ঢাকা ০২:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ Logo পাবনার রুপপুরে পৌঁছেছে ইউরেনিয়ামের ২য় চালনের গাড়িবহর Logo অবশেষে উদ্ধার হলো নাজিরপুরের আলোচিত ট্রলার ডুবির নিখোঁজ রিনা বেপারীর মৃত দেহ Logo রায়পুরে দুই সাংবাদিকের বিরুদ্ধে মামলা Logo বিজয়া দশমীতে নিমাগাছী মাতৃমন্দিরের উদ্যোগে ৬৩ অসহায় পরিবারের মাঝে বস্ত্র বিতরণ Logo সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় মসজিদের ধানক্ষেতে তৃতীয়বার বিষ প্রয়োগের অভিযোগ! Logo দিনাজপুরে সিঁদুর খেলার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গাকে বিদায় Logo সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য নিদর্শন এখন বাংলাদেশ-আমান উল্লাহ আমান Logo বুড়িচংয়ে মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে র‌্যালি-আলোচনা সভা Logo মেলান্দহে অসহায় বৃদ্ধের পাশে ইউএনও জিন্নাতুল আরা, খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সহায়তা প্রদান

মছরু মিয়ার সুযোগ্য সন্তান ছলিব নূর বাচ্চু পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ার ম্যান পদপ্রাথী

গানের মানুষ প্রাণের মানুষ মছরু মিয়ার সুযোগ্য সন্তান মোঃ ছলিব নূর বাচ্চু কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নবাসী। এজন্য দেশ বিদেশে অবস্থানরত সকল আত্মীয় স্বজন শুভাকাঙ্কিরা নিয়মিত তাকে উৎসাহ যুগানোর পাশাপাশি তার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। গত ঈদুল আযহার সময়ে “আপামর জনসাধারনের ন্যায্য মানবাধিকার ও বিচারাধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে,বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে,শিক্ষা সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি তথ্য ও যোগাযোগ সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকারে আমি মোঃ ছলিব নূর বাচ্চু আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আপনাদের সুচিন্তিত দোয়া,মত ও ভোট প্রত্যাসী” শিরোনামে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও সৎসাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ও অন্যান্য প্রচারপত্রে অল্প কথায় গল্প শেষ করে সকল ভোটারদের হৃদয়ে ইতিমধ্যে ঠাঁই করে নিয়েছেন। এর মূল কারণ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জেলার ঐতিহ্যবাহী বীরগাঁও গ্রাম ও পুরো ইউনিয়ন এলাকাটি পশ্চাৎপদ ও উপেক্ষিত ছিল। গত ১৭ বছরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে ভৌত অবকাঠামোগত নজিরবিহিন উন্নয়ন সাধন হলেও এসব উন্নয়নের ন্যায্য হিস্যা পায়নি পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নবাসী। ফলে বঞ্চনা বৈষম্য আর উপেক্ষার যেন শেষ নেই। ইউনিয়নবাসীর বক্তব্য এর উপযুক্ত প্রতিকারে একজন সুযোগ্য সৎ সাহসী ও আন্তরিক রাজনৈতিক কর্মীর একান্ত প্রয়োজন। যিনি দীর্ঘদিনের অবহেলিত বঞ্চিত উপেক্ষিত ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবীগুলো পূরনে সক্ষম হবেন। জনগনের এই প্রত্যাশা পূরনে নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মী মোঃ ছলিব নূর বাচ্চুর কোন বিকল্প নেই।
মোঃ ছলিব নূর বাচ্চু ১৯৯১-৯২ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা হলে তিনি এ দলের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, পরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। গণসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। গত ২৪/২/২০২৫ইং তারিখে জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য এডভোকেট আব্দুল হকের যৌথ স্বাক্ষরে অনুমোদিত শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১২ নং সদস্য মনোনিত হন তিনি। প্রতিপক্ষরা একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ এনে তাকে আহবায়ক কমিটির সদস্য পদ হতে বহিষ্কার করেন। কিন্তু কথিত বহিস্কারাদেশ এখন তার গলার মালা হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ সকলের প্রিয় সৎ ত্যাগী বিএনপি নেতা বাচ্চু ভাইয়ের প্রতি ক্ষমতাসীনদের আক্রোশ ও হাইব্রীড নেতাদের বাড়াবাড়িতে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকদের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সবাই বলছেন দলের নেতা বাচ্চু ভাই দলেই আছেন। তিনি যা করেছেন তা প্রকাশ্যেই করেছেন। কেউই তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিরোধী জোটের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে দেখেননি। এছাড়া জন্ম ও বংশ পরম্পরায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তার পরিবারের অবদান সবসময় গৌরবোজ্জল ছিল। বিশেষ করে তার পিতা শুধু এলাকায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রথম প্রবক্তাই নন। বরং প্রিয় দল বিএনপি এবং দলীয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরাসরি সান্নিধ্য লাভকারী রাজনীতিবিদও বটে। প্রিয় দল বিএনপি,দলীয় প্রতীক ধানের শীষ, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গান রচনা ও পরিবেশন করে গেছেন তার পিতা মছরু মিয়া। জানা যায় মোঃ ছলিব নূর বাচ্চুর পিতা মছরু মিয়া ১৯২৫ সালে বীরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৩৭ সালে গ্রামের স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণি,১৯৪১ সালে পাগলা মাইনর স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণি,১৯৪৫ সালে সিলেটের রাজা জিসি স্কুল থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত দেশ বিভাগের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বালাট সাবসেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তার গ্রামের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বাউল আব্দুল কাইয়্যুম,তাইবুল মিয়া ও বদর উদ্দিনসহ প্রায় ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনামগঞ্জের বালাট, সেলা সাবসেক্টরে ও সিলেটের ডাউকি তামাবিল সাবসেক্টরের অধীনে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে বীরবিক্রমে লড়াই করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখলেও এসব বীর কৃতি সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারেননি। তাই বীরগাঁও গ্রামের সুনামধন্য কৃতি সন্তানদের ত্যাগ তিতিক্ষা বঞ্চনা আর বৈষম্যের ইতিহাস ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু ১৯৭৩ সালের গণভোটে তৎকালীন ১৩ নং পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার পিতা মছরু মিয়া। যিনি পূর্ব বীরগাঁও সাহিত্য সংস্কৃতি পরহিত সংঘ বিএসপিএস নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলেন। তার পিতার রচিত প্রায় শতাধিক গান নিয়ে “মছরু পাগলার গান” নামে একখানা গীতিগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার ৫ প্রধান লোককবির মধ্যমনি গানের সম্রাট বাউলকবি কামাল উদ্দিন কামাল পাশার সান্নিধ্য লাভ করে মরমী কবি মছরু মিয়া গান রচনা ও বাউল গান পরিবেশনে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন। তিনি বাউল কামালের পুত্রা সম্পর্কের ঘনিষ্ট আত্মীয় ছিলেন। তাঁর যৌবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে দিরাই থানার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে। সংগীত সাধনায় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সুতরাং ঐতিহ্যের দিক দিয়ে ছলিব নূর বাচ্চু পারিবারিকভাবে যেমন একটি সংস্কৃতিপ্রিয় পরিবারের সুযোগ্য ব্যক্তিত্ব তেমনি বিএনপি পরিবারের সদস্য। ১৯৭৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমর্থকদের দ্বারা জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠিত হলে তার বাবা মছরু মিয়া এ দলের মহকুমা কমিটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। জাগদল ছিল জাতীয়তাবাদীদের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রথম প্রয়াস। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে তিনি এ দলের মহকুমা কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের ১১ অক্টোবর বাউল মছরু মিয়া মৃত্যুবরনের পূর্ব পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সাথেই সম্পৃক্ত ছিলেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের শতকরা ৮২ জন নাগরিকই সংস্কৃতিপ্রিয়। বাউল সাধক মছরু মিয়ার অবর্তমানে সংস্কৃতিপ্রিয় নাগরিকগন যেন কাঙ্কিত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রাজনীতির ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই আগামী দিনের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নকে এগিয়ে নিতে সাধারন লোকজন গীতিকবি ও ইউনিয়নের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মছরু মিয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী মোঃ ছলিব নূর বাচ্চুকেই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

সুনামগঞ্জে মাঠ জুড়ে রোপা আমন চারার সবুজের সমারোহ

মছরু মিয়ার সুযোগ্য সন্তান ছলিব নূর বাচ্চু পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের চেয়ার ম্যান পদপ্রাথী

আপডেট সময় ০২:১৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গানের মানুষ প্রাণের মানুষ মছরু মিয়ার সুযোগ্য সন্তান মোঃ ছলিব নূর বাচ্চু কে চেয়ারম্যান হিসেবে দেখতে চান সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার ৬নং পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নবাসী। এজন্য দেশ বিদেশে অবস্থানরত সকল আত্মীয় স্বজন শুভাকাঙ্কিরা নিয়মিত তাকে উৎসাহ যুগানোর পাশাপাশি তার পক্ষে জনমত গঠনে সক্রিয় হওয়ার আহবান জানিয়েছেন। গত ঈদুল আযহার সময়ে “আপামর জনসাধারনের ন্যায্য মানবাধিকার ও বিচারাধিকার পাওয়ার লক্ষ্যে,বৈষম্যহীন সমাজব্যবস্থা বিনির্মাণে,শিক্ষা সংস্কৃতির সমন্বয়ে একটি তথ্য ও যোগাযোগ সমৃদ্ধ ইউনিয়ন গঠনের অঙ্গীকারে আমি মোঃ ছলিব নূর বাচ্চু আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে একজন সম্ভাব্য চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে আপনাদের সুচিন্তিত দোয়া,মত ও ভোট প্রত্যাসী” শিরোনামে পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জ্ঞাপন করে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস ও সৎসাহস নিয়ে এগিয়ে এসেছেন তিনি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে ও অন্যান্য প্রচারপত্রে অল্প কথায় গল্প শেষ করে সকল ভোটারদের হৃদয়ে ইতিমধ্যে ঠাঁই করে নিয়েছেন। এর মূল কারণ দেশ স্বাধীন হওয়ার পর থেকে জেলার ঐতিহ্যবাহী বীরগাঁও গ্রাম ও পুরো ইউনিয়ন এলাকাটি পশ্চাৎপদ ও উপেক্ষিত ছিল। গত ১৭ বছরে শান্তিগঞ্জ উপজেলা সদরে ভৌত অবকাঠামোগত নজিরবিহিন উন্নয়ন সাধন হলেও এসব উন্নয়নের ন্যায্য হিস্যা পায়নি পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নবাসী। ফলে বঞ্চনা বৈষম্য আর উপেক্ষার যেন শেষ নেই। ইউনিয়নবাসীর বক্তব্য এর উপযুক্ত প্রতিকারে একজন সুযোগ্য সৎ সাহসী ও আন্তরিক রাজনৈতিক কর্মীর একান্ত প্রয়োজন। যিনি দীর্ঘদিনের অবহেলিত বঞ্চিত উপেক্ষিত ইউনিয়নবাসীর প্রাণের দাবীগুলো পূরনে সক্ষম হবেন। জনগনের এই প্রত্যাশা পূরনে নিবেদিত রাজনৈতিক কর্মী মোঃ ছলিব নূর বাচ্চুর কোন বিকল্প নেই।
মোঃ ছলিব নূর বাচ্চু ১৯৯১-৯২ সালে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল সুনামগঞ্জ সরকারি কলেজ শাখার সহ-সাধারণ সম্পাদক পদে দায়িত্ব পালন করেন। জাতীয়তাবাদী যুবদল প্রতিষ্ঠা হলে তিনি এ দলের দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা কমিটির প্রতিষ্ঠাতা সদস্য, পরে ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি নির্বাচিত হন। গণসংগঠনের রাজনীতিতে সক্রিয় হয়ে পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি, দক্ষিণ সুনামগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি পদে অধিষ্ঠিত হন। গত ২৪/২/২০২৫ইং তারিখে জেলা বিএনপির বর্তমান আহবায়ক কলিম উদ্দিন আহমদ মিলন ও স্বাক্ষর ক্ষমতাসম্পন্ন সদস্য এডভোকেট আব্দুল হকের যৌথ স্বাক্ষরে অনুমোদিত শান্তিগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহবায়ক কমিটির ১২ নং সদস্য মনোনিত হন তিনি। প্রতিপক্ষরা একই দলের বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে অবস্থানের অভিযোগ এনে তাকে আহবায়ক কমিটির সদস্য পদ হতে বহিষ্কার করেন। কিন্তু কথিত বহিস্কারাদেশ এখন তার গলার মালা হয়ে দাড়িয়েছে। কারণ সকলের প্রিয় সৎ ত্যাগী বিএনপি নেতা বাচ্চু ভাইয়ের প্রতি ক্ষমতাসীনদের আক্রোশ ও হাইব্রীড নেতাদের বাড়াবাড়িতে তৃণমূল পর্যায়ের বিএনপি নেতাকর্মী সমর্থকদের পাল্লা ভারী হচ্ছে। সবাই বলছেন দলের নেতা বাচ্চু ভাই দলেই আছেন। তিনি যা করেছেন তা প্রকাশ্যেই করেছেন। কেউই তাকে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিএনপির বিরোধী জোটের প্রার্থীর পক্ষে অবস্থান নিতে দেখেননি। এছাড়া জন্ম ও বংশ পরম্পরায় শান্তিগঞ্জ উপজেলায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে তার পরিবারের অবদান সবসময় গৌরবোজ্জল ছিল। বিশেষ করে তার পিতা শুধু এলাকায় জাতীয়তাবাদী রাজনীতির প্রথম প্রবক্তাই নন। বরং প্রিয় দল বিএনপি এবং দলীয় নেতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও দেশনেত্রী ৩ বারের প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরাসরি সান্নিধ্য লাভকারী রাজনীতিবিদও বটে। প্রিয় দল বিএনপি,দলীয় প্রতীক ধানের শীষ, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়াকে নিয়ে গান রচনা ও পরিবেশন করে গেছেন তার পিতা মছরু মিয়া। জানা যায় মোঃ ছলিব নূর বাচ্চুর পিতা মছরু মিয়া ১৯২৫ সালে বীরগাঁও গ্রামে জন্মগ্রহন করেন। ১৯৩৭ সালে গ্রামের স্কুল থেকে ৫ম শ্রেণি,১৯৪১ সালে পাগলা মাইনর স্কুল থেকে ৮ম শ্রেণি,১৯৪৫ সালে সিলেটের রাজা জিসি স্কুল থেকে এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৪৭ সালের পূর্ব পর্যন্ত দেশ বিভাগের আন্দোলনের সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে বালাট সাবসেক্টরের অধীনে মুক্তিযুদ্ধে অংশ নেন। তার গ্রামের আত্মীয় স্বজনদের মধ্যে বাউল আব্দুল কাইয়্যুম,তাইবুল মিয়া ও বদর উদ্দিনসহ প্রায় ১১ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সুনামগঞ্জের বালাট, সেলা সাবসেক্টরে ও সিলেটের ডাউকি তামাবিল সাবসেক্টরের অধীনে পাক বাহিনীর সাথে সম্মুখযুদ্ধে বীরবিক্রমে লড়াই করে ৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে অসামান্য অবদান রাখলেও এসব বীর কৃতি সন্তানরা মুক্তিযোদ্ধা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত হতে পারেননি। তাই বীরগাঁও গ্রামের সুনামধন্য কৃতি সন্তানদের ত্যাগ তিতিক্ষা বঞ্চনা আর বৈষম্যের ইতিহাস ভারী হয়ে গেছে। কিন্তু ১৯৭৩ সালের গণভোটে তৎকালীন ১৩ নং পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন তার পিতা মছরু মিয়া। যিনি পূর্ব বীরগাঁও সাহিত্য সংস্কৃতি পরহিত সংঘ বিএসপিএস নামে একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে তুলেন। তার পিতার রচিত প্রায় শতাধিক গান নিয়ে “মছরু পাগলার গান” নামে একখানা গীতিগ্রন্থ প্রকাশিত হয়েছে। সুনামগঞ্জ জেলার ৫ প্রধান লোককবির মধ্যমনি গানের সম্রাট বাউলকবি কামাল উদ্দিন কামাল পাশার সান্নিধ্য লাভ করে মরমী কবি মছরু মিয়া গান রচনা ও বাউল গান পরিবেশনে কৃতিত্বের পরিচয় দিয়ে গেছেন। তিনি বাউল কামালের পুত্রা সম্পর্কের ঘনিষ্ট আত্মীয় ছিলেন। তাঁর যৌবনের একটি উল্লেখযোগ্য সময় কেটেছে দিরাই থানার ভাটিপাড়া ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে আত্মীয় স্বজনের বাড়ীতে। সংগীত সাধনায় তিনি ঘুরে বেড়িয়েছেন গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে। সুতরাং ঐতিহ্যের দিক দিয়ে ছলিব নূর বাচ্চু পারিবারিকভাবে যেমন একটি সংস্কৃতিপ্রিয় পরিবারের সুযোগ্য ব্যক্তিত্ব তেমনি বিএনপি পরিবারের সদস্য। ১৯৭৭ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমর্থকদের দ্বারা জাতীয়তাবাদী গণতান্ত্রিক দল (জাগদল) গঠিত হলে তার বাবা মছরু মিয়া এ দলের মহকুমা কমিটির সাথে সক্রিয়ভাবে জড়িত ছিলেন। জাগদল ছিল জাতীয়তাবাদীদের একটি প্ল্যাটফর্ম তৈরির প্রথম প্রয়াস। পরবর্তীতে ১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠিত হলে তিনি এ দলের মহকুমা কমিটির সদস্য পদ লাভ করেন। ১৯৯৮ সালের ১১ অক্টোবর বাউল মছরু মিয়া মৃত্যুবরনের পূর্ব পর্যন্ত বিএনপির রাজনীতির সাথেই সম্পৃক্ত ছিলেন। অনুসন্ধানে জানা গেছে শান্তিগঞ্জ উপজেলার পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নের শতকরা ৮২ জন নাগরিকই সংস্কৃতিপ্রিয়। বাউল সাধক মছরু মিয়ার অবর্তমানে সংস্কৃতিপ্রিয় নাগরিকগন যেন কাঙ্কিত উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির রাজনীতির ছন্দ হারিয়ে ফেলেছেন। তাই আগামী দিনের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রায় পূর্ব বীরগাঁও ইউনিয়নকে এগিয়ে নিতে সাধারন লোকজন গীতিকবি ও ইউনিয়নের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান মছরু মিয়ার সুযোগ্য উত্তরাধিকারী মোঃ ছলিব নূর বাচ্চুকেই চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত করতে চান।