ঢাকা ০২:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০২ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর Logo ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা গণতন্ত্রের শক্তি : মাহদী আমিন Logo রাজনৈতিক পরিচয়ে কারো প্রতি বৈষম্য হবে না : ৪৯তম বিসিএস প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo শাপলা এখন শরীয়তপুরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবিকায়নের অংশ Logo বিনিয়োগ, এলএনজি সরবরাহ ও দক্ষতা উন্নয়নে অস্ট্রেলিয়ার সহযোগিতা বাড়ানোর আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo সরকার সর্বশক্তি দিয়ে দেশে আইনের সমান প্রয়োগ নিশ্চিত করবে: প্রধানমন্ত্রী Logo দল ছেড়ে ৬ মাসের নিষেধাজ্ঞার শঙ্কায় রোনালদো Logo কতদিন পরপর ফোন বদলাবেন? Logo মিষ্টি ভালো লাগলেও কম খাবেন যারা Logo ‘দুনিয়াদারি হোক যাই ভেতরে রবের জিকির চাই’, মিশা সওদাগর

পাঁচবিবিতে কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন

আমাদের দেশের কৃষকরা সাধারণত কৃষি বিপণন ভেবেই কলা চাষ করে থাকে। কলা গাছ পরিপুক্ত হলে কলা ধরে আর কৃষকরা শুধুমাত্র কলা সংগ্রহ করে গাছ নয়। গাছগুলো আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় হিসেবে কেটে ফেলে দেয়। কৃষকরা জানেনা কলা গাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা হয় এবং এর মূল্য আছে। একটি কলা গাছ থেকে প্রায় ২’শ গ্রাম সুতা পাওয়া যায়। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার গণেশপুরে এই প্রথম কলা গাছের বাকল থেকে সুতা তৈরি করছে রেজভী নামের এক যুবক। তিনি ঢাকা গাজীপুর কোনাবাড়িতে অন্যের কোম্পানি আড়ায় বছর শ্রমিকের কাজ করে। এই সুযোগে সে কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি করা আত্ব করেন। উপজেলার উচিতপুর (খুনার পাড়া) গ্রামের শাহীন আলমের ছেলে রিয়াছাদ রেজভী প্রথমে ৮০ হাজার টাকায় একটি পুরনো মেশিন দিয়ে এ কাজ আরম্ভ করে। ছেলে রেজভীর কর্মক্ষেত্রে বাবা শাহিন সহ ১০-১২ জন শ্রমিকের কাজ করছেন। রেজভী বলেন, এ কাজে তেমন পুঁজি লাগে না। কারন কৃষক তাদের জমিতে লাগানো গাছ কেটে শুধু কলা নিয়ে যায় গাছগুলো আবর্জনা ভেবে ফেলে দেয়। আমরা পরিত্যক্ত কলাগাছ নিলে কৃষকরা নিষেধ করে না বরং নিয়ে যেতে বলে। পৌরসভার গণেশপুর মহল্লার আব্বাস আলী শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, মাঠে ঘাটে অন্য কাজের তুলনায় কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির কাজ সহজ ও আরামদায়ক। উদ্যোক্তা রেজভী জানায়, কলা গাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা উৎপাদন অত্যন্ত লাভজনক। তিনি আরো বলেন, কলার বাকল থেকে সুতা সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন সম্ভব। কৃষক পর্যায়ে বার্মি কম্পোস্টের ব্যাপক চাহিদা আছে। সরকারি ভাবে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া গেলে এ কাজটির প্রসার ঘটানো যেত এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, কলাগাছের কা-ে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক তন্তু পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল, যা কৃষি বর্জ্যকে মূল্যবান সুতা হিসেবে রূপান্তরের সম্ভাবনা রাখে। কলাতন্তুর সুতা দিয়ে রশি, ব্যাগ, ম্যাট, ও পোশাক তৈরি সম্ভব, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই ফ্যাশনকে নতুন দিশা দিতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর

পাঁচবিবিতে কলাগাছ থেকে সুতা উৎপাদন

আপডেট সময় ০৪:৫৪:২৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬

আমাদের দেশের কৃষকরা সাধারণত কৃষি বিপণন ভেবেই কলা চাষ করে থাকে। কলা গাছ পরিপুক্ত হলে কলা ধরে আর কৃষকরা শুধুমাত্র কলা সংগ্রহ করে গাছ নয়। গাছগুলো আবর্জনা বা অপ্রয়োজনীয় হিসেবে কেটে ফেলে দেয়। কৃষকরা জানেনা কলা গাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা হয় এবং এর মূল্য আছে। একটি কলা গাছ থেকে প্রায় ২’শ গ্রাম সুতা পাওয়া যায়। জয়পুরহাটের পাঁচবিবি পৌরসভার গণেশপুরে এই প্রথম কলা গাছের বাকল থেকে সুতা তৈরি করছে রেজভী নামের এক যুবক। তিনি ঢাকা গাজীপুর কোনাবাড়িতে অন্যের কোম্পানি আড়ায় বছর শ্রমিকের কাজ করে। এই সুযোগে সে কলাগাছ থেকে সুতা তৈরি করা আত্ব করেন। উপজেলার উচিতপুর (খুনার পাড়া) গ্রামের শাহীন আলমের ছেলে রিয়াছাদ রেজভী প্রথমে ৮০ হাজার টাকায় একটি পুরনো মেশিন দিয়ে এ কাজ আরম্ভ করে। ছেলে রেজভীর কর্মক্ষেত্রে বাবা শাহিন সহ ১০-১২ জন শ্রমিকের কাজ করছেন। রেজভী বলেন, এ কাজে তেমন পুঁজি লাগে না। কারন কৃষক তাদের জমিতে লাগানো গাছ কেটে শুধু কলা নিয়ে যায় গাছগুলো আবর্জনা ভেবে ফেলে দেয়। আমরা পরিত্যক্ত কলাগাছ নিলে কৃষকরা নিষেধ করে না বরং নিয়ে যেতে বলে। পৌরসভার গণেশপুর মহল্লার আব্বাস আলী শ্রমিকের কাজ করেন। তিনি বলেন, মাঠে ঘাটে অন্য কাজের তুলনায় কলাগাছের বাকল থেকে সুতা তৈরির কাজ সহজ ও আরামদায়ক। উদ্যোক্তা রেজভী জানায়, কলা গাছের বাকল থেকে ফাইবার বা সুতা উৎপাদন অত্যন্ত লাভজনক। তিনি আরো বলেন, কলার বাকল থেকে সুতা সংরক্ষণের পর অবশিষ্ট অংশ দিয়ে বার্মি কম্পোস্ট বা কেঁচো সার উৎপাদন সম্ভব। কৃষক পর্যায়ে বার্মি কম্পোস্টের ব্যাপক চাহিদা আছে। সরকারি ভাবে স্বল্প সুদে ঋণ পাওয়া গেলে এ কাজটির প্রসার ঘটানো যেত এতে অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হতো। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ জসিম উদ্দিন বলেন, কলাগাছের কা-ে প্রাপ্ত প্রাকৃতিক তন্তু পরিবেশবান্ধব ও বায়োডিগ্রেডেবল, যা কৃষি বর্জ্যকে মূল্যবান সুতা হিসেবে রূপান্তরের সম্ভাবনা রাখে। কলাতন্তুর সুতা দিয়ে রশি, ব্যাগ, ম্যাট, ও পোশাক তৈরি সম্ভব, যা গ্রামীণ অর্থনীতি ও টেকসই ফ্যাশনকে নতুন দিশা দিতে পারে।