ঢাকা ০৫:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৫ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি Logo কীট সংকটে কালীগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ডেঙ্গু পরীক্ষা বন্ধ Logo জাংগালিয়া উচ্চ বিদ্যালয়ে ডেঙ্গু মশা নিধন সম্পর্কে র‌্যালি ও আলোচনা Logo নবীনগর দেওয়ানী আদালত পরিদর্শন করেন দুই হাইকোটের বিচারপতি Logo মনোহরগঞ্জে ২০ মাসেও শেষ হয়নি নির্মাণকাজ দুর্ভোগে কয়েক হাজার মানুষ Logo ধনবাড়ীতে পুলিশের অভিযানে ৭৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেফতার Logo পাঁচবিবিতে মাওড়িতলা ব্রিজে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল, লাইট পোস্ট দাবি Logo স্পিকারের এপিএস সবুজকে ঘিরে অপপ্রচার, প্রতিবাদ Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় উপকুলবাসী পেল ইউবিইএসটি বিশ্ববিদ্যালয়ের চুড়ান্ত অনুমোদন Logo মৌলভীবাজারে চাঞ্চল্যকর নাঈম হত্যা মামলায় ৪ জনের ফাঁসি, ৫ জন খালাস

হিমালয়ের বরফ গলছে, থমকে যাচ্ছে জলবিদ্যুৎ: ঝুঁকির মুখে নেপালের অর্থনীতি

বিদ্যুৎ খাতে জলবিদ্যুৎ নির্ভরতাকে আশীর্বাদ মনে করলেও, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপালের জন্য। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ধসে নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতির পর দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিমালয় ও পাহাড়ি নদীগুলোর দ্রুতগামী স্রোতকে কাজে লাগিয়ে নেপাল প্রায় শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছিল। প্রতি বছর ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি আয় করত প্রায় ২০ কোটি ডলার। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিসূলী নদী অববাহিকার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১০ শতাংশেরও বেশি অকেজো হয়ে পড়েছে।
এই ভয়াবহ বন্যায় ১,৩০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দুর্যোগে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি’ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সংস্থাটির মুখপাত্র রাজন ঢাকাল স্বীকার করেছেন যে, নিয়মিত জলবায়ু দুর্যোগের কারণে দেশটিকে তাদের জলবিদ্যুৎ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
নেপালের জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা” বা কেবল জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ দ্রুত হারে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয় অঞ্চল, যা আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধ্বসের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্লিন টেক ফার্ম ‘উইন্ডপাওয়ার নেপাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা কুশাল গুরুং এবং অন্যান্য গবেষকরা সৌর ও বায়ুর মতো বিকল্প শক্তির পরিধি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা আইএফসি) পরিবেশগত ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন চালিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর মাশুল গুণতে হচ্ছে তাদেরই। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-একদিকে অবকাঠামোগুলোকে বন্যা-সহনশীল করে গড়ে তোলা, অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো বিকল্প উৎসে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোই হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির একমাত্র টেকসই সমাধান। সূত্র: বিবিসি।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সলঙ্গা-তাড়াশ সড়কের বেহাল দশা: দুর্ভোগে যাত্রী ও চালক, বাড়ছে দুর্ঘটনার ঝুঁকি

হিমালয়ের বরফ গলছে, থমকে যাচ্ছে জলবিদ্যুৎ: ঝুঁকির মুখে নেপালের অর্থনীতি

আপডেট সময় ০৭:২৫:৩৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বিদ্যুৎ খাতে জলবিদ্যুৎ নির্ভরতাকে আশীর্বাদ মনে করলেও, জলবায়ু পরিবর্তন ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে সেটিই এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে নেপালের জন্য। গত বুধবারের ভয়াবহ বন্যা ও ধসে নেপালের বিদ্যুৎ ব্যবস্থার মারাত্মক ক্ষতির পর দেশের দীর্ঘমেয়াদী জ্বালানি নীতি নিয়েই নতুন করে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে।
হিমালয় ও পাহাড়ি নদীগুলোর দ্রুতগামী স্রোতকে কাজে লাগিয়ে নেপাল প্রায় শতভাগ বিদ্যুৎ উৎপাদন করে আসছিল। প্রতি বছর ভারত ও বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রপ্তানি করে দেশটি আয় করত প্রায় ২০ কোটি ডলার। তবে সাম্প্রতিক বন্যায় তিব্বত সীমান্ত সংলগ্ন ত্রিসূলী নদী অববাহিকার অন্তত ১২টি জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে দেশটির মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতার ১০ শতাংশেরও বেশি অকেজো হয়ে পড়েছে।
এই ভয়াবহ বন্যায় ১,৩০০ জনেরও বেশি প্রাণহানি ঘটেছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন হাজার হাজার মানুষ। দুর্যোগে রাষ্ট্রীয় সংস্থা ‘নেপাল ইলেকট্রিসিটি অথরিটি’ পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিলেও সংস্থাটির মুখপাত্র রাজন ঢাকাল স্বীকার করেছেন যে, নিয়মিত জলবায়ু দুর্যোগের কারণে দেশটিকে তাদের জলবিদ্যুৎ নীতি পুনর্বিবেচনা করতে হবে।
নেপালের জ্বালানি খাত বিশেষজ্ঞরা বলছেন, “সব ডিম এক ঝুড়িতে রাখা” বা কেবল জলবিদ্যুতের ওপর নির্ভর করা ঝুঁকিপূর্ণ। বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে ৫০ শতাংশ দ্রুত হারে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয় অঞ্চল, যা আকস্মিক বন্যা ও হিমবাহ ধ্বসের ঝুঁকি বহু গুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে। ক্লিন টেক ফার্ম ‘উইন্ডপাওয়ার নেপাল’-এর প্রতিষ্ঠাতা কুশাল গুরুং এবং অন্যান্য গবেষকরা সৌর ও বায়ুর মতো বিকল্প শক্তির পরিধি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন।
অন্যদের অভিযোগ, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো (যেমন এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক বা আইএফসি) পরিবেশগত ঝুঁকি জানা সত্ত্বেও পর্যাপ্ত প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে এসব প্রকল্পে অর্থায়ন চালিয়ে গেছে।
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় নেপালের ভূমিকা নগণ্য হলেও এর মাশুল গুণতে হচ্ছে তাদেরই। এ অবস্থায় বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ-একদিকে অবকাঠামোগুলোকে বন্যা-সহনশীল করে গড়ে তোলা, অন্যদিকে সৌর ও বায়ুবিদ্যুতের মতো বিকল্প উৎসে দ্রুত রূপান্তর ঘটানোই হতে পারে দক্ষিণ এশিয়ার এই দেশটির একমাত্র টেকসই সমাধান। সূত্র: বিবিসি।