ঢাকা ০৪:২৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

লালমোহনে মাদ্রাসায় জাল-জালিয়াতি করে প্রভাষক নিয়োগের অভিযোগ

ভোলার লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় জাল স্বাক্ষর, ভুয়া রেজুলেশন ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ২ জন প্রভাষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা হলেন সাদেক মিয়া ও সরওয়ার আলম। গত ৩০/০৭/২০২৬ তারিখে তারা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথক ২টি অভিযোগ দাখিল করেন। যার ডকেট নম্বর ৭৪৯৩ ও ৭৪৯৪। অভিযোগে বলা হয়, লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে কামিল স্তরের হাদিস বিভাগে প্রভাষক পদে সেলিম রেজা (ইনডেক্স নং-গ০০৬২৬৫২) ও নুর মোহাম্মদকে (ইনডেক্স নং-গ০০৬২৬৫১) নিয়োগ দিয়েছেন। তারা ০১/০১/২০০৪ ও ০১/১/২০০৭ সালে যোগদান করেন বলে কাগজপত্রে উল্লেখ থাকলেও প্রায় দুই যুগেও তাদের প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগে বলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করলেও সেলিম রেজা ও নুর মোহাম্মদ নামে কাউকে দেখেননি। নিয়োগ সংক্রান্ত সভার রেজুলেশনে তাদের নাম নেই। হাজিরা খাতা, ক্লাস রুটিন ও ব্যানবেইস জরিপেও ২০২৪-২০২৫ সালের আগে তাদের নাম ছিল না। তদন্তকালে মাদ্রাসার ২৯ জন প্রভাষক লিখিতভাবে জানিয়েছেন, উল্লেখিত ২ জন কখনো মাদ্রাসায় আসেননি এবং ক্লাসও নেননি। মিটিং, পরীক্ষা বা অন্য কোনো কার্যক্রমেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও ২০২১ সালে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে জাকির হোসেন নামে এক ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ০৩/০৮/২০২১ তারিখে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সময়ে হাদিস বিভাগে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আমার ও সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে এ কাজ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেব। বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেন বলেন, এই নিয়োগ আমার দায়িত্বকালীন সময়ে হয়নি। আমি কিছুই জানি না। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মাথা পেতে নেব। তবে আমাকে হেয় করতে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অভিযুক্ত প্রভাষক সেলিম রেজা মুঠোফোনে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে নুর মোহাম্মদ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিরাজ পন্ডিতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশে লালমোহন সরকারি শাহবাজপুর কলেজের প্রভাষক মো. মুসাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মুসা বলেন, নিয়োগ ও যোগদানের মূল কাগজ দেখাতে পারেননি তারা। ফটোকপি দেখিয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। তারা কখনো প্রতিষ্ঠানে আসেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অবৈধ নিয়োগের সাথে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

লালমোহনে মাদ্রাসায় জাল-জালিয়াতি করে প্রভাষক নিয়োগের অভিযোগ

আপডেট সময় ০৩:২১:২৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ভোলার লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসায় জাল স্বাক্ষর, ভুয়া রেজুলেশন ও মোটা অংকের অর্থের বিনিময়ে ২ জন প্রভাষক নিয়োগের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেনের বিরুদ্ধে মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে। অভিযোগকারীরা হলেন সাদেক মিয়া ও সরওয়ার আলম। গত ৩০/০৭/২০২৬ তারিখে তারা মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরে পৃথক ২টি অভিযোগ দাখিল করেন। যার ডকেট নম্বর ৭৪৯৩ ও ৭৪৯৪। অভিযোগে বলা হয়, লালমোহন ইসলামিয়া কামিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেন প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ ও সাবেক ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে ভুয়া রেজুলেশন তৈরি করে কামিল স্তরের হাদিস বিভাগে প্রভাষক পদে সেলিম রেজা (ইনডেক্স নং-গ০০৬২৬৫২) ও নুর মোহাম্মদকে (ইনডেক্স নং-গ০০৬২৬৫১) নিয়োগ দিয়েছেন। তারা ০১/০১/২০০৪ ও ০১/১/২০০৭ সালে যোগদান করেন বলে কাগজপত্রে উল্লেখ থাকলেও প্রায় দুই যুগেও তাদের প্রতিষ্ঠানে দেখা যায়নি বলে অভিযোগে বলা হয়। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন শিক্ষক জানান, এ প্রতিষ্ঠানে দীর্ঘদিন ধরে চাকরি করলেও সেলিম রেজা ও নুর মোহাম্মদ নামে কাউকে দেখেননি। নিয়োগ সংক্রান্ত সভার রেজুলেশনে তাদের নাম নেই। হাজিরা খাতা, ক্লাস রুটিন ও ব্যানবেইস জরিপেও ২০২৪-২০২৫ সালের আগে তাদের নাম ছিল না। তদন্তকালে মাদ্রাসার ২৯ জন প্রভাষক লিখিতভাবে জানিয়েছেন, উল্লেখিত ২ জন কখনো মাদ্রাসায় আসেননি এবং ক্লাসও নেননি। মিটিং, পরীক্ষা বা অন্য কোনো কার্যক্রমেও তাদের অংশগ্রহণ ছিল না। অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও ২০২১ সালে বরিশাল বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালকের স্বাক্ষর জাল করে জাকির হোসেন নামে এক ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারী নিয়োগের অভিযোগ ওঠে। কাগজপত্র ভুয়া প্রমাণিত হওয়ায় ০৩/০৮/২০২১ তারিখে মাদ্রাসার সকল শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন-ভাতা বন্ধ করে দেয়া হয়। এ বিষয়ে সাবেক অধ্যক্ষ মাওলানা রফিকুল ইসলাম বলেন, আমার সময়ে হাদিস বিভাগে কাউকে নিয়োগ দেয়া হয়নি। আমার ও সাবেক সভাপতির স্বাক্ষর জাল করে এ কাজ করা হয়েছে। তদন্তে প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা মেনে নেব। বর্তমান অধ্যক্ষ মাওলানা মোশারেফ হোসেন বলেন, এই নিয়োগ আমার দায়িত্বকালীন সময়ে হয়নি। আমি কিছুই জানি না। তদন্তে দোষী প্রমাণিত হলে শাস্তি মাথা পেতে নেব। তবে আমাকে হেয় করতে একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে। অভিযুক্ত প্রভাষক সেলিম রেজা মুঠোফোনে আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তবে নুর মোহাম্মদ সাংবাদিক পরিচয় পেয়ে ফোন কেটে দেন। ২০২৫ সালের ২ সেপ্টেম্বর সিরাজ পন্ডিতের অভিযোগের প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নির্দেশে লালমোহন সরকারি শাহবাজপুর কলেজের প্রভাষক মো. মুসাকে তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয়। তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মুসা বলেন, নিয়োগ ও যোগদানের মূল কাগজ দেখাতে পারেননি তারা। ফটোকপি দেখিয়েছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের অভিযোগের সত্যতাও পাওয়া গেছে। তারা কখনো প্রতিষ্ঠানে আসেননি। তদন্ত প্রতিবেদনে অধিকতর তদন্তের সুপারিশ করা হয়েছে। মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন বলেন, দুর্নীতি ও জালিয়াতির মাধ্যমে নিয়োগের বিষয়টি তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে। অবৈধ নিয়োগের সাথে জড়িতদের ছাড় দেয়া হবে না। আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসন বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে জানা গেছে।