ির গাছপালা কেটে ফেলে, সাবমার্সিবল পানির পাম্প ভাঙচুর করে এবং বাড়ির সেপটিক ট্যাংকের ওপর দিয়ে জোরপূর্বক রাস্তা নির্মাণের কাজ শুরু করে। খবর পেয়ে বাড়ির সদস্যরা বাধা দিতে গেলে হামলাকারীরা তাদের সঙ্গে অশালীন আচরণ ও গালিগালাজ করে। একপর্যায়ে নূরুন্নাহারকে এলোপাতাড়ি মারধর করে মাটিতে ফেলে দেওয়া হয় এবং তার বুক ও পেটে ইট ও বালুভর্তি টুকরি দিয়ে আঘাত করা হয়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। আহত নূরুন্নাহারকে প্রথমে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে মাওনার আল হেরা হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। তার পায়ে গুরুতর ফোলা দেখা গেছে এবং উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন চিকিৎসকরা। সাংবাদিকদের কাছে নূরুন্নাহার বলেন, এটি আমাদের পৈতৃক সম্পত্তি। আমরা বোনেরা মিলে এখানে বাড়ি করেছি। অভিযুক্তরা পৌরসভার নাম ভাঙিয়ে সম্পূর্ণ অবৈধভাবে আমাদের জমির ওপর দিয়ে রাস্তা করতে চাইছে। আমি বাধা দেওয়ায় আমার ওপর হামলা চালানো হয়েছে। গত শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিষয়টি মীমাংসার জন্য স্থানীয়ভাবে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হলেও সেখানে অভিযুক্তদের ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ ও হট্টগোলের কারণে বৈঠকটি স্থগিত হয়ে যায়। এ সময় ঘটনাস্থলে তথ্য সংগ্রহ করতে যাওয়া সাংবাদিকদের সঙ্গেও অসৌজন্যমূলক আচরণ করতে দেখা যায়। যা স্থানীয় সাংবাদিকরা তীব্রভাবে নিন্দা জানিয়েছেন। সালিশি ভেস্তে যাওয়ার পর ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য লুৎফুন্নাহার লতা তাদের জমিতে গেলে অভিযুক্ত মামুন খান মারমুখী আচরণ করেন। উপস্থিত সাংবাদিকদের ক্যামেরায় তার সেই আচরণ ধারণ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা জানান, অভিযুক্তদের যাতায়াতের জন্য আগে থেকেই দুটি রাস্তা রয়েছে। তা সত্ত্বেও তারা জোরপূর্বক নতুন রাস্তা নির্মাণের চেষ্টা করছেন। এ ঘটনায় গত ১১ নভেম্বর শ্রীপুর পৌর প্রশাসকের কাছে প্রথম অভিযোগ করা হয়। পরবর্তীতে হামলার পর ১২ এপ্রিল শ্রীপুর মডেল থানায় এবং ১৬ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। শ্রীপুর পৌরসভা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, উক্ত স্থানে কোনো নতুন রাস্তা নির্মাণের অনুমতি দেওয়া হয়নি। পৌরসভার নাম ব্যবহার করে কেউ এ ধরনের কাজ করলে তা সম্পূর্ণ অবৈধ। ভুক্তভোগী পরিবার প্রশাসনের কাছে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছে।