ঢাকা ১১:২৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

সুন্দরবনে শান্তি ফেরাতে বড় সফলতা ৪ বাহিনীর ৫২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করে উপকূলীয় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ অবয়াশ্রম গড়ে তুলতে এক বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬। খুলনার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র?্যাবের ধারাবাহিক বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৪টি দুর্র্ধষ বনদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ মোট ৫২ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধান ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক পেশাজীবীদের স্বাভাবিক জীবিকা নিশ্চিত করতেই র‌্যাব এই আত্মসমর্পণের সুযোগ তৈরি করে দেয়। আত্মসমর্পণকারী বাহিনী ও সদস্য সংখ্যা র‌্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ৫২ জন সদস্য মূলত সুন্দরবনের চারটি সক্রিয় দস্যু দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। এদের দলভিত্তিক বিভাজন হলো: বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী: ১৬ জন (বাহিনী প্রধানসহ), দুলাভাই/আফজাল বাহিনী: ১৫ জন (বাহিনী প্রধানসহ),আনারুল বাহিনী: ১৩ জন (বাহিনী প্রধানসহ),আফতাব বাহিনী: ৮ জন (বাহিনী প্রধানসহ),দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গহীনে সক্রিয় থাকা এসব বাহিনীর কারণে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির শিকার হতেন স্থানীয় জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। পাশাপাশি সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিল। র‌্যাবের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে এক নতুন স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এবার অন্তত কিছুটা হলেও ভয়ডরহীনভাবে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হবে। র?্যাব-৬-এর মিডিয়া উইং নিশ্চিত করেছে যে, দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সুন্দরবনকে পুরোপুরি নিরাপদ না করা পর্যন্ত কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বনদস্যুদের চিরতরে নির্মূল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় র‌্যাবের নিয়মিত চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

সুন্দরবনে শান্তি ফেরাতে বড় সফলতা ৪ বাহিনীর ৫২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

আপডেট সময় ০৯:৫৬:২৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনকে সম্পূর্ণ দস্যুমুক্ত করে উপকূলীয় জেলে, বাওয়ালি, মৌয়াল ও পর্যটকদের জন্য একটি নিরাপদ অবয়াশ্রম গড়ে তুলতে এক বিশাল অগ্রগতি অর্জন করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬। খুলনার সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগের আওতাধীন এলাকায় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) র?্যাবের ধারাবাহিক বিশেষ উদ্যোগের অংশ হিসেবে ৪টি দুর্র্ধষ বনদস্যু বাহিনীর প্রধানসহ মোট ৫২ জন সদস্য আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মসমর্পণ করেছেন। উপকূলীয় এলাকার সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা বিধান ও সুন্দরবনের ওপর নির্ভরশীল প্রান্তিক পেশাজীবীদের স্বাভাবিক জীবিকা নিশ্চিত করতেই র‌্যাব এই আত্মসমর্পণের সুযোগ তৈরি করে দেয়। আত্মসমর্পণকারী বাহিনী ও সদস্য সংখ্যা র‌্যাব-৬-এর মিডিয়া সেল থেকে প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, আত্মসমর্পণকারী ৫২ জন সদস্য মূলত সুন্দরবনের চারটি সক্রিয় দস্যু দলের সাথে যুক্ত ছিলেন। এদের দলভিত্তিক বিভাজন হলো: বড় জাহাঙ্গীর বাহিনী: ১৬ জন (বাহিনী প্রধানসহ), দুলাভাই/আফজাল বাহিনী: ১৫ জন (বাহিনী প্রধানসহ),আনারুল বাহিনী: ১৩ জন (বাহিনী প্রধানসহ),আফতাব বাহিনী: ৮ জন (বাহিনী প্রধানসহ),দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনের গহীনে সক্রিয় থাকা এসব বাহিনীর কারণে মাছ, কাঁকড়া ও মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে অপহরণ ও চাঁদাবাজির শিকার হতেন স্থানীয় জেলে, বাওয়ালি ও মৌয়ালরা। পাশাপাশি সুন্দরবনের অভ্যন্তরীণ পর্যটন শিল্পও নিরাপত্তার ঝুঁকিতে ছিল। র‌্যাবের এই উদ্যোগের ফলে একদিকে যেমন দস্যুতা ছেড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে সুন্দরবনকেন্দ্রিক অর্থনীতি ও পর্যটন খাতে এক নতুন স্বস্তির হাওয়া বইতে শুরু করেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা আশা করছেন, এবার অন্তত কিছুটা হলেও ভয়ডরহীনভাবে সুন্দরবনে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ তৈরি হবে। র?্যাব-৬-এর মিডিয়া উইং নিশ্চিত করেছে যে, দস্যুদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি সুন্দরবনকে পুরোপুরি নিরাপদ না করা পর্যন্ত কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। আত্মসমর্পণ প্রক্রিয়ার পাশাপাশি বনদস্যুদের চিরতরে নির্মূল করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় র‌্যাবের নিয়মিত চিরুনি অভিযান ও গোয়েন্দা নজরদারি অব্যাহত থাকবে।