ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন Logo বোয়ালমারী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ৫ শতাধিক ছাত্রীর জন্য শিক্ষক মাত্র ৩ জন: ১২ পদের ৯টিই শূন্য Logo বদলগাছীতে জাতীয় কবি “ নজরুল বর্ষের “ সমাপনী ও পুরস্কার বিতরণ Logo কয়রায় আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা ও র‌্যালি Logo ঘাটাইলে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উপলক্ষে বর্ণাঢ্য র‌্যালি Logo আগৈলঝাড়ায় র‌্যালি ও আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস উদযাপিত Logo মানবিক বিবেচনায় ছাড় না দিলে কঠোর কর্মসূচি আগামীতে Logo শতবর্ষী কপিলমুনি সহচরী বিদ্যামন্দির একাডেমিক ভবনঘেঁষে ময়লার ভাগাড়, ছয় মাস ধরে বন্ধ শ্রেণিকক্ষে পাঠদান Logo কালীগঞ্জে আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবসে র‌্যালি-আলোচনা Logo প্রবীণরা বোঝা নয় তারা আমাদের শিকড়-আবুজার ইজাজুল হক

পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস হোক দাম্পত্যের ভিত্তি

দাম্পত্যজীবন শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; এটি বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র বন্ধন। একজন স্বামী যখন স্ত্রীর কাছে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠেন, আর একজন স্ত্রী যখন স্বামীর কাছে প্রশান্তির ঠিকানা হয়ে ওঠেন, তখন একটি ছোট ঘরও পরিণত হয় শান্তির নীড়ে।
কিন্তু সেই ঘরে যখন ভালোবাসার জায়গা দখল করে নেয় সন্দেহ, তখন ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে সম্পর্কের সৌন্দর্য। একটি ফোনকল, একটি বার্তা, কারো সঙ্গে সামান্য কথা বলা কিংবা কোনো অস্পষ্ট আচরণকে কেন্দ্র করে জন্ম নিতে পারে অমূলক সন্দেহ। এরপর শুরু হয় প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল তল্লাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, গোপন অনুসন্ধান—একসময় পারস্পরিক আস্থা হারিয়ে যায়। অথচ যে সম্পর্কের ভিত্তি ছিল বিশ্বাস, সেটিই তখন পরিণত হয় অবিশ্বাসের কারাগারে।
ইসলাম তাই শুধু পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেঁচে থাকতে বলেনি; বরং প্রমাণ ছাড়া কাউকে সন্দেহ করা, দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং গোপনে অনুসন্ধান চালানো থেকেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কোনো কোনো ধারণা গুনাহ।’ এরপর আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।
’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)
সন্দেহকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যা’
সন্দেহের ভয়াবহতা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ধারণা-অনুমান থেকে বেঁচে থাক। কারণ ধারণা-অনুমান সবচেয়ে মিথ্যা কথা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান করো না এবং গোয়েন্দাগিরি করো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৪)
খেয়াল করার বিষয় হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্দেহের পরপরই তথ্য অনুসন্ধান ও গোয়েন্দাগিরি থেকে নিষেধ করেছেন।
কারণ অমূলক সন্দেহ মানুষকে প্রমাণ খোঁজার নামে এমন পথে নিয়ে যায়, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয় এবং সম্পর্কের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।
ইসলাম মানুষের গোপনীয়তার মর্যাদা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর থেকে ফিরে রাতে হঠাৎ পরিবারের কাছে প্রবেশ করতেন না। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো ব্যক্তিকে রাতে হঠাৎ তার পরিবারের কাছে এসে উপস্থিত হতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
তবে এক্ষেত্রে ইসলাম অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে বলে না। বরং বাস্তব প্রমাণ থাকলে শান্ত, সংযত ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু নিছক কল্পনা, আশঙ্কা ও অনুমানের ওপর কাউকে অপরাধী বানানো ইসলাম সমর্থন করে না। একজন স্বামী যদি স্ত্রীর ব্যাপারে সন্দেহ করে বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়দের কাছে অভিযোগ করতে থাকেন, কিংবা স্ত্রী যদি স্বামীর ব্যাপারে একই কাজ করেন, তাহলে বিষয়টি শুধু দাম্পত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দুই পরিবারের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বানানো যাবে না
অনেক সময় মানুষ কোনো একটি ঘটনা দেখে পুরো ঘটনা কল্পনা করে নেয়। একটি ফোনকল মানেই অবৈধ সম্পর্ক—এমন নয়। কারো সঙ্গে কথা বলা মানেই অসৎ উদ্দেশ্য—এমন নয়। কিছুক্ষণ দেরি করে বাড়ি ফেরা মানেই অন্য কোনো সম্পর্ক—এমনও নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয়—এসবের প্রত্যেকটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩৬)
সন্দেহের বদলে সুধারণা
দাম্পত্যজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—যতক্ষণ পর্যন্ত বিপরীত কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যায়, ততক্ষণ জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে সুধারণা রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তোমরা তা শুনলে, তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের সম্পর্কে উত্তম ধারণা পোষণ করলে না কেন?’ (সুরা : নুর, আয়াত : ১২)
দাম্পত্যজীবনেও একই নীতি প্রযোজ্য। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা একে অপরের জীবনসঙ্গী। তাই সন্দেহের পরিবর্তে বোঝাপড়া, অভিযোগের পরিবর্তে আলোচনা এবং রাগের পরিবর্তে কোমলতা বেছে নেওয়াই কল্যাণকর।
আল্লাহর প্রতি সুধারণা—মুমিনের শক্তি
শুধু মানুষের ব্যাপারেই নয়, আল্লাহর প্রতিও সুধারণা রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে, আমি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের শেষ মুহূর্তেও আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৭৭)
সন্দেহ নয়, পারস্পরিক আস্থাই হোক দাম্পত্যের ভিত্তি
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে বলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৫)
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তো এর চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ। তাই সেখানে সন্দেহ, বিদ্বেষ ও গোপন অনুসন্ধানের পরিবর্তে ভালোবাসা, ক্ষমা, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে কুধারণা, অহেতুক সন্দেহ, গিবত ও অপবাদ থেকে পবিত্র করুন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বস্ততা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের পরিবারগুলোকে শান্তি, বরকত ও দ্বীনি পরিবেশে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

প্রতিবন্ধী তরুণীকে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা বাদীকে হত্যার হুমকি, বিচার দাবিতে মানববন্ধন

পারস্পরিক আস্থা-বিশ্বাস হোক দাম্পত্যের ভিত্তি

আপডেট সময় ০৮:৫৯:৪৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম্পত্যজীবন শুধু দুজন মানুষের একসঙ্গে বসবাসের নাম নয়; এটি বিশ্বাস, ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, সহমর্মিতা ও দায়িত্ববোধের ওপর প্রতিষ্ঠিত একটি পবিত্র বন্ধন। একজন স্বামী যখন স্ত্রীর কাছে নিরাপদ আশ্রয় হয়ে ওঠেন, আর একজন স্ত্রী যখন স্বামীর কাছে প্রশান্তির ঠিকানা হয়ে ওঠেন, তখন একটি ছোট ঘরও পরিণত হয় শান্তির নীড়ে।
কিন্তু সেই ঘরে যখন ভালোবাসার জায়গা দখল করে নেয় সন্দেহ, তখন ধীরে ধীরে নষ্ট হতে থাকে সম্পর্কের সৌন্দর্য। একটি ফোনকল, একটি বার্তা, কারো সঙ্গে সামান্য কথা বলা কিংবা কোনো অস্পষ্ট আচরণকে কেন্দ্র করে জন্ম নিতে পারে অমূলক সন্দেহ। এরপর শুরু হয় প্রশ্ন, জিজ্ঞাসাবাদ, মোবাইল তল্লাশি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পর্যবেক্ষণ, গোপন অনুসন্ধান—একসময় পারস্পরিক আস্থা হারিয়ে যায়। অথচ যে সম্পর্কের ভিত্তি ছিল বিশ্বাস, সেটিই তখন পরিণত হয় অবিশ্বাসের কারাগারে।
ইসলাম তাই শুধু পরকীয়া বা অবৈধ সম্পর্ক থেকে বেঁচে থাকতে বলেনি; বরং প্রমাণ ছাড়া কাউকে সন্দেহ করা, দোষ খুঁজে বেড়ানো এবং গোপনে অনুসন্ধান চালানো থেকেও কঠোরভাবে নিষেধ করেছে। আল্লাহ তাআলা মুমিনদের সতর্ক করে বলেন, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা অধিকাংশ ধারণা থেকে বেঁচে থাক। নিশ্চয় কোনো কোনো ধারণা গুনাহ।’ এরপর আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা একে অপরের গোপন বিষয় অনুসন্ধান করো না এবং একে অপরের গিবত করো না।
’ (সুরা : হুজুরাত, আয়াত : ১২)
সন্দেহকে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন ‘সবচেয়ে বড় মিথ্যা’
সন্দেহের ভয়াবহতা বোঝাতে রাসুলুল্লাহ (সা.) অত্যন্ত কঠোর ভাষায় সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘তোমরা ধারণা-অনুমান থেকে বেঁচে থাক। কারণ ধারণা-অনুমান সবচেয়ে মিথ্যা কথা। তোমরা একে অপরের দোষ অনুসন্ধান করো না এবং গোয়েন্দাগিরি করো না।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৪)
খেয়াল করার বিষয় হলো, রাসুলুল্লাহ (সা.) সন্দেহের পরপরই তথ্য অনুসন্ধান ও গোয়েন্দাগিরি থেকে নিষেধ করেছেন।
কারণ অমূলক সন্দেহ মানুষকে প্রমাণ খোঁজার নামে এমন পথে নিয়ে যায়, যেখানে ব্যক্তিগত গোপনীয়তা লঙ্ঘিত হয় এবং সম্পর্কের বিশ্বাস নষ্ট হয়ে যায়।
ইসলাম মানুষের গোপনীয়তার মর্যাদা দিয়েছে। রাসুলুল্লাহ (সা.) সফর থেকে ফিরে রাতে হঠাৎ পরিবারের কাছে প্রবেশ করতেন না। জাবির (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘রাসুলুল্লাহ (সা.) কোনো ব্যক্তিকে রাতে হঠাৎ তার পরিবারের কাছে এসে উপস্থিত হতে নিষেধ করেছেন।’ (সহিহ বুখারি, সহিহ মুসলিম)
তবে এক্ষেত্রে ইসলাম অন্যায়কে প্রশ্রয় দিতে বলে না। বরং বাস্তব প্রমাণ থাকলে শান্ত, সংযত ও ন্যায়সংগত পদ্ধতিতে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু নিছক কল্পনা, আশঙ্কা ও অনুমানের ওপর কাউকে অপরাধী বানানো ইসলাম সমর্থন করে না। একজন স্বামী যদি স্ত্রীর ব্যাপারে সন্দেহ করে বন্ধু-বান্ধব বা আত্মীয়দের কাছে অভিযোগ করতে থাকেন, কিংবা স্ত্রী যদি স্বামীর ব্যাপারে একই কাজ করেন, তাহলে বিষয়টি শুধু দাম্পত্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং দুই পরিবারের মধ্যেও বিভেদ সৃষ্টি করতে পারে।
প্রমাণ ছাড়া কাউকে অপরাধী বানানো যাবে না
অনেক সময় মানুষ কোনো একটি ঘটনা দেখে পুরো ঘটনা কল্পনা করে নেয়। একটি ফোনকল মানেই অবৈধ সম্পর্ক—এমন নয়। কারো সঙ্গে কথা বলা মানেই অসৎ উদ্দেশ্য—এমন নয়। কিছুক্ষণ দেরি করে বাড়ি ফেরা মানেই অন্য কোনো সম্পর্ক—এমনও নয়। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যে বিষয়ে তোমার জ্ঞান নেই, তার অনুসরণ করো না। নিশ্চয় কান, চোখ ও হৃদয়—এসবের প্রত্যেকটির ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করা হবে।’ (সুরা : ইসরা, আয়াত : ৩৬)
সন্দেহের বদলে সুধারণা
দাম্পত্যজীবনে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি হলো—যতক্ষণ পর্যন্ত বিপরীত কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ না পাওয়া যায়, ততক্ষণ জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে সুধারণা রাখা। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘যখন তোমরা তা শুনলে, তখন মুমিন পুরুষ ও মুমিন নারীরা নিজেদের সম্পর্কে উত্তম ধারণা পোষণ করলে না কেন?’ (সুরা : নুর, আয়াত : ১২)
দাম্পত্যজীবনেও একই নীতি প্রযোজ্য। স্বামী-স্ত্রী একে অপরের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়; তারা একে অপরের জীবনসঙ্গী। তাই সন্দেহের পরিবর্তে বোঝাপড়া, অভিযোগের পরিবর্তে আলোচনা এবং রাগের পরিবর্তে কোমলতা বেছে নেওয়াই কল্যাণকর।
আল্লাহর প্রতি সুধারণা—মুমিনের শক্তি
শুধু মানুষের ব্যাপারেই নয়, আল্লাহর প্রতিও সুধারণা রাখা ঈমানের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘আমার বান্দা আমার সম্পর্কে যেমন ধারণা করে, আমি তার সঙ্গে তেমনই আচরণ করি।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৭৪০৫)
রাসুলুল্লাহ (সা.) জীবনের শেষ মুহূর্তেও আল্লাহর প্রতি সুধারণা রাখার শিক্ষা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ‘তোমাদের কেউ যেন আল্লাহর প্রতি সুধারণা পোষণ না করে মৃত্যুবরণ না করে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৮৭৭)
সন্দেহ নয়, পারস্পরিক আস্থাই হোক দাম্পত্যের ভিত্তি
রাসুলুল্লাহ (সা.) মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ককে ভালোবাসা, ভ্রাতৃত্ব ও সম্প্রীতির ওপর প্রতিষ্ঠিত করতে বলেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘তোমরা পরস্পর হিংসা করো না, পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ পোষণ করো না, একে অপরের সঙ্গে সম্পর্কচ্ছেদ করো না; বরং আল্লাহর বান্দা হিসেবে পরস্পর ভাই ভাই হয়ে যাও।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬০৬৫)
স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক তো এর চেয়েও বেশি ঘনিষ্ঠ। তাই সেখানে সন্দেহ, বিদ্বেষ ও গোপন অনুসন্ধানের পরিবর্তে ভালোবাসা, ক্ষমা, আস্থা ও পারস্পরিক সহযোগিতার চর্চা হওয়া উচিত। আল্লাহ তাআলা আমাদের অন্তরকে কুধারণা, অহেতুক সন্দেহ, গিবত ও অপবাদ থেকে পবিত্র করুন। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ভালোবাসা, শ্রদ্ধা, বিশ্বস্ততা ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি করুন এবং আমাদের পরিবারগুলোকে শান্তি, বরকত ও দ্বীনি পরিবেশে পরিপূর্ণ করে দিন। আমিন।