ঢাকা ০৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর থেকেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটেন : আইনমন্ত্রী

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই জানান দিয়েছিলেন তিনি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথে হাঁটছেন। তখন থেকেই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৬ বছরের নৈরাজ্যের পর গণঅভ্যুত্থানে গণতন্ত্র ফিরেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি সম্মেলনে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন। তখনও ফ্যাসিবাদের নগ্ন রূপ, নৃশংস উল্লাস, এই নিষ্ঠুরতা এতটা প্রকাশ পায়নি। তখন বোঝা যায়নি, দীর্ঘ এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আমাদের সাড়ে ৪ হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারাতে হবে, যাদের পাখির মতো গুলি করে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছিল। তখনও বোঝা যায়নি, আমাদের ৭ শতাধিক সহযোদ্ধাকে গুম করা হবে, যাদের স্বজনেরা যুগের পর যুগ তাদের ফিরে পাওয়ার জন্য জায়নামাজে বসে তাহাজ্জুদের নামাজে প্রার্থনা করে যাবেন। তখনও বোঝা যায়নি, ৬০ লক্ষের বেশি বিএনপির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা দেওয়া হবে। যে মামলার বাদী পুলিশ এবং যে মামলার আসামির তালিকায় রয়েছে ঘটনার ২০ বছর আগে মারা যাওয়া মৃত ব্যক্তিও। এরকম এক নৃশংসতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ২০ দিন সময়ের মধ্যে রাজপথে ১,৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ২০ দিনে ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। তারপরও দেখেন কতটা নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো তারা ন্যূনতম দুঃখ প্রকাশ তো দূরের কথা, অনুতপ্ত হওয়া তো দূরের কথা, ভাবখানা এমন যে মানুষ মারা কোনো অপরাধ নয়। কংসের মতো আচরণ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ১৬ বছরের হত্যা, গুম, খুন, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে মানুষ যখন সংগ্রামরত ছিল, রাজপথ দখলে নিয়েছিল। কোথা থেকে কী হবে কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলো, তারা সেটিকে হালকাভাবে নিলেন। একদিকে লেলিয়ে দিলেন লাঠিয়াল বাহিনী, আর অন্যদিকে সবাইকে বানিয়ে দিলেন রাজাকার। ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’- এই একটা কথাই ওনার পতন নিশ্চিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’- বেগম খালেদা জিয়ার এই স্লোগান আজ বাংলাদেশে বাস্তব রূপ নিয়েছে। সে কারণে আমরা বলতে চাই, এই বাংলাদেশ সকল বাংলাদেশির। এই বাংলাদেশ হিন্দুর, এই বাংলাদেশ মুসলিমের, এই বাংলাদেশ খ্রিস্টানের, এই বাংলাদেশ বৌদ্ধের, চাকমা, মারমা- সকলের বাংলাদেশ। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। আমরা কোনো ব্যবসা করতে চাই না। ধর্ম আমার বিশ্বাসের জায়গা, ধর্ম আমার শ্রদ্ধার জায়গা, ধর্ম আমার ইহকাল-পরকালের জায়গা। সেই ধর্মকে রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে এসে মানুষের রক্তপাত ঘটাতে চাই না।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

শেখ হাসিনা ২০০৯ সালের নির্বাচনের পর থেকেই ফ্যাসিবাদের পথে হাঁটেন : আইনমন্ত্রী

আপডেট সময় ০৬:৪৩:০৩ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, ২০০৯ সালের নির্বাচনের মধ্য দিয়ে শেখ হাসিনা ক্ষমতায় আসার পরই জানান দিয়েছিলেন তিনি বাংলাদেশে ফ্যাসিবাদ কায়েমের পথে হাঁটছেন। তখন থেকেই দেশে গণতন্ত্র ধ্বংসের প্রক্রিয়া শুরু হয়। ১৬ বছরের নৈরাজ্যের পর গণঅভ্যুত্থানে গণতন্ত্র ফিরেছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির উদ্যোগে ঢাকা আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উৎসব ২০২৬ উপলক্ষ্যে আয়োজিত আলোচনা সভা ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া একটি সম্মেলনে ‘দেশ বাঁচাও, মানুষ বাঁচাও’ স্লোগান দিয়েছিলেন। তখনও ফ্যাসিবাদের নগ্ন রূপ, নৃশংস উল্লাস, এই নিষ্ঠুরতা এতটা প্রকাশ পায়নি। তখন বোঝা যায়নি, দীর্ঘ এই গণতান্ত্রিক সংগ্রামে আমাদের সাড়ে ৪ হাজারের বেশি সহযোদ্ধাকে হারাতে হবে, যাদের পাখির মতো গুলি করে ক্রসফায়ারের নামে হত্যা করা হয়েছিল। তখনও বোঝা যায়নি, আমাদের ৭ শতাধিক সহযোদ্ধাকে গুম করা হবে, যাদের স্বজনেরা যুগের পর যুগ তাদের ফিরে পাওয়ার জন্য জায়নামাজে বসে তাহাজ্জুদের নামাজে প্রার্থনা করে যাবেন। তখনও বোঝা যায়নি, ৬০ লক্ষের বেশি বিএনপির নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা গায়েবি মামলা দেওয়া হবে। যে মামলার বাদী পুলিশ এবং যে মামলার আসামির তালিকায় রয়েছে ঘটনার ২০ বছর আগে মারা যাওয়া মৃত ব্যক্তিও। এরকম এক নৃশংসতার মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অতিক্রম করেছে।
তিনি আরও বলেন, মাত্র ২০ দিন সময়ের মধ্যে রাজপথে ১,৪০০ মানুষকে পাখির মতো গুলি করে হত্যা করা হয়েছে। এই ২০ দিনে ৩০ হাজার মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। তারপরও দেখেন কতটা নির্লজ্জ, বেহায়ার মতো তারা ন্যূনতম দুঃখ প্রকাশ তো দূরের কথা, অনুতপ্ত হওয়া তো দূরের কথা, ভাবখানা এমন যে মানুষ মারা কোনো অপরাধ নয়। কংসের মতো আচরণ।
আইনমন্ত্রী বলেন, ১৬ বছরের হত্যা, গুম, খুন, নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে করতে মানুষ যখন সংগ্রামরত ছিল, রাজপথ দখলে নিয়েছিল। কোথা থেকে কী হবে কেউ বুঝে উঠতে পারেনি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শুরু হলো, তারা সেটিকে হালকাভাবে নিলেন। একদিকে লেলিয়ে দিলেন লাঠিয়াল বাহিনী, আর অন্যদিকে সবাইকে বানিয়ে দিলেন রাজাকার। ‘রাজাকারের নাতি-পুতি’- এই একটা কথাই ওনার পতন নিশ্চিত করেছে।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের নির্যাতিত-নিপীড়িত মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও সকল রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে একটি সফল গণঅভ্যুত্থান সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরেছে। ‘আমার ভোট আমি দেব, যাকে খুশি তাকে দেব’- বেগম খালেদা জিয়ার এই স্লোগান আজ বাংলাদেশে বাস্তব রূপ নিয়েছে। সে কারণে আমরা বলতে চাই, এই বাংলাদেশ সকল বাংলাদেশির। এই বাংলাদেশ হিন্দুর, এই বাংলাদেশ মুসলিমের, এই বাংলাদেশ খ্রিস্টানের, এই বাংলাদেশ বৌদ্ধের, চাকমা, মারমা- সকলের বাংলাদেশ। আমরা সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে চাই। সাম্প্রদায়িকতাকে পুঁজি করে কোনো রাজনীতি করতে চাই না। আমরা কোনো ব্যবসা করতে চাই না। ধর্ম আমার বিশ্বাসের জায়গা, ধর্ম আমার শ্রদ্ধার জায়গা, ধর্ম আমার ইহকাল-পরকালের জায়গা। সেই ধর্মকে রাজনৈতিক পর্যায়ে নিয়ে এসে মানুষের রক্তপাত ঘটাতে চাই না।
ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি আনোয়ার জাহিদ ভূঁইয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ রফিকুল ইসলাম, ঢাকার মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির, ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোস্তাফিজুর রহমান ও ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মাহবুবুর রহমান।