ঢাকা ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

হিমালয়ের বরফ গলছে, থমকে যাচ্ছে জলবিদ্যুৎ: ঝুঁকির মুখে নেপালের অর্থনীতি

বিদ্যুৎ খাতে জলবিদ্যুৎ নির্ভরতাকে আশীর্বাদ মনে করলেও, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপালের জন্য। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ধসে নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতির পর দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিমালয় ও পাহাড়ি নদীগুলোর দ্রুতগামী স্রোতকে কাজে লাগিয়ে নেপাল প্রায় শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছিল। প্রতি বছর ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি আয় করত প্রায় ২০ কোটি ডলার। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিসূলী নদী অববাহিকার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১০ শতাংশেরও বেশি অকেজো হয়ে পড়েছে।
এই ভয়াবহ বন্যায় ১,৩০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দুর্যোগে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি’ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সংস্থাটির মুখপাত্র রাজন ঢাকাল স্বীকার করেছেন যে, নিয়মিত জলবায়ু দুর্যোগের কারণে দেশটিকে তাদের জলবিদ্যুৎ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
নেপালের জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা” বা কেবল জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ দ্রুত হারে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয় অঞ্চল, যা আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধ্বসের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্লিন টেক ফার্ম ‘উইন্ডপাওয়ার নেপাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা কুশাল গুরুং এবং অন্যান্য গবেষকরা সৌর ও বায়ুর মতো বিকল্প শক্তির পরিধি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা আইএফসি) পরিবেশগত ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন চালিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর মাশুল গুণতে হচ্ছে তাদেরই। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-একদিকে অবকাঠামোগুলোকে বন্যা-সহনশীল করে গড়ে তোলা, অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো বিকল্প উৎসে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোই হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির একমাত্র টেকসই সমাধান। সূত্র: বিবিসি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

হিমালয়ের বরফ গলছে, থমকে যাচ্ছে জলবিদ্যুৎ: ঝুঁকির মুখে নেপালের অর্থনীতি

আপডেট সময় ০৭:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে জলবিদ্যুৎ নির্ভরতাকে আশীর্বাদ মনে করলেও, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপালের জন্য। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ধসে নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতির পর দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিমালয় ও পাহাড়ি নদীগুলোর দ্রুতগামী স্রোতকে কাজে লাগিয়ে নেপাল প্রায় শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছিল। প্রতি বছর ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি আয় করত প্রায় ২০ কোটি ডলার। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিসূলী নদী অববাহিকার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১০ শতাংশেরও বেশি অকেজো হয়ে পড়েছে।
এই ভয়াবহ বন্যায় ১,৩০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দুর্যোগে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি’ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সংস্থাটির মুখপাত্র রাজন ঢাকাল স্বীকার করেছেন যে, নিয়মিত জলবায়ু দুর্যোগের কারণে দেশটিকে তাদের জলবিদ্যুৎ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
নেপালের জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা” বা কেবল জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ দ্রুত হারে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয় অঞ্চল, যা আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধ্বসের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্লিন টেক ফার্ম ‘উইন্ডপাওয়ার নেপাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা কুশাল গুরুং এবং অন্যান্য গবেষকরা সৌর ও বায়ুর মতো বিকল্প শক্তির পরিধি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা আইএফসি) পরিবেশগত ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন চালিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর মাশুল গুণতে হচ্ছে তাদেরই। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-একদিকে অবকাঠামোগুলোকে বন্যা-সহনশীল করে গড়ে তোলা, অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো বিকল্প উৎসে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোই হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির একমাত্র টেকসই সমাধান। সূত্র: বিবিসি।