ঢাকা ১০:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২৬, ১৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী Logo বাংলাদেশের পর্যটন খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় যুক্তরাজ্য : ব্রিটিশ হাইকমিশনার Logo ক্যালিফোর্নিয়ায় গুগলের সদর দপ্তর পরিদর্শন বাংলাদেশ প্রতিনিধিদলের Logo ১৯ কার্গো এলএনজি আসছে ঘাটতির আশংকা নেই Logo দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীনের প্রতি সহায়তার আহ্বান রাষ্ট্রপতির Logo বিএনপি সরকারের উদ্যোগ : তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন কার্যক্রম শুরু Logo বাংলাদেশের বিপক্ষে শক্তিশালী স্কোয়াড ঘোষণা করল অস্ট্রেলিয়া Logo ফোন নীরবে যে ৪ কাজ করে Logo ডেঙ্গু প্রতিরোধ ঘর থেকেই শুরু হোক Logo মনের জটিল জট খোলার মতো ১০টি সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার সিনেমা

বদলে যাচ্ছে মহাখালীর চেহারা, সড়ক ছাড়ছে অপেক্ষমাণ বাস

রাজধানীর ব্যস্ত মহাখালী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক দখলের চিত্র চিরচেনা। যানজট ও ভোগান্তি কমাতে শুরু হয়েছে বড় ধরনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ। টার্মিনাল ও প্রধান সড়কে দীর্ঘ সময় বাস দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করে অপেক্ষমাণ বাসগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে। নতুন ব্যবস্থায় যাত্রার সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আগে বাস টার্মিনালে ঢুকবে, যাত্রী তুলবে এবং দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী এলাকার সড়কে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা। এরইমধ্যে পূর্বাচল অস্থায়ী বাস ডিপোতে আন্তঃজেলা বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির তথ্যমতে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত ডিপোটিতে অবস্থান করছে মোট ৯১টি বাস।
মালিক সমিতির দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত পূর্বাচল অস্থায়ী ডিপোতে মোট ৭৪টি বাস প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ১০টি বাস ডিপো থেকে বের হয়েছে। নিয়মিতভাবে ডিপোতে রয়েছে ৬৪টি বাস। এর বাইরে আগে থেকেই অবস্থানরত ছিল ২৩টি এবং মহাখালী টার্মিনাল থেকে নতুন করে ডাম্পিং করা হয়েছে আরও চারটি আন্তঃজেলা বাস। সব মিলিয়ে বর্তমানে ডিপোটিতে অবস্থানরত বাসের সংখ্যা ৯১টি।
৩ থেকে ৮ ঘণ্টা বিরতির বাস যাবে ডিপোতে
মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, মহাখালী ও আশপাশের এলাকার যানজট কমাতে এরইমধ্যে পূর্বাচলের ডিপোতে বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব বাসের ট্রিপের মাঝে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা বিরতি থাকে, সেসব বাস টার্মিনাল বা প্রধান সড়কে না রেখে সরাসরি ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাস ডিপোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি বাস রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ হলে আরও ৫০ থেকে ৬০টি বাস রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ রয়েছে, মূলত সেসব বাসকেই নির্ধারিত সময়ের আগে টার্মিনালে প্রবেশ ও অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ট্রিপ রয়েছে—এমন বাসগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী টার্মিনালে রাখা হচ্ছে।
মহাখালীর মূল সড়কে যাত্রী তোলা বন্ধ
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে মহাখালী টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে। সেখানে দাঁড়িয়ে বাসে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত স্টপেজ বা কাউন্টার থেকেই যাত্রী তুলতে হবে বাসগুলোকে। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর গেট লক করে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে হবে।
নিয়ম ভেঙে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হলে সংশ্লিষ্ট চালক ও বাসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মালিক সমিতি। নিয়ম ভেঙে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুললে তিন থেকে চারদিনের জন্য বাস বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক বাস এরইমধ্যে শাস্তি ভোগ করেছে।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি বাস সিরিয়াল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বের হচ্ছে। এরপর সড়কে উঠেও কোনো বাসকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। যাত্রী তুলে সরাসরি বাস ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
প্রতিদিনের ট্রিপের বাইরে বাস থাকবে ডিপোতে
মহাখালীতে এতদিনের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সময় অবস্থান। বিভিন্ন রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে রাতের ট্রিপ পর্যন্ত দিনের বড় একটি সময় টার্মিনাল ও টার্মিনালের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকত। এতে একদিকে সড়কের জায়গা দখল হতো, অন্যদিকে তৈরি হতো যানজট। দিনভর যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের।
নতুন ব্যবস্থায় এই চিত্র বদলানোর চেষ্টা চলছে। কোনো বাসের পরবর্তী ট্রিপ যদি কয়েক ঘণ্টা পরে হয়, তাহলে সেটি মহাখালীতে অপেক্ষা না করে পূর্বাচলের ডিপোতে যাবে। ট্রিপের নির্ধারিত সময়ের আগে আবার মহাখালীতে এসে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, পূর্বাচলের ডিপোর কিছু অবকাঠামোগত কাজ এখনো শেষ হয়নি। অতিবৃষ্টিতে সেখানে রাখা বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।
তিনি বলেন, তবে এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষমাণ বাসগুলো পূর্বাচলের ডিপোতে পাঠানো হবে। মহাখালীতে মূলত রানিং (চলমান) অপারেটিং (পরিচালনাধীন) বাস থাকবে এবং সেখানে যাত্রী পিক-আপ (ওঠানো) ও ড্রপ (নামানোর) ব্যবস্থা থাকবে।
৭২ ঘণ্টায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মহাখালীর দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক দখলের সমস্যা দূর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে সকালে ঢাকায় আসা বাসগুলোর একটি বড় অংশ রাতের ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বেশিরভাগ সময় মহাখালী এলাকায় অবস্থান করত। নির্দিষ্ট ডিপো না থাকায় সড়কেই বাস দাঁড়িয়ে থাকত। ফলে তৈরি হতো তীব্র যানজট। এ সমস্যা সমাধানে রাজউকের পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রিপের মধ্যবর্তী সময়ে বাসগুলো মহাখালীর সড়কে না থেকে পূর্বাচলের ডিপোতে অবস্থান করবে।
পরিবর্তন আসবে সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়ায়ও
জানা গেছে, মহাখালীর পর একই ধরনের ব্যবস্থাপনা রাজধানীর অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদেও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবস্থাপনাকে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র গড়ে ওঠা টিকিট কাউন্টার সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালগুলো সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে যাত্রীরা ই-টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
১৫ জুলাই শুরু হয় পূর্বাচলে বাস স্থানান্তর
মহাখালী থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৫ জুলাই। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, বাসগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট ডিপোতে রাখার ফলে মহাখালী এলাকায় যানজট কমবে, যাত্রীসেবা উন্নত হবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে ডিপোর অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া এবং বাসকর্মীদের সুযোগ-সুবিধাসহ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনোর কথা জানিয়েছে পরিবহন মালিকপক্ষ।
বর্তমানে পূর্বাচল ডিপোতে ৯১টি বাস অবস্থান করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বাস সেখানে স্থানান্তর এবং মহাখালীর সড়কে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার মাধ্যমে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

দুর্গাপূজা পালনে সকল নিরাপত্তা প্রস্তুতি সম্পন্ন : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

বদলে যাচ্ছে মহাখালীর চেহারা, সড়ক ছাড়ছে অপেক্ষমাণ বাস

আপডেট সময় ০৬:৩৫:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাজধানীর ব্যস্ত মহাখালী এলাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক দখলের চিত্র চিরচেনা। যানজট ও ভোগান্তি কমাতে শুরু হয়েছে বড় ধরনের ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উদ্যোগ। টার্মিনাল ও প্রধান সড়কে দীর্ঘ সময় বাস দাঁড়িয়ে থাকা বন্ধ করে অপেক্ষমাণ বাসগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে। নতুন ব্যবস্থায় যাত্রার সর্বোচ্চ ৪৫ মিনিট আগে বাস টার্মিনালে ঢুকবে, যাত্রী তুলবে এবং দ্রুত গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
প্রশাসনের লক্ষ্য, আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মহাখালী এলাকার সড়কে দৃশ্যমান পরিবর্তন আনা। এরইমধ্যে পূর্বাচল অস্থায়ী বাস ডিপোতে আন্তঃজেলা বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে।
মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির তথ্যমতে, ১৬ সেপ্টেম্বর সকাল ১০টা পর্যন্ত ডিপোটিতে অবস্থান করছে মোট ৯১টি বাস।
মালিক সমিতির দৈনিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, এদিন সকাল ১০টা পর্যন্ত পূর্বাচল অস্থায়ী ডিপোতে মোট ৭৪টি বাস প্রবেশ করেছে। এর মধ্যে ১০টি বাস ডিপো থেকে বের হয়েছে। নিয়মিতভাবে ডিপোতে রয়েছে ৬৪টি বাস। এর বাইরে আগে থেকেই অবস্থানরত ছিল ২৩টি এবং মহাখালী টার্মিনাল থেকে নতুন করে ডাম্পিং করা হয়েছে আরও চারটি আন্তঃজেলা বাস। সব মিলিয়ে বর্তমানে ডিপোটিতে অবস্থানরত বাসের সংখ্যা ৯১টি।
৩ থেকে ৮ ঘণ্টা বিরতির বাস যাবে ডিপোতে
মহাখালী বাস টার্মিনাল বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুল ইসলাম বাবুল জাগো নিউজকে বলেন, মহাখালী ও আশপাশের এলাকার যানজট কমাতে এরইমধ্যে পূর্বাচলের ডিপোতে বাস স্থানান্তর শুরু হয়েছে। বিশেষ করে যেসব বাসের ট্রিপের মাঝে ৩ থেকে ৮ ঘণ্টা বিরতি থাকে, সেসব বাস টার্মিনাল বা প্রধান সড়কে না রেখে সরাসরি ডিপোতে পাঠানো হচ্ছে। প্রতিদিন প্রায় ১০০টি বাস ডিপোতে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বর্তমানে সেখানে প্রায় ২০০টি বাস রাখার সুযোগ তৈরি হয়েছে। অবশিষ্ট কাজ শেষ হলে আরও ৫০ থেকে ৬০টি বাস রাখা সম্ভব হবে।
তিনি বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে যেসব বাসের পরবর্তী ট্রিপ রয়েছে, মূলত সেসব বাসকেই নির্ধারিত সময়ের আগে টার্মিনালে প্রবেশ ও অবস্থানের সুযোগ দেওয়া হচ্ছে। ২ থেকে ৩ ঘণ্টার মধ্যে ট্রিপ রয়েছে—এমন বাসগুলোকে প্রয়োজন অনুযায়ী টার্মিনালে রাখা হচ্ছে।
মহাখালীর মূল সড়কে যাত্রী তোলা বন্ধ
নতুন ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় পরিবর্তন আসছে মহাখালী টার্মিনালের সামনের প্রধান সড়কে। সেখানে দাঁড়িয়ে বাসে যাত্রী তোলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। নির্ধারিত স্টপেজ বা কাউন্টার থেকেই যাত্রী তুলতে হবে বাসগুলোকে। টার্মিনাল থেকে বের হওয়ার পর গেট লক করে সরাসরি গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হতে হবে।
নিয়ম ভেঙে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তোলা হলে সংশ্লিষ্ট চালক ও বাসের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানিয়েছে মালিক সমিতি। নিয়ম ভেঙে প্রধান সড়কে বাস দাঁড় করিয়ে যাত্রী তুললে তিন থেকে চারদিনের জন্য বাস বন্ধ রাখার মতো ব্যবস্থাও রয়েছে। অনেক বাস এরইমধ্যে শাস্তি ভোগ করেছে।
বুধবার বিকেলে সরেজমিনে মহাখালী বাস টার্মিনাল ঘুরে দেখা গেছে, প্রত্যেকটি বাস সিরিয়াল অনুযায়ী টার্মিনাল থেকে বের হচ্ছে। এরপর সড়কে উঠেও কোনো বাসকে দাঁড়াতে দেখা যায়নি। যাত্রী তুলে সরাসরি বাস ছেড়ে যাচ্ছে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।
প্রতিদিনের ট্রিপের বাইরে বাস থাকবে ডিপোতে
মহাখালীতে এতদিনের অন্যতম বড় সমস্যা ছিল দূরপাল্লার বাসের দীর্ঘ সময় অবস্থান। বিভিন্ন রুটের বাস সকালে ঢাকায় এসে রাতের ট্রিপ পর্যন্ত দিনের বড় একটি সময় টার্মিনাল ও টার্মিনালের সামনের সড়কে দাঁড়িয়ে থাকত। এতে একদিকে সড়কের জায়গা দখল হতো, অন্যদিকে তৈরি হতো যানজট। দিনভর যানজটে ভোগান্তিতে পড়তে হতো বিমানবন্দরগামী যাত্রীদের।
নতুন ব্যবস্থায় এই চিত্র বদলানোর চেষ্টা চলছে। কোনো বাসের পরবর্তী ট্রিপ যদি কয়েক ঘণ্টা পরে হয়, তাহলে সেটি মহাখালীতে অপেক্ষা না করে পূর্বাচলের ডিপোতে যাবে। ট্রিপের নির্ধারিত সময়ের আগে আবার মহাখালীতে এসে যাত্রী নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাবে।
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব সাইফুল আলম জাগো নিউজকে বলেন, পূর্বাচলের ডিপোর কিছু অবকাঠামোগত কাজ এখনো শেষ হয়নি। অতিবৃষ্টিতে সেখানে রাখা বাস তলিয়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। বাসকর্মীদের থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থাও পুরোপুরি সম্পন্ন হয়নি।
তিনি বলেন, তবে এসব কাজ শেষ হলে দীর্ঘ সময়ের জন্য অপেক্ষমাণ বাসগুলো পূর্বাচলের ডিপোতে পাঠানো হবে। মহাখালীতে মূলত রানিং (চলমান) অপারেটিং (পরিচালনাধীন) বাস থাকবে এবং সেখানে যাত্রী পিক-আপ (ওঠানো) ও ড্রপ (নামানোর) ব্যবস্থা থাকবে।
৭২ ঘণ্টায় দৃশ্যমান পরিবর্তনের লক্ষ্য
ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, মহাখালীর দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক দখলের সমস্যা দূর করতে এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে এলাকায় দৃশ্যমান পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
তিনি বলেন, উত্তরবঙ্গসহ দেশের বিভিন্ন দূরপাল্লার রুট থেকে সকালে ঢাকায় আসা বাসগুলোর একটি বড় অংশ রাতের ট্রিপের অপেক্ষায় দিনের বেশিরভাগ সময় মহাখালী এলাকায় অবস্থান করত। নির্দিষ্ট ডিপো না থাকায় সড়কেই বাস দাঁড়িয়ে থাকত। ফলে তৈরি হতো তীব্র যানজট। এ সমস্যা সমাধানে রাজউকের পূর্বাচল ৩ নম্বর সেক্টরে অস্থায়ী বাস ডিপো তৈরি করা হয়েছে। এখন থেকে ট্রিপের মধ্যবর্তী সময়ে বাসগুলো মহাখালীর সড়কে না থেকে পূর্বাচলের ডিপোতে অবস্থান করবে।
পরিবর্তন আসবে সায়েদাবাদ-ফুলবাড়িয়ায়ও
জানা গেছে, মহাখালীর পর একই ধরনের ব্যবস্থাপনা রাজধানীর অন্য দুই গুরুত্বপূর্ণ বাস টার্মিনাল ফুলবাড়িয়া ও সায়েদাবাদেও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল ও ডিপো ব্যবস্থাপনাকে কাঁচপুরে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পাশাপাশি রাজধানীর বিভিন্ন সড়কে যত্রতত্র গড়ে ওঠা টিকিট কাউন্টার সরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
টার্মিনালগুলো সংস্কার করে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা বাড়ানোর পরিকল্পনাও রয়েছে। ফলে যাত্রীরা ই-টিকিটসহ প্রয়োজনীয় সেবা এক জায়গা থেকে পাওয়ার সুযোগ পাবেন।
১৫ জুলাই শুরু হয় পূর্বাচলে বাস স্থানান্তর
মহাখালী থেকে পূর্বাচলের অস্থায়ী ডিপোতে বাস স্থানান্তরের আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হয় গত ১৫ জুলাই। উদ্বোধন অনুষ্ঠানে সংশ্লিষ্টরা বলেছিলেন, বাসগুলোকে সড়ক থেকে সরিয়ে নির্দিষ্ট ডিপোতে রাখার ফলে মহাখালী এলাকায় যানজট কমবে, যাত্রীসেবা উন্নত হবে এবং সড়ক ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরবে। তবে ডিপোর অবকাঠামো পুরোপুরি প্রস্তুত না হওয়া এবং বাসকর্মীদের সুযোগ-সুবিধাসহ কিছু কাজ অসম্পূর্ণ থাকায় বাস্তবায়নে ধাপে ধাপে এগোনোর কথা জানিয়েছে পরিবহন মালিকপক্ষ।
বর্তমানে পূর্বাচল ডিপোতে ৯১টি বাস অবস্থান করছে। আগামী ৭২ ঘণ্টায় আরও বাস সেখানে স্থানান্তর এবং মহাখালীর সড়কে নতুন ব্যবস্থাপনা কার্যকর করার মাধ্যমে রাজধানীর অন্যতম ব্যস্ত এই এলাকায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।