ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ১৩ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন Logo কালিয়ায় বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস পালন Logo দুর্গাপুরে বিশ্ব হাতধোয়া দিবস পালিত Logo গলাচিপায় (সি-পি-পি) স্বেচ্ছা সেবক দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ Logo উখিয়ায় নলকূপের পাইপ দিয়ে গ্যাস নির্গমনের আগুন জ্বলবে আরো ১ সপ্তাহ, ২০০ মিটারের বাসিন্দাদের সরানোর পরামর্শ বাপেক্সের Logo কালীগঞ্জে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে দুর্ধর্ষ ডাকাতি: লুট হওয়া বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার, গ্রেফতার ২ Logo স্বরূপকাঠি প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে সাবেক সেনা সদস্য সফিকুল ইসলাম Logo ফুলতলায় বরণপাড়া বায়োগ্যাস পল্লী উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বায়োগ্যাস উৎপাদনের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করতে পারি Logo টঙ্গী পশ্চিম থানা যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য মিছিল Logo মধুপুরের বংশাই নদী জোর কদমে চলছে পুনরুদ্ধারের কাজ

দাগনভূঞায় ১০২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক

শিক্ষক ও দাপ্তরিক জনবল সংকটে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশই চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে। একই সঙ্গে জনবল সংকটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক ও তদারকি কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞায় ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৪৩টিতে। ২১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব এবং ৩৮টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ বিদ্যালয়েই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এদিকে সহকারী শিক্ষকের ৬১১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৫৬৯ জন। ফলে ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদেরই পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। উপজেলার চারটি ক্লাস্টারের জন্য চারজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেই উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ ছাড়া হিসাব সহকারী পদে একজনের বিপরীতে একজন, অফিস সহকারীর দুটি পদের বিপরীতে একজন কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে উচ্চমান সহকারীর পদ। পাশাপাশি অফিসে কোনো অফিস সহায়কও নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ের তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। এতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুত ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দাগনভূঞা উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম কমল বলেন, পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পদোন্নতি অথবা সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা হবে। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের বিষয়ে তিনি বলেন, অধিদপ্তর থেকে শূন্য পদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। সরকার নিয়োগ দিলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কেরানীগঞ্জে বিতর্ক প্রতিযোগিতা, সেরা দোলেশ্বর আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় টপ-ফিফটিন মেধাবী শিক্ষার্থীদের পুরস্কৃত করল উপজেলা প্রশাসন

দাগনভূঞায় ১০২ প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৫৯টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক

আপডেট সময় ০২:১১:০৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শিক্ষক ও দাপ্তরিক জনবল সংকটে ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলায় দীর্ঘদিন ধরে ব্যাহত হচ্ছে প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রম। উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অধিকাংশই চলছে ভারপ্রাপ্ত ও চলতি দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের মাধ্যমে। একই সঙ্গে জনবল সংকটে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের প্রশাসনিক ও তদারকি কার্যক্রমেও ধীরগতি দেখা দিয়েছে। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, দাগনভূঞায় ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক রয়েছেন মাত্র ৪৩টিতে। ২১টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের চলতি দায়িত্ব এবং ৩৮টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। অর্থাৎ ৬০ দশমিক ৭ শতাংশ বিদ্যালয়েই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এদিকে সহকারী শিক্ষকের ৬১১টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৫৬৯ জন। ফলে ৪২টি পদ শূন্য রয়েছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় অনেক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষকদেরই পাঠদানের পাশাপাশি দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এতে শ্রেণিকক্ষে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত কাজের চাপ তৈরি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের পাশাপাশি উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসেও রয়েছে তীব্র জনবল সংকট। উপজেলার চারটি ক্লাস্টারের জন্য চারজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসার থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র একজন। ফলে একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারকেই উপজেলার ১০২টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় তদারকির দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ ছাড়া হিসাব সহকারী পদে একজনের বিপরীতে একজন, অফিস সহকারীর দুটি পদের বিপরীতে একজন কর্মরত রয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে উচ্চমান সহকারীর পদ। পাশাপাশি অফিসে কোনো অফিস সহায়কও নেই। সংশ্লিষ্টদের মতে, এত বিপুলসংখ্যক বিদ্যালয়ের তদারকি ও প্রশাসনিক কার্যক্রম একজন সহকারী উপজেলা শিক্ষা অফিসারের মাধ্যমে কার্যকরভাবে পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। এতে বিদ্যালয় পরিদর্শন, প্রশাসনিক কাজ, বিভিন্ন প্রতিবেদন প্রস্তুত ও অন্যান্য দাপ্তরিক কার্যক্রমে স্বাভাবিক গতি ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে কোনো কোনো বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। প্রধান শিক্ষক না থাকায় সহকারী শিক্ষকদের একদিকে শ্রেণিকক্ষে পাঠদান, অন্যদিকে বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ও দাপ্তরিক কাজ সামলাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের পাঠদানের মান ও বিদ্যালয়ের সার্বিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। দাগনভূঞা উপজেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম কমল বলেন, পূর্ণকালীন প্রধান শিক্ষক ছাড়া একটি প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করা অত্যন্ত কঠিন। মানসম্মত প্রাথমিক শিক্ষা নিশ্চিত করতে দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা প্রয়োজন। উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুর রহমান বলেন, শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। পদোন্নতি অথবা সরাসরি নিয়োগের মাধ্যমে প্রধান শিক্ষকের শূন্য পদ পূরণ করা হবে। সহকারী শিক্ষকের শূন্য পদের বিষয়ে তিনি বলেন, অধিদপ্তর থেকে শূন্য পদের তালিকা নেওয়া হয়েছে। সরকার নিয়োগ দিলে শূন্য পদগুলো পূরণ করা হবে।