ঢাকা ০৫:৩৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১১ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক Logo আবুল কালাম এম.পির আন্তরিক প্রচেষ্টায় লাকসামে উন্নয়নের বিপ্লব: ৭ মাসে সাড়ে ৩৩ কোটি টাকায় ৪৯ প্রকল্প বাস্তবায়ন Logo বদলগাছীতে সহোদর দুই বোনকে বিয়ে করলেন টিকটকার মাসুদ Logo চাঁদপুরের প্রতিটি ইউনিয়নে গড়ে তোলা হবে একটি করে পাঠাগার-জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান Logo গ্রাম্য আদালতকে উপেক্ষা করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ Logo কলমাকান্দায় কাঠের সেতু সংস্কার, উদ্বোধন করল শিক্ষার্থীরা Logo রাষ্ট্র কাঠামো পরিবর্তন না হলে তারেক রহমানও শেখ হাসিনার পথে হাঁটবেন-আহবায়ক নাহিদ ইসলাম Logo গণ-অধিকার পরিষদের ৫ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকীতে বর্ণাঢ্য রেলি ও আলোচনা সভা Logo লালমোহনে স্পিকারের অনুদানের চেক পেলেন ১৯০টি অসহায় ও দুস্থ পরিবার Logo মাতামুহুরীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভারী ট্রাকে পিষ্ট হয়ে ভেঙে চৌচির ১৫ কিমি সড়ক হুমকিতে বেতুয়াবাজার ব্রিজ ও নদীর গাইড ওয়াল, প্রশাসনের কঠোর ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটিই বন্ধ

দেশের প্রথম বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটই বিকল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এরফলে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। কোথাও এক ঘন্টা পর পর আবার কোথাও ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেড চলছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে ১নং ও ২নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় ২নং ইউনিটটি সাড়প চার বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে ২নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলেও তা মেরামতের কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পিডিবি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সেই থেকে ১নং ও ৩নং ইউনিট চালু রেখে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে দুটি ইউনিটে ২৬০-২৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। সুত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর /২০২৫ থেকে ৩নং ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৩ নং ইউনিটটির ওভারহলিং চলছে। সেই থেকে ১নং ইউনিটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিল। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কোল মিলে সমস্যা দেখা দিলে ১ নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সুত্রমতে, বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। পাঁচ বছরের চুক্তি মোতাবেক এ বছর তাদের মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোট ধরনের মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও তার কিছুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বলে অভিযোগ রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করায় বার বার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। সুত্র টি আরো জানায়, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট সচল রাখতে প্রয়োজন হয় দুটি করে ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প। যা ওই ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে তেল সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখে; কিন্তু ২০২২ সাল থেকে ৩নং ইউনিটের দুটির মধ্যে একটি পাম্প নষ্ট। যে কোনো সময় বন্ধের ঝুঁকি নিয়ে একটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প দিয়ে ৩নং ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম চলে আসছিল। ফলে মাঝে মধ্যেই যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিয়ে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবগত করলেও তারা অজ্ঞাত কারণে তা আমলে নেয়নি। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার বিকেলে দৈনিক খবরপত্রকে বলেন, কোল মিল মেরামত করে ১নং ইউনিটটি চালু করতে কমপক্ষে ৪/৫দিন সময় লাগবে। আর ৩ নং ইউনিটটি ওভারহলিং শেষে আগামী মাসের (মে ২০২৬) মাঝামাঝিতে উৎপাদনে যেতে পারে।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

কালীগঞ্জ পৌর এলাকার ১০ কিলোমিটার মহাসড়কে দুর্ঘটনার ঝুঁকি, বেপরোয়া বাস ও অবৈধ পার্কিংয়ে আতঙ্ক

বড়পুকুরিয়া বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটিই বন্ধ

আপডেট সময় ১০:৩০:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশের প্রথম বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদনক্ষম দুটি ইউনিটই বিকল হয়ে পড়ায় বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। এরফলে উত্তরাঞ্চলের ৮ জেলায় ভয়াবহ লোডশেডিং চলছে। কোথাও এক ঘন্টা পর পর আবার কোথাও ঘন্টার পর ঘন্টা লোডশেড চলছে। এতে করে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে।
জানা গেছে, বড়পুকুরিয়া ৫২৫ মেগাওয়াট তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে তিনটি ইউনিট রয়েছে। এরমধ্যে ১নং ও ২নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ১২৫ মেগাওয়াট করে ২৫০ মেগাওয়াট এবং ৩নং ইউনিটের উৎপাদন ক্ষমতা ২৭৫ মেগাওয়াট। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দায়িত্বহীনতায় ২নং ইউনিটটি সাড়প চার বছর ধরে বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। ২০২০ সালের নভেম্বর যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দিয়ে ২নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে গেলেও তা মেরামতের কার্যকর কোন পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি বড়পুকুরিয়া তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্র কর্তৃপক্ষ, পিডিবি এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। সেই থেকে ১নং ও ৩নং ইউনিট চালু রেখে ৪০০ মেগাওয়াট উৎপাদন ক্ষমতার বিপরীতে দুটি ইউনিটে ২৬০-২৮০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হতো। সুত্র জানায়, গত বছরের অক্টোবর /২০২৫ থেকে ৩নং ইউনিটটি বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে ৩ নং ইউনিটটির ওভারহলিং চলছে। সেই থেকে ১নং ইউনিটি খুড়িয়ে খুড়িয়ে চলছিল। গত বুধবার (২২ এপ্রিল) দিবাগত রাতে কোল মিলে সমস্যা দেখা দিলে ১ নং ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। এরফলে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায়। সুত্রমতে, বড়পুকুরিয়া খনি থেকে উৎপাদিত কয়লা দিয়ে ৫২৫ মেগাওয়াট বড়পুকুরিয়া কয়লা ভিত্তিক তাপ বিদ্যুৎ কেন্দ্রের উৎপাদন কার্যক্রম চালিয়ে আসছে চীনা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান হারবিন ইন্টারন্যাশনাল। পাঁচ বছরের চুক্তি মোতাবেক এ বছর তাদের মেয়াদ শেষ হবে। চুক্তি অনুযায়ী উৎপাদন সচল রাখতে ছোট ধরনের মেরামত ও যন্ত্রাংশ সরবরাহের কথা থাকলেও তার কিছুই করেনি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানটি বলে অভিযোগ রয়েছে। জোড়াতালি দিয়ে মেরামত করায় বার বার ত্রুটি দেখা দিচ্ছে। সুত্র টি আরো জানায়, বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের তিনটি ইউনিটের প্রতিটি ইউনিট সচল রাখতে প্রয়োজন হয় দুটি করে ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প। যা ওই ইউনিটের জ্বালানি হিসেবে তেল সরবরাহের মাধ্যমে উৎপাদন কার্যক্রম সচল রাখে; কিন্তু ২০২২ সাল থেকে ৩নং ইউনিটের দুটির মধ্যে একটি পাম্প নষ্ট। যে কোনো সময় বন্ধের ঝুঁকি নিয়ে একটি ইলেকট্রো হাইড্রোলিক অয়েল পাম্প দিয়ে ৩নং ইউনিটের উৎপাদন কার্যক্রম চলে আসছিল। ফলে মাঝে মধ্যেই যান্ত্রিক ক্রটি দেখা দিয়ে ইউনিটটি বন্ধ হয়ে যায়। একাধিকবার ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি অবগত করলেও তারা অজ্ঞাত কারণে তা আমলে নেয়নি। বড়পুকুরিয়া তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক বৃহস্পতিবার বিকেলে দৈনিক খবরপত্রকে বলেন, কোল মিল মেরামত করে ১নং ইউনিটটি চালু করতে কমপক্ষে ৪/৫দিন সময় লাগবে। আর ৩ নং ইউনিটটি ওভারহলিং শেষে আগামী মাসের (মে ২০২৬) মাঝামাঝিতে উৎপাদনে যেতে পারে।