ঢাকা ১০:৪৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট?

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বরিশাল-ভোলা সংযোগ সড়ক ও সেতু নির্মাণের দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি পক্ষ এটিকে অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি বলছে। আরেক পক্ষ বলছে, আগে মৌলিক চাহিদা পূরণ হোক। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, মীরগঞ্জ ও উলানিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের মতে, আধুনিক সংযোগ ব্যবস্থা হলে এই বৈষম্য ঘুচবে। সংযোগ সড়ক হলে যা হতে পারে: সংযোগ সড়কের সমর্থকরা বলছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ১ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন: উন্নত সড়ক যোগাযোগ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। রাস্তার দুপাশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। ফলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে। সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি: যোগাযোগ সহজ হলে এলাকার জমির দাম বর্তমানের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়বে। এতে স্থানীয়দের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। আঞ্চলিক সমতা: দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা থেকে বেরিয়ে এই অঞ্চল জাতীয় মূল স্রোতধারায় যুক্ত হবে। ভোলার মানুষের পাল্টা প্রশ্ন: অন্যদিকে প্রায় ৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের ভোলা জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একটি অংশ ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, ভোলার মানুষ আগে থেকেই নৌপথে ঢাকা কেন্দ্রিক। ব্যবহার নিয়ে সংশয়: সেতু হলে শুধু টিকটক বা বিনোদনই হবে, নিচে নৌকা চলবে – বড় কোনো কাজ হবে না বলে তারা মনে করছেন। প্রয়োজনের অগ্রাধিকার: তাদের দাবি, ভোলার সবচেয়ে বড় সমস্যা উন্নত চিকিৎসা। সেতুর আগে ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল বেশি জরুরি। বাস্তবতা ও ব্যয়: বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি সহায়তা লাগবে। তাই ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি তাদের। বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, যে কোনো মেগা প্রকল্পের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ব্যয়-উপকারিতা বিশ্লেষণ করা জরুরি। একইসঙ্গে জনগণের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোন প্রকল্প আগে বাস্তবায়ন হবে তা ঠিক করতে জনমত ও বিশেষজ্ঞ মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলছে, সব পক্ষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।
শেষ কথা: আপাতত “সেতু আগে নাকি হাসপাতাল আগে”-এই প্রশ্নেই আটকে আছে দক্ষিণাঞ্চল। উন্নয়ন চায় সবাই। কিন্তু ‘ সীমিত সম্পদে কার আগে, কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে-সেই উত্তরটাই এখন সময়ের দাবি।
লেখক: ইকবাল হোসেন জুই
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বরিশাল-ভোলা সংযোগ: উন্নয়নের প্রত্যাশা নাকি অগ্রাধিকারের সংকট?

আপডেট সময় ০৯:১৭:৪০ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬

দক্ষিণাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনতে বরিশাল-ভোলা সংযোগ সড়ক ও সেতু নির্মাণের দাবি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। একটি পক্ষ এটিকে অঞ্চলের অর্থনৈতিক মুক্তির চাবিকাঠি বলছে। আরেক পক্ষ বলছে, আগে মৌলিক চাহিদা পূরণ হোক। স্বাধীনতার ৫৬ বছর পরও মেহেন্দিগঞ্জ, হিজলা, বাবুগঞ্জ, মীরগঞ্জ ও উলানিয়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকা কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন থেকে পিছিয়ে আছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। তাদের মতে, আধুনিক সংযোগ ব্যবস্থা হলে এই বৈষম্য ঘুচবে। সংযোগ সড়ক হলে যা হতে পারে: সংযোগ সড়কের সমর্থকরা বলছেন, প্রস্তাবিত প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে প্রায় ১৪ হাজার বর্গকিলোমিটার এলাকার প্রায় ১ কোটি মানুষ উপকৃত হবে। বিনিয়োগ ও শিল্পায়ন: উন্নত সড়ক যোগাযোগ হলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে। রাস্তার দুপাশে শিল্পকারখানা গড়ে উঠবে। ফলে কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত খুলবে। সম্পদের মূল্য বৃদ্ধি: যোগাযোগ সহজ হলে এলাকার জমির দাম বর্তমানের তুলনায় কয়েকগুণ বাড়বে। এতে স্থানীয়দের আর্থিক অবস্থার উন্নতি হবে। আঞ্চলিক সমতা: দীর্ঘদিনের উন্নয়ন বঞ্চনা থেকে বেরিয়ে এই অঞ্চল জাতীয় মূল স্রোতধারায় যুক্ত হবে। ভোলার মানুষের পাল্টা প্রশ্ন: অন্যদিকে প্রায় ৩ হাজার বর্গকিলোমিটারের ভোলা জেলার প্রায় ২০ লাখ মানুষের একটি অংশ ভিন্ন কথা বলছেন। তাদের বক্তব্য, ভোলার মানুষ আগে থেকেই নৌপথে ঢাকা কেন্দ্রিক। ব্যবহার নিয়ে সংশয়: সেতু হলে শুধু টিকটক বা বিনোদনই হবে, নিচে নৌকা চলবে – বড় কোনো কাজ হবে না বলে তারা মনে করছেন। প্রয়োজনের অগ্রাধিকার: তাদের দাবি, ভোলার সবচেয়ে বড় সমস্যা উন্নত চিকিৎসা। সেতুর আগে ভোলায় একটি পূর্ণাঙ্গ মেডিকেল কলেজ ও আধুনিক হাসপাতাল বেশি জরুরি। বাস্তবতা ও ব্যয়: বর্তমান প্রেক্ষাপটে বড় মেগা প্রকল্প বাস্তবায়নে বিদেশি সহায়তা লাগবে। তাই ব্যয়ের যৌক্তিকতা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়ার দাবি তাদের। বিশেষজ্ঞ ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গি: নগর পরিকল্পনাবিদরা বলছেন, যে কোনো মেগা প্রকল্পের আগে সম্ভাব্যতা যাচাই ও ব্যয়-উপকারিতা বিশ্লেষণ করা জরুরি। একইসঙ্গে জনগণের প্রকৃত চাহিদাকেও গুরুত্ব দিতে হবে। রাজনৈতিক অঙ্গনের পক্ষ থেকেও বলা হচ্ছে, দল-মত-ধর্ম নির্বিশেষে সবার সমান উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। কোন প্রকল্প আগে বাস্তবায়ন হবে তা ঠিক করতে জনমত ও বিশেষজ্ঞ মতামতকে প্রাধান্য দেওয়া উচিত। সরকারের পক্ষ থেকে এখনও এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা আসেনি। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বলছে, সব পক্ষের মতামত নিয়েই সিদ্ধান্ত হবে।
শেষ কথা: আপাতত “সেতু আগে নাকি হাসপাতাল আগে”-এই প্রশ্নেই আটকে আছে দক্ষিণাঞ্চল। উন্নয়ন চায় সবাই। কিন্তু ‘ সীমিত সম্পদে কার আগে, কাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে-সেই উত্তরটাই এখন সময়ের দাবি।
লেখক: ইকবাল হোসেন জুই
সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক
ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদল।