কক্সবাজারের চকরিয়ায় পুলিশের দুই দফা বিশেষ অভিযানে তিনটি দেশীয় তৈরি আগ্নেয়াস্ত্র ও বিপুল পরিমাণ গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়েছে। অভিযানে মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি ও শর্টগানের কার্তুজসহ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় সংঘবদ্ধ ডাকাতদলের ছয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বদরখালী ইউনিয়নের দুর্গম পশ্চিম ছনুয়াপাড়া ও হালকাচাপাড়া এলাকায় পৃথক এ অভিযান চালানো হয়। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে চকরিয়া থানার সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান সহকারী পুলিশ সুপার (চকরিয়া সার্কেল) মো. আবদুল আজিজ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার রাত পৌনে ১০টার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম ছনুয়াপাড়া এলাকার একটি বসতঘরে সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ডাকাতির প্রস্তুতি নিচ্ছে এমন গোপন সংবাদ পায় পুলিশ।
পরে চকরিয়া থানার ওসি আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। দুর্গম এলাকায় গাড়ি নিয়ে প্রবেশের সুযোগ না থাকায় পুলিশ সদস্যরা গাড়ি রেখে প্রায় দুই কিলোমিটার পথ পায়ে হেঁটে রাতের অন্ধকারে ঘটনাস্থলে পৌঁছান। এরপর কৌশলে বসতঘরটি ঘেরাও করা হয়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে কয়েকজন পালানোর চেষ্টা করলেও ঘটনাস্থল থেকে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় অজ্ঞাতনামা আরও কয়েকজন পালিয়ে যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন রাজিব ওরফে শুটার রাজিব(২৬), নমি উদ্দিন ওরফে নমি ডাকাত(৪০), জসিম উদ্দিন ওরফে জসু ডাকাত(২৬), মো. সাগর রানা ওরফে শুটার সাগর(২০) এবং জহুরা বেগম(৪৫)। অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে একটি দেশীয় তৈরি দুইনলা রাইফেল, একটি দেশীয় তৈরি একনলা রাইফেল ও একটি দেশীয় শর্টগান উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ৫৮ রাউন্ড রাইফেলের গুলি, ৫৫ রাউন্ড পিস্তলের গুলি, দুই রাউন্ড তাজা শর্টগানের কার্তুজ, দুই রাউন্ড কার্তুজের খোসা, একটি ক্লিনিং রড, অস্ত্র ও গোলাবারুদ তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। এ সময় তিনটি অ্যান্ড্রয়েড ও তিনটি বাটন মোবাইল ফোনও জব্দ করা হয়। পুলিশ জানায়, প্রথম অভিযানে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একই রাতে দ্বিতীয় দফায় অভিযান চালানো হয়। রাত সোয়া ১০টার দিকে বদরখালী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের হালকাচাপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করা হয়। দ্বিতীয় অভিযানে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে শহর বানু(৫৫) নামের এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার বসতঘরের পেছনের পুকুরে তল্লাশি চালিয়ে একটি সাদা প্লাস্টিকের বস্তা উদ্ধার করা হয়। ওই বস্তার ভেতর থেকে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করে পুলিশ। অর্থাৎ, দুই দফা অভিযানে মোট ৮২৫ রাউন্ড রাইফেলের গুলি উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথম অভিযানে ৫৮ রাউন্ড এবং দ্বিতীয় অভিযানে ৭৬৭ রাউন্ড রাইফেলের গুলি পাওয়া যায়। অস্ত্র-গুলি তৈরি ও ডাকাতিতে জড়িত থাকার দাবি চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরিফুর রহমান বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী তারা ওই এলাকায় অস্ত্র ও গুলি তৈরি, কেনাবেচা এবং ডাকাতদের কাছে অস্ত্র ভাড়া দেওয়ার সঙ্গে জড়িত। তিনি বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চকরিয়া থানা এলাকায় বিভিন্ন সড়ক ডাকাতি এবং আন্তঃজেলা ডাকাতির সঙ্গে জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। উদ্ধার করা অস্ত্র ও গোলাবারুদ ব্যবহার করে এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি, সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা এবং বিভিন্ন মাছের ঘেরসহ বিভিন্ন স্থানে ডাকাতির পরিকল্পনা ও কার্যক্রমের সঙ্গে তারা সম্পৃক্ত ছিল বলেও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় সংঘবদ্ধ ডাকাতির সঙ্গে তাদের সম্পৃক্ততার বিষয়ে পুলিশকে তথ্য দিয়েছে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা বলে জানিয়েছে থানা সূত্র। পুলিশ সূত্র আরও জানায়, এ ঘটনায় আরও কয়েকজনের নাম পাওয়া গেছে। তাদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পূর্বের একাধিক ডাকাতি, হত্যা ও অন্যান্য অপরাধের মামলা রয়েছে কি না, সেসব তথ্যও যাচাই-বাছাই করা। সহকারী পুলিশ সুপার মো. আবদুল আজিজ বলেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অবৈধ অস্ত্র ও গোলাবারুদ রাখার অপরাধে অস্ত্র আইনে এবং ডাকাতির প্রস্তুতি ও ডাকাতির উদ্দেশ্যে সমবেত হওয়ার ঘটনায় প্রচলিত আইনে পৃথক মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে। তিনি বলেন, চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজির নির্দেশনা অনুযায়ী মাদক, অবৈধ অস্ত্র, ডাকাতি, সন্ত্রাসী কর্মকা-সহ সব ধরনের অপরাধের বিরুদ্ধে চকরিয়া থানা পুলিশের অভিযান অব্যাহত থাকবে।
সংবাদ শিরোনাম
চকরিয়ায় পুলিশের দুই দফা অভিযানে অস্ত্র-গুলি উদ্ধার: গ্রেপ্তার ৬
-
অলি উল্লাহ রনি (স্টাফ রিপোর্টার) কক্সবাজার - আপডেট সময় ০৭:৪৪:১৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 72
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























