দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডেমুশিয়ার ১২০ একর আয়তনের মিঠাপানির জলমহাল। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জলমহালটি উন্মুক্ত হওয়ায় উপকূলের সাত ইউনিয়নের কৃষক, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। মাছ আহরণ, কৃষিকাজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনপদে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের ভুক্তভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন জনসভায় উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের মানুষের কাছে ডেমুশিয়া জলমহাল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। পরে জলমহালটি ইজারা না দিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে কৃষিতে সংকট ডেমুশিয়া জলমহালের ওপর নির্ভরশীল নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নের হাজারো প্রান্তিক কৃষক। জলমহালের মিঠাপানি ও স্থানীয় শাখাখালের পানি ব্যবহার করে তাঁরা আমন-বোরো ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, উপকূলীয় জনপদকে সামুদ্রিক জোয়ারের লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষা এবং কৃষিকাজে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলাকায় স্লুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে স্লুইচগেটের জলকপাট জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে লবণাক্ত পানি জলমহালে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে একদিকে মিঠাপানির উৎস দূষিত হয়, অন্যদিকে কৃষিজমিতে লবণাক্ততার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলমহাল ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন সময় স্লুইচগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানো হতো। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। খালে নামতেও দেওয়া হতো না, ডেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়া ও আম্মারডেরা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় ১৭ বছর জলমহাল ইজারার নামে একটি শ্রেণি স্থানীয় মানুষের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল। তাঁদের অভিযোগ, জলমহালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষকে মাছ ধরতে এবং অনেক সময় খালের পানিতে গোসল করতেও বাধা দেওয়া হতো। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন পর মনে হচ্ছে জলমহালটি আবার আমাদের হয়েছে। এখন প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবহার করতে পারছি, মাছ ধরতে পারছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়। জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করছেন, কৃষকেরা আমন চাষে মাঠে নেমেছেন। পাশাপাশি গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে মিঠাপানি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ। মিঠাপানিতে কৃষকের মুখে হাসি সরেজমিনে ডেমুশিয়া জলমহালসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, চলতি আমন মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। জলমহালের মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। কৃষকেরা বলছেন, জলমহালটি উন্মুক্ত থাকলে শুধু কৃষিই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মাছ আহরণ, কৃষিকাজ, গৃহস্থালির ব্যবহার এবং গবাদিপশুর পানির চাহিদা সব ক্ষেত্রেই উপকার পাবেন স্থানীয়রা। স্থানীয় মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ায় তাঁরা নতুন করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন। দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। উন্মুক্ত জলমহালে নতুন বিপদ, চায়না জাল’ তবে জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ার সুফলের মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যশিকারি নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর, চায়না জাল, ব্যবহার করে জলমহালে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছের পোনা, ডিম এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই জলমহালের মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই চায়না জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে ১২০ একর আয়তনের ডেমুশিয়া জলমহাল অদূর ভবিষ্যতে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা, স্থানীয় মৎস্যসম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন এবং জলমহাল উন্মুক্ত করার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। স্থানীয়রা জানান, জলমহাল সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত লাভের আশায় ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করছেন। বিশেষ করে পোনা নিধন অব্যাহত থাকলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে আগামী মৌসুমে জলমহালে মাছের সংকট আরও তীব্র হতে পারে। স্লুইচগেট সংস্কার ও কঠোর নজরদারির দাবি এলাকাবাসীর মতে, ডেমুশিয়ার ১২০ একর মিঠাপানির জলমহাল শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি উপকূলের হাজারো মানুষের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জলমহালটি ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, জরাজীর্ণ স্লুইচগেট দ্রুত সংস্কার করে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জলমহালে নিষিদ্ধ চায়না জালসহ ক্ষতিকর সব ধরনের জাল ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জলমহালটি স্থায়ীভাবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রেখে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উপকূলের হাজারো কৃষক, জেলে ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনার পর ফিরে পাওয়া এই মিঠাপানির অধিকার যেন কোনোভাবেই আবার কেড়ে নেওয়া না হয় এটাই এখন উপকূলবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
সংবাদ শিরোনাম
- প্রচ্ছদ
- চট্টগ্রাম বিভাগ, সারাদেশ
- মিঠাপানির আশীর্বাদে উপকূলে ফিরেছে স্বস্তি, ১৭ বছর পর উন্মুক্ত ডেমুশিয়ার ১২০ একর জলমহাল অলি উল্লাহ রনি (স্টাফ রিপোর্টার) কক্সবাজার দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডেমুশিয়ার ১২০ একর আয়তনের মিঠাপানির জলমহাল। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জলমহালটি উন্মুক্ত হওয়ায় উপকূলের সাত ইউনিয়নের কৃষক, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। মাছ আহরণ, কৃষিকাজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনপদে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের ভুক্তভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন জনসভায় উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের মানুষের কাছে ডেমুশিয়া জলমহাল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। পরে জলমহালটি ইজারা না দিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে কৃষিতে সংকট ডেমুশিয়া জলমহালের ওপর নির্ভরশীল নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নের হাজারো প্রান্তিক কৃষক। জলমহালের মিঠাপানি ও স্থানীয় শাখাখালের পানি ব্যবহার করে তাঁরা আমন-বোরো ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, উপকূলীয় জনপদকে সামুদ্রিক জোয়ারের লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষা এবং কৃষিকাজে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলাকায় স্লুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে স্লুইচগেটের জলকপাট জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে লবণাক্ত পানি জলমহালে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে একদিকে মিঠাপানির উৎস দূষিত হয়, অন্যদিকে কৃষিজমিতে লবণাক্ততার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলমহাল ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন সময় স্লুইচগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানো হতো। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। খালে নামতেও দেওয়া হতো না, ডেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়া ও আম্মারডেরা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় ১৭ বছর জলমহাল ইজারার নামে একটি শ্রেণি স্থানীয় মানুষের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল। তাঁদের অভিযোগ, জলমহালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষকে মাছ ধরতে এবং অনেক সময় খালের পানিতে গোসল করতেও বাধা দেওয়া হতো। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন পর মনে হচ্ছে জলমহালটি আবার আমাদের হয়েছে। এখন প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবহার করতে পারছি, মাছ ধরতে পারছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়। জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করছেন, কৃষকেরা আমন চাষে মাঠে নেমেছেন। পাশাপাশি গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে মিঠাপানি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ। মিঠাপানিতে কৃষকের মুখে হাসি সরেজমিনে ডেমুশিয়া জলমহালসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, চলতি আমন মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। জলমহালের মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। কৃষকেরা বলছেন, জলমহালটি উন্মুক্ত থাকলে শুধু কৃষিই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মাছ আহরণ, কৃষিকাজ, গৃহস্থালির ব্যবহার এবং গবাদিপশুর পানির চাহিদা সব ক্ষেত্রেই উপকার পাবেন স্থানীয়রা। স্থানীয় মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ায় তাঁরা নতুন করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন। দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। উন্মুক্ত জলমহালে নতুন বিপদ, চায়না জাল’ তবে জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ার সুফলের মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যশিকারি নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর, চায়না জাল, ব্যবহার করে জলমহালে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছের পোনা, ডিম এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই জলমহালের মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই চায়না জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে ১২০ একর আয়তনের ডেমুশিয়া জলমহাল অদূর ভবিষ্যতে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা, স্থানীয় মৎস্যসম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন এবং জলমহাল উন্মুক্ত করার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। স্থানীয়রা জানান, জলমহাল সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত লাভের আশায় ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করছেন। বিশেষ করে পোনা নিধন অব্যাহত থাকলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে আগামী মৌসুমে জলমহালে মাছের সংকট আরও তীব্র হতে পারে। স্লুইচগেট সংস্কার ও কঠোর নজরদারির দাবি এলাকাবাসীর মতে, ডেমুশিয়ার ১২০ একর মিঠাপানির জলমহাল শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি উপকূলের হাজারো মানুষের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জলমহালটি ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, জরাজীর্ণ স্লুইচগেট দ্রুত সংস্কার করে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জলমহালে নিষিদ্ধ চায়না জালসহ ক্ষতিকর সব ধরনের জাল ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জলমহালটি স্থায়ীভাবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রেখে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উপকূলের হাজারো কৃষক, জেলে ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনার পর ফিরে পাওয়া এই মিঠাপানির অধিকার যেন কোনোভাবেই আবার কেড়ে নেওয়া না হয় এটাই এখন উপকূলবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
মিঠাপানির আশীর্বাদে উপকূলে ফিরেছে স্বস্তি, ১৭ বছর পর উন্মুক্ত ডেমুশিয়ার ১২০ একর জলমহাল অলি উল্লাহ রনি (স্টাফ রিপোর্টার) কক্সবাজার দীর্ঘ প্রায় ১৭ বছর পর সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত হয়েছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলার ডেমুশিয়ার ১২০ একর আয়তনের মিঠাপানির জলমহাল। দীর্ঘদিনের বঞ্চনার অবসান ঘটিয়ে জলমহালটি উন্মুক্ত হওয়ায় উপকূলের সাত ইউনিয়নের কৃষক, জেলে ও খেটে খাওয়া মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে নতুন আশার সঞ্চার। মাছ আহরণ, কৃষিকাজ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় কাজে মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ ফিরে পাওয়ায় স্বস্তি ফিরেছে স্থানীয় জনপদে। স্থানীয় বাসিন্দা ও দীর্ঘদিনের ভুক্তভোগীরা এ উদ্যোগের জন্য কক্সবাজার-১ (চকরিয়া-পেকুয়া) আসনের সংসদ সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। স্থানীয়দের দাবি, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে নির্বাচনী প্রচারণা ও বিভিন্ন জনসভায় উপকূলীয় সাত ইউনিয়নের মানুষের কাছে ডেমুশিয়া জলমহাল সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন সালাহউদ্দিন আহমদ। নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে বিএনপি সরকার গঠনের পর তিনি সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেন। পরে জলমহালটি ইজারা না দিয়ে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত রাখার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে নির্দেশনা দেওয়া হয়। লবণাক্ত পানির আগ্রাসনে কৃষিতে সংকট ডেমুশিয়া জলমহালের ওপর নির্ভরশীল নবগঠিত মাতামুহুরী উপজেলার বদরখালী, কোনাখালী, ঢেমুশিয়া, পশ্চিম বড় ভেওলা, বিএমচর, পূর্ব বড় ভেওলা ও সাহারবিল ইউনিয়নের হাজারো প্রান্তিক কৃষক। জলমহালের মিঠাপানি ও স্থানীয় শাখাখালের পানি ব্যবহার করে তাঁরা আমন-বোরো ধান, শাকসবজি ও বিভিন্ন ধরনের ফসল উৎপাদন করেন। স্থানীয়দের ভাষ্য, উপকূলীয় জনপদকে সামুদ্রিক জোয়ারের লবণাক্ত পানি থেকে রক্ষা এবং কৃষিকাজে মিঠাপানির সরবরাহ নিশ্চিত করতে এলাকায় স্লুইচগেট নির্মাণ করা হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে স্লুইচগেটের জলকপাট জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। ফলে অমাবস্যা ও পূর্ণিমার জোয়ারে লবণাক্ত পানি জলমহালে ঢুকে পড়ার আশঙ্কা থাকে। এতে একদিকে মিঠাপানির উৎস দূষিত হয়, অন্যদিকে কৃষিজমিতে লবণাক্ততার প্রভাব পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। স্থানীয়দের অভিযোগ, জলমহাল ইজারার শর্ত উপেক্ষা করে মাছ চাষের জন্য বিভিন্ন সময় স্লুইচগেট দিয়ে লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানো হতো। এতে দীর্ঘদিন ধরে ভোগান্তিতে ছিলেন কৃষক ও সাধারণ মানুষ। খালে নামতেও দেওয়া হতো না, ডেমুশিয়া ইউনিয়নের খাসপাড়া ও আম্মারডেরা এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা জানান, প্রায় ১৭ বছর জলমহাল ইজারার নামে একটি শ্রেণি স্থানীয় মানুষের ওপর এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে রেখেছিল। তাঁদের অভিযোগ, জলমহালের পানি কৃষিকাজে ব্যবহার করা তো দূরের কথা, সাধারণ মানুষকে মাছ ধরতে এবং অনেক সময় খালের পানিতে গোসল করতেও বাধা দেওয়া হতো। একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, দীর্ঘদিন পর মনে হচ্ছে জলমহালটি আবার আমাদের হয়েছে। এখন প্রয়োজন অনুযায়ী পানি ব্যবহার করতে পারছি, মাছ ধরতে পারছি। এটি আমাদের জন্য অনেক বড় স্বস্তির বিষয়। জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ার পর স্থানীয় জেলেরা মাছ আহরণ করছেন, কৃষকেরা আমন চাষে মাঠে নেমেছেন। পাশাপাশি গৃহস্থালির বিভিন্ন কাজে মিঠাপানি ব্যবহার করছেন সাধারণ মানুষ। মিঠাপানিতে কৃষকের মুখে হাসি সরেজমিনে ডেমুশিয়া জলমহালসংলগ্ন এলাকায় দেখা গেছে, চলতি আমন মৌসুমকে সামনে রেখে কৃষকেরা জমি প্রস্তুত ও চাষাবাদে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। জলমহালের মিঠাপানি ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তাঁদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নতুন প্রত্যাশা। কৃষকেরা বলছেন, জলমহালটি উন্মুক্ত থাকলে শুধু কৃষিই নয়, পুরো এলাকার অর্থনীতি ও জীবন-জীবিকায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। মাছ আহরণ, কৃষিকাজ, গৃহস্থালির ব্যবহার এবং গবাদিপশুর পানির চাহিদা সব ক্ষেত্রেই উপকার পাবেন স্থানীয়রা। স্থানীয় মৎস্যজীবী পরিবারগুলোর অনেকেই বলছেন, জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ায় তাঁরা নতুন করে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহের সুযোগ পেয়েছেন। দরিদ্র ও খেটে খাওয়া মানুষের জন্য এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ আশ্রয় হয়ে উঠেছে। উন্মুক্ত জলমহালে নতুন বিপদ, চায়না জাল’ তবে জলমহাল উন্মুক্ত হওয়ার সুফলের মধ্যেই দেখা দিয়েছে নতুন শঙ্কা। স্থানীয়দের অভিযোগ, এক শ্রেণির অসাধু মৎস্যশিকারি নিষিদ্ধ ও ক্ষতিকর, চায়না জাল, ব্যবহার করে জলমহালে নির্বিচারে মাছ শিকার করছে। স্থানীয়দের ভাষ্য, এসব জালে বড় মাছের পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক মাছের পোনা, ডিম এবং বিভিন্ন জলজ প্রাণী আটকা পড়ে ধ্বংস হচ্ছে। এতে অল্প সময়ের মধ্যেই জলমহালের মৎস্যসম্পদ কমে যাওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই চায়না জালের ব্যবহার বন্ধ করা না গেলে ১২০ একর আয়তনের ডেমুশিয়া জলমহাল অদূর ভবিষ্যতে মৎস্যশূন্য হয়ে পড়তে পারে। এতে সাধারণ মানুষের জীবিকা, স্থানীয় মৎস্যসম্পদের স্বাভাবিক প্রজনন এবং জলমহাল উন্মুক্ত করার মূল উদ্দেশ্যই ব্যাহত হবে। স্থানীয়রা জানান, জলমহাল সবার জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় সাধারণ মানুষ উপকৃত হচ্ছেন। কিন্তু কিছু অসাধু ব্যক্তি অতিরিক্ত লাভের আশায় ছোট-বড় সব ধরনের মাছ নির্বিচারে শিকার করছেন। বিশেষ করে পোনা নিধন অব্যাহত থাকলে মাছের স্বাভাবিক প্রজনন ও বংশবিস্তার বাধাগ্রস্ত হবে। ফলে আগামী মৌসুমে জলমহালে মাছের সংকট আরও তীব্র হতে পারে। স্লুইচগেট সংস্কার ও কঠোর নজরদারির দাবি এলাকাবাসীর মতে, ডেমুশিয়ার ১২০ একর মিঠাপানির জলমহাল শুধু একটি জলাশয় নয়; এটি উপকূলের হাজারো মানুষের কৃষি, মৎস্যসম্পদ, জীবিকা ও দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। তাই জলমহালটি ভবিষ্যতে কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে চলে না যায়, সে বিষয়ে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। তাঁদের দাবি, জরাজীর্ণ স্লুইচগেট দ্রুত সংস্কার করে সামুদ্রিক লবণাক্ত পানির প্রবেশ বন্ধ করতে হবে। একই সঙ্গে জলমহালে নিষিদ্ধ চায়না জালসহ ক্ষতিকর সব ধরনের জাল ব্যবহার বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করতে হবে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, জলমহালটি স্থায়ীভাবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত রেখে সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উপকূলের হাজারো কৃষক, জেলে ও প্রান্তিক মানুষের জীবন-জীবিকায় দীর্ঘমেয়াদি ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। দীর্ঘ ১৭ বছরের বঞ্চনার পর ফিরে পাওয়া এই মিঠাপানির অধিকার যেন কোনোভাবেই আবার কেড়ে নেওয়া না হয় এটাই এখন উপকূলবাসীর প্রধান প্রত্যাশা।
-
অলি উল্লাহ রনি (স্টাফ রিপোর্টার) কক্সবাজার - আপডেট সময় ১০:০২:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 84
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























