ঢাকা ১২:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬, ১৯ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মালয়েশিয়া যুবদলের সহ-সভাপতি টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল হাকিম দেওয়ান, নিজ এলাকায় ফুলেল সংবর্ধনা Logo পাবনায় শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপন উপলক্ষে জেলা প্রশাসকের প্রস্তুতিমূলক সভা Logo নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগে কুড়িগ্রামে মাদ্রাসায় বিক্ষোভ, ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের পদত্যাগ Logo নিরাপদ সড়কের দাবিতে লালমনিরহাট বুড়িমারী সড়কের পাটগ্রামের ঘুন্টিবাজারে শিক্ষক শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসীর মানববন্ধন Logo মিরসরাইয়ে কৃতি শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দিল ছাত্রদল Logo কর্তৃপক্ষের গাফিলতিতে ৮ বছরেও চালু হয়নি বারোবাজার হাটচাঁদনী Logo ইলিয়াস-নয়নের নেতৃত্বে লালমোহনে ছাত্রদলের আনন্দ মিছিল Logo চান্দগাঁও থানা মধ্যম মোহরায় ফ্রী চিকিৎসা সেবা দিয়েছেন লায়ন্সক্লাব অব তিলোত্তমা Logo কেরাণীগঞ্জে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ঢাকা জেলা পুলিশ সুপারের সচেতনতামূলক সভা Logo সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৭ জনের দাফন

ব্রিকসে বিশ্ব নেতাদের নৈশভোজে নিরামিষ ‘চাপিয়ে দিয়ে’ তোপের মুখে মোদি সরকার

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, সরকার ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে বিদেশী প্রতিনিধিদের ওপর নিজস্ব পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে। পাল্টা জবাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জানিয়েছে, বিরোধীরা কূটনৈতিক সাফল্য বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক খাবার নিয়ে রাজনীতি করছে।
কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ (টুইটার) পোস্ট করে লিখেছেন, “তথ্যের জন্য জানিয়ে রাখা ভালো: ভারতের ৮০% মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু—যেমনটা আমার বোনের হাতের ছোলে ভাটুরে।” পোস্টটিতে সরাসরি ব্রিকসের নাম না থাকলেও তা মেনু বিতর্ককেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “বিজেপির অভ্যাস হয়ে গেছে নিজের খাদ্যপছন্দ অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এবার তারা বিশ্বনেতাদের ওপরও তা চাপাতে শুরু করেছে।”প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়োজিত এই নৈশভোজে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ পদ পরিবেশন করা হয়:
স্টার্টার: খাঁণ্ডভি মিল, মাশরুম গালোটি কাবাব, পুদিনার মুক্তো ও শিরমাল রুটি। মূল খাবার: পনির লবাবদার, হিমালয়ের বিশেষ মোরেল মাশরুমের ‘গুচ্ছি মার্মিক’, ক্যারেট বিন পোরিয়াল, মিলেট পোলাও এবং বিট রাইতা।
ডেজার্ট: ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম, জিলিপি এবং মালবেরিযুক্ত তুত ফিরনি। তবে বিদেশি অতিথিদের নিজ নিজ হোটেলে তাদের পছন্দমতো খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও ছিল, যেখানে ‘নল্লি নিহারী’র মতো আমিষ পদও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি ও আত্মপক্ষ সমর্থন
বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের এই সমালোচনাকে পুরোপুরি খারিজ করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, বিশ্বনেতারা ভারতীয় নিরামিষ খাবারের সমৃদ্ধ স্বাদ ও পুষ্টিমানের প্রশংসা করেছেন।বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারীর মতে, “সম্মেলনের কোনো খামতি খুঁজে না পেয়ে বিরোধীরা এখন খাবারের তালিকায় রাজনীতি খুঁজছে।”
শি জিনপিংকে ঘিরে গুঞ্জন
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নৈশভোজে উপস্থিত না থাকায় সামাজিক মাধ্যমে রটে যায় যে তিনি নিরামিষ খাবারের কারণেই যোগ দেননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও প্রথম দিনের ব্যস্ত সূচির ক্লান্তির কারণেই তিনি বিশ্রামে গিয়েছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মালয়েশিয়া যুবদলের সহ-সভাপতি টঙ্গীবাড়ীর আব্দুল হাকিম দেওয়ান, নিজ এলাকায় ফুলেল সংবর্ধনা

ব্রিকসে বিশ্ব নেতাদের নৈশভোজে নিরামিষ ‘চাপিয়ে দিয়ে’ তোপের মুখে মোদি সরকার

আপডেট সময় ০৮:৩৪:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নয়াদিল্লির ভারত মণ্ডপমে আয়োজিত ব্রিকস শীর্ষ সম্মেলনের নৈশভোজে শুধুমাত্র নিরামিষ খাবার পরিবেশনকে কেন্দ্র করে ভারতের জাতীয় রাজনীতিতে তীব্র বিতর্ক শুরু হয়েছে। কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, সরকার ভারতের বৈচিত্র্যময় খাদ্যসংস্কৃতিকে উপেক্ষা করে বিদেশী প্রতিনিধিদের ওপর নিজস্ব পছন্দ চাপিয়ে দিচ্ছে। পাল্টা জবাবে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) জানিয়েছে, বিরোধীরা কূটনৈতিক সাফল্য বাদ দিয়ে অপ্রাসঙ্গিক খাবার নিয়ে রাজনীতি করছে।
কংগ্রেস নেতা ও লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স-এ (টুইটার) পোস্ট করে লিখেছেন, “তথ্যের জন্য জানিয়ে রাখা ভালো: ভারতের ৮০% মানুষ আমিষভোজী। ভারতীয় আমিষ খাবার অত্যন্ত সুস্বাদু—যেমনটা আমার বোনের হাতের ছোলে ভাটুরে।” পোস্টটিতে সরাসরি ব্রিকসের নাম না থাকলেও তা মেনু বিতর্ককেই ইঙ্গিত করে বলে মনে করা হচ্ছে।
কংগ্রেসের প্রচার বিভাগের প্রধান পবন খেরা সরাসরি আক্রমণ করে বলেন, “বিজেপির অভ্যাস হয়ে গেছে নিজের খাদ্যপছন্দ অন্যদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া। এবার তারা বিশ্বনেতাদের ওপরও তা চাপাতে শুরু করেছে।”প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর আয়োজিত এই নৈশভোজে ভারতের বিভিন্ন অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী নিরামিষ পদ পরিবেশন করা হয়:
স্টার্টার: খাঁণ্ডভি মিল, মাশরুম গালোটি কাবাব, পুদিনার মুক্তো ও শিরমাল রুটি। মূল খাবার: পনির লবাবদার, হিমালয়ের বিশেষ মোরেল মাশরুমের ‘গুচ্ছি মার্মিক’, ক্যারেট বিন পোরিয়াল, মিলেট পোলাও এবং বিট রাইতা।
ডেজার্ট: ওল্ড দিল্লি ফ্রুট ক্রিম, জিলিপি এবং মালবেরিযুক্ত তুত ফিরনি। তবে বিদেশি অতিথিদের নিজ নিজ হোটেলে তাদের পছন্দমতো খাবার পরিবেশনের ব্যবস্থাও ছিল, যেখানে ‘নল্লি নিহারী’র মতো আমিষ পদও অন্তর্ভুক্ত রাখা হয়।
বিজেপির পাল্টা যুক্তি ও আত্মপক্ষ সমর্থন
বিজেপি নেতারা কংগ্রেসের এই সমালোচনাকে পুরোপুরি খারিজ করেছেন। কেন্দ্রীয় সংসদীয় বিষয়ক মন্ত্রী কিরেণ রিজিজু জানান, বিশ্বনেতারা ভারতীয় নিরামিষ খাবারের সমৃদ্ধ স্বাদ ও পুষ্টিমানের প্রশংসা করেছেন।বিজেপি মুখপাত্র প্রদীপ ভান্ডারীর মতে, “সম্মেলনের কোনো খামতি খুঁজে না পেয়ে বিরোধীরা এখন খাবারের তালিকায় রাজনীতি খুঁজছে।”
শি জিনপিংকে ঘিরে গুঞ্জন
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নৈশভোজে উপস্থিত না থাকায় সামাজিক মাধ্যমে রটে যায় যে তিনি নিরামিষ খাবারের কারণেই যোগ দেননি। তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে, দীর্ঘ বিমানযাত্রা ও প্রথম দিনের ব্যস্ত সূচির ক্লান্তির কারণেই তিনি বিশ্রামে গিয়েছিলেন।