ঢাকা ১১:০৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা Logo সতবিন্দর এবং হরজিৎ: ভারতকে না জানিয়েই যাদের শিরচ্ছেদ করে সউদী Logo একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: বিরোধীদলীয় নেতা Logo বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন হুমায়ুন Logo লক্ষ্মীপূজা আজ Logo শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, থাকছে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ Logo বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর Logo নতুন কোচ মাকেতার ক্লাসে মুশফিক-মুমিনুল-শান্তরা Logo কার্যকর এআই তৈরিতে মনোযোগ মাইক্রোসফটেরমাইক্রোসফট

বরিশাল অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫ লাখ গ্রাহকের চরম দুর্ভোগ

তীব্র দাবদহের মধ্যেই নিয়মিত বাড়তি বিদ্যুৎ সংকটে বরিশাল অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহক জাতীয় গ্রীডে সরবারহের হিস্যা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। শহরের চেয়ে পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন সব বর্ণনার বাইরে বলেও অভিযোগ সবার। এ অঞ্চলের পল্লী এলাকার প্রায় ২৫ লাখ আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, সেচ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সংযোগর ওপর অন্তত ৭৫ লাখ মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে লেখাপড়া, চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য নির্ভরশীল। কিন্তু হিস্যা মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহে দায়িত্বশীল পর্যায়ের নজরদারি কম বলেই অভিযোগ রয়েছে।
ফলে বরিশাল অঞ্চলের পল্লী অর্থনীতিতে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমনকি চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের যে স্বল্পসংখ্যক সেচযন্ত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, সেখানেও বিদ্যুৎ ঘাটতিতে উঠতি বোরো ধান নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ইতোপূর্বে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়কে অফপীক আওয়ার ধরে এ সময়ে সেচযন্ত্র চালানোর নির্দেশনা থাকলেও এখন বরিশালে দুপুর থেকে বিদ্যুৎ ছাটাই শুরু হয়ে তা চলছে পরদিন সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত। কোন কোন দিন দিন-রাত লোডসেডিং প্রত্যাহারই হচ্ছে না। ফলে কৃষকগন কখন সেচপাম্প চালাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে বরিশাল অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহকের সান্ধ্যপীক আওয়ারে প্রায় ৫শ মেগাওয়াট চাহিদার ৪০ ভাগও বিদ্যুৎ সরবারহ সম্ভব হচ্ছেনা গত কিছুদিন যাবত। সাথে লো ভোল্টেজে শুধু গ্রাহকের বৈদ্যুতিক স্থাপনাই নয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর অনেক মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও আয়ুস্কাল হারাচ্ছে।
বরিশাল অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৮৯০ এমভিএ ক্ষমতার ৭০ টি ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ হাজার কিলোমিটার ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও .০৪ কেভি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবারহের সুবিধা স্থাপন করলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ।
এক হিসেবে জানা গেছে, বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বিতরণ কোম্পানী ওজোপাডিকো’র প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের জন্য এ অঞ্চলে ডে-পীক ও নাইট-পীক আওয়ারে প্রায় ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরিতে গত কিছুদিন ধরেই ৫০ ভাগের বেশি বিদ্যুৎ সরবারহ সম্ভব হচ্ছে না।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ন্যায্য হিস্যা মাফিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীড থেকে এ অঞ্চলে সরবারহ না করার ফলেই প্রতিনিয়ত বাড়তি ঘাটতিতে পড়ছে বরিশাল অঞ্চল। ফলে এ অঞ্চলের সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যাবস্থা ও জরুরি পানি সরবরাহসহ শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সুস্থ সমাজ ব্যবস্থাই ক্রমশ বিপর্যয়ের কবলে।
এ ব্যপারে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানী পিজিসিবি’র দায়িত্বশীল মহলের সাথে আলাপ করা হলে সবাই পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন বলে জানিয়ে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। অদুর ভবিষ্যতেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দায়িত্বশীল প্রকৌশলীগণ।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

বরিশাল অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ২৫ লাখ গ্রাহকের চরম দুর্ভোগ

আপডেট সময় ০৭:১৭:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

তীব্র দাবদহের মধ্যেই নিয়মিত বাড়তি বিদ্যুৎ সংকটে বরিশাল অঞ্চলের পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহক জাতীয় গ্রীডে সরবারহের হিস্যা অনুযায়ী বিদ্যুৎ না পাওয়ার অভিযোগ উঠছে। শহরের চেয়ে পল্লী এলাকায় বিদ্যুৎ ঘাটতি এখন সব বর্ণনার বাইরে বলেও অভিযোগ সবার। এ অঞ্চলের পল্লী এলাকার প্রায় ২৫ লাখ আবাসিক, বাণিজ্যিক, শিল্প, সেচ ও সেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সংযোগর ওপর অন্তত ৭৫ লাখ মানুষের সুস্থ স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা থেকে শুরু করে লেখাপড়া, চিকিৎসা ব্যবস্থাসহ শিল্প উৎপাদন ও ব্যবসা-বাণিজ্য নির্ভরশীল। কিন্তু হিস্যা মাফিক বিদ্যুৎ সরবরাহে দায়িত্বশীল পর্যায়ের নজরদারি কম বলেই অভিযোগ রয়েছে।
ফলে বরিশাল অঞ্চলের পল্লী অর্থনীতিতে মারাত্মক বিরূপ প্রভাব পড়ছে। এমনকি চলতি মৌসুমে এ অঞ্চলের যে স্বল্পসংখ্যক সেচযন্ত্রে বিদ্যুৎ ব্যবহার হচ্ছে, সেখানেও বিদ্যুৎ ঘাটতিতে উঠতি বোরো ধান নিয়ে কৃষকের দুশ্চিন্তার শেষ নেই। ইতোপূর্বে রাত ১১টা থেকে সকাল ৬টা পর্যন্ত সময়কে অফপীক আওয়ার ধরে এ সময়ে সেচযন্ত্র চালানোর নির্দেশনা থাকলেও এখন বরিশালে দুপুর থেকে বিদ্যুৎ ছাটাই শুরু হয়ে তা চলছে পরদিন সকাল ৮-৯টা পর্যন্ত। কোন কোন দিন দিন-রাত লোডসেডিং প্রত্যাহারই হচ্ছে না। ফলে কৃষকগন কখন সেচপাম্প চালাবেন, তা বুঝে উঠতে পারছেন না।
পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের দায়িত্বশীল সূত্রের মতে বরিশাল অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহকের সান্ধ্যপীক আওয়ারে প্রায় ৫শ মেগাওয়াট চাহিদার ৪০ ভাগও বিদ্যুৎ সরবারহ সম্ভব হচ্ছেনা গত কিছুদিন যাবত। সাথে লো ভোল্টেজে শুধু গ্রাহকের বৈদ্যুতিক স্থাপনাই নয়, পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলোর অনেক মূল্যবান বৈদ্যুতিক সরঞ্জামও আয়ুস্কাল হারাচ্ছে।
বরিশাল অঞ্চলে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ৮৯০ এমভিএ ক্ষমতার ৭০ টি ৩৩/১১ কেভি সাব-স্টেশনের মাধ্যমে প্রায় ৫৫ হাজার কিলোমিটার ৩৩ কেভি, ১১ কেভি ও .০৪ কেভি সঞ্চালন ও বিতরণ লাইনের মাধ্যমে প্রায় ২৫ লাখ গ্রাহককে বিদ্যুৎ সরবারহের সুবিধা স্থাপন করলেও তার সুফল থেকে বঞ্চিত এ অঞ্চলের প্রায় ৭৫ লাখ মানুষ।
এক হিসেবে জানা গেছে, বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি এবং পশ্চিমাঞ্চলীয় বিতরণ কোম্পানী ওজোপাডিকো’র প্রায় ৩০ লাখ গ্রাহকের জন্য এ অঞ্চলে ডে-পীক ও নাইট-পীক আওয়ারে প্রায় ৮শ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরিতে গত কিছুদিন ধরেই ৫০ ভাগের বেশি বিদ্যুৎ সরবারহ সম্ভব হচ্ছে না।
তবে অভিযোগ রয়েছে, দেশে উৎপাদিত বিদ্যুতের ন্যায্য হিস্যা মাফিক বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রীড থেকে এ অঞ্চলে সরবারহ না করার ফলেই প্রতিনিয়ত বাড়তি ঘাটতিতে পড়ছে বরিশাল অঞ্চল। ফলে এ অঞ্চলের সুষ্ঠু চিকিৎসা ব্যাবস্থা ও জরুরি পানি সরবরাহসহ শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যসহ সুস্থ সমাজ ব্যবস্থাই ক্রমশ বিপর্যয়ের কবলে।
এ ব্যপারে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড, ওজোপাডিকো এবং বিদ্যুৎ সঞ্চালন কোম্পানী পিজিসিবি’র দায়িত্বশীল মহলের সাথে আলাপ করা হলে সবাই পুরো বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ অবগত আছেন বলে জানিয়ে উৎপাদন ঘাটতির কারণেই সাময়িক কিছু সমস্যা হচ্ছে বলে জানান। অদুর ভবিষ্যতেই এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণ ঘটবে বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন দায়িত্বশীল প্রকৌশলীগণ।