ঢাকা ১০:১৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের Logo অন্যায় করে কেউ পার পাবে না; ডা. শফিকুর রহমান Logo বাংলাদেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি ও সহিংসতা হ্রাস পেয়েছে Logo শান্তি-সম্প্রীতির বন্ধনে শান্তিপূর্ণ,সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় সরকার : প্রধানমন্ত্রী Logo নাটোরে যাত্রীবাহী বাস ও ট্রাকের সংঘর্ষে নিহত ১৪ Logo মেয়েদের আইপিএলের নিলামে নেই বাংলাদেশের কেউ Logo এআইকে দেওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে আছে কি না জানুন Logo কখন গোসল করা ভালো সকালে নাকি রাতে? Logo ৭ সেকেন্ডে ৫ রাউন্ড গুলি, বাড়লো সালমান খানের নিরাপত্তা Logo অজ্ঞতাবশত বিতর্ক মানুষকে সত্য থেকে দূরে সরিয়ে দেয়

নেত্রকোণায় নারীর মানবেতর জীবন বিচারের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

বারহাট্টায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ২ বছরের শিশুকন্যাসহ শিখা আক্তার নামের এক গৃহবধূ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী মো. সোহেল মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে নেত্রকোণা আমলী আদালত বারহাট্টায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শিখা আক্তার(২১) বারহাট্টা থানার দশাল গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার মেয়ে। বিগত ০১/০৪/২০২০ইং তারিখে শরিয়ত মোতাবেক মো. সোহেল মিয়ার(২৬) সাথে তার বিবাহ হয়। সোহেল মিয়া একই গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে। বিবাহের সময় সোহেল মিয়া যৌতুক লোভী এবং নারী লোভী প্রকৃতির ছিলেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে সোহানা নামে ২ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, বিবাহের পর থেকেই সোহেল মিয়া এবং তার পরিবারের লোকজন শিখার নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংকের যৌতুক দাবি করত। শিখার পরিবার তার সুখের কথা চিন্তা করে সাধ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০,০০০/-টাকা প্রদান করে। তবে সোহেল মিয়ার যৌতুকের লালসা কমেনি। সে শিখাকে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা তার পিত্রালয় হইতে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় ১৬/০৮/২০২০ইং তারিখে শিখাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সোহেল মিয়া অন্য একজনকে বিবাহ করে সংসার করতে শুরু করে। এ খবর পেয়ে শিখা আক্তার স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ১৬/০৮/২০২৩ইং তারিখ সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সোহেল মিয়া শিখার বাবার বাড়িতে এসে পূর্বের দাবিকৃত ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা দাবি করে এবং শিখার বাবা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিখা ও তার বাবাকে গালিগালাজ এবং মারধর করে। শিখার বাবার পরিবার খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমানে শিখা আক্তার এবং তার কন্যাসন্তানের কোনো খোঁজ খবর নেয় না স্বামী সোহেল মিয়া। এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সোহেলের মামা শহীদ মিয়া জানান, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আমরা যখন জানতে পেরেছি তখন তাকে শাসন করেছি। আমরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করার চেষ্টা করছি। আপনার বিরুদ্ধে শিখার পরিবারের অভিযোগ আপনি সোহেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর শিখার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের বিচার পাইয়ে দিবেন বলে এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদ মিয়া বলেন, আমি বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কৃষকদলের সভাপতি। আমি সম্মানিত লোক, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুইজন দারোগাকে দিয়ে দিয়েছি। আমি এক টাকাও নেইনাই। আর টাকাটা তারা নিয়েছে সোহেলের লোকেশন বের করতে। এমতাবস্থায়, শিখা আক্তার তার স্বামী এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিজের ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার এবং নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

অস্টিওপোরোসিস প্রতিরোধে ৬৪ জেলায় সচেতনতা ও স্ক্রিনিং কার্যক্রমের আহ্বান ডা. জুবাইদা রহমানের

নেত্রকোণায় নারীর মানবেতর জীবন বিচারের আশায় ঘুরছেন দ্বারে দ্বারে

আপডেট সময় ০৯:০২:৪১ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বারহাট্টায় স্বামীর দ্বিতীয় বিয়ে এবং যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের শিকার হয়ে ২ বছরের শিশুকন্যাসহ শিখা আক্তার নামের এক গৃহবধূ মানবেতর জীবনযাপন করছেন। এ ঘটনায় তার স্বামী মো. সোহেল মিয়াসহ শ্বশুরবাড়ির লোকজনদের বিরুদ্ধে নেত্রকোণা আমলী আদালত বারহাট্টায় মামলা দায়ের করেছেন ভুক্তভোগী। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, শিখা আক্তার(২১) বারহাট্টা থানার দশাল গ্রামের মৃত বাবুল মিয়ার মেয়ে। বিগত ০১/০৪/২০২০ইং তারিখে শরিয়ত মোতাবেক মো. সোহেল মিয়ার(২৬) সাথে তার বিবাহ হয়। সোহেল মিয়া একই গ্রামের তাহের মিয়ার ছেলে। বিবাহের সময় সোহেল মিয়া যৌতুক লোভী এবং নারী লোভী প্রকৃতির ছিলেন। তাদের দাম্পত্য জীবনে সোহানা নামে ২ বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। অভিযোগে জানা যায়, বিবাহের পর থেকেই সোহেল মিয়া এবং তার পরিবারের লোকজন শিখার নিকট থেকে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন অংকের যৌতুক দাবি করত। শিখার পরিবার তার সুখের কথা চিন্তা করে সাধ্য অনুযায়ী প্রায় ৫০,০০০/-টাকা প্রদান করে। তবে সোহেল মিয়ার যৌতুকের লালসা কমেনি। সে শিখাকে ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা তার পিত্রালয় হইতে এনে দেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে এবং শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। যৌতুকের টাকা দিতে অস্বীকার করায় ১৬/০৮/২০২০ইং তারিখে শিখাকে তার বাবার বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয় এবং সোহেল মিয়া অন্য একজনকে বিবাহ করে সংসার করতে শুরু করে। এ খবর পেয়ে শিখা আক্তার স্থানীয়ভাবে আপোষ মীমাংসার চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে ১৬/০৮/২০২৩ইং তারিখ সকাল ১০:০০ ঘটিকায় সোহেল মিয়া শিখার বাবার বাড়িতে এসে পূর্বের দাবিকৃত ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা দাবি করে এবং শিখার বাবা টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে শিখা ও তার বাবাকে গালিগালাজ এবং মারধর করে। শিখার বাবার পরিবার খুব কষ্টে দিনাতিপাত করছেন। বর্তমানে শিখা আক্তার এবং তার কন্যাসন্তানের কোনো খোঁজ খবর নেয় না স্বামী সোহেল মিয়া। এবিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত সোহেলের মামা শহীদ মিয়া জানান, দ্বিতীয় বিয়ের বিষয়টি আমরা যখন জানতে পেরেছি তখন তাকে শাসন করেছি। আমরা বিষয়টি স্থানীয়ভাবে শেষ করার চেষ্টা করছি। আপনার বিরুদ্ধে শিখার পরিবারের অভিযোগ আপনি সোহেলের দ্বিতীয় বিয়ের পর শিখার পরিবারের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন তাদের বিচার পাইয়ে দিবেন বলে এমন প্রশ্নের জবাবে শহীদ মিয়া বলেন, আমি বারহাট্টা উপজেলার সাহতা ইউনিয়নের ৫ নং ওয়ার্ডের কৃষকদলের সভাপতি। আমি সম্মানিত লোক, আমি তাদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দুইজন দারোগাকে দিয়ে দিয়েছি। আমি এক টাকাও নেইনাই। আর টাকাটা তারা নিয়েছে সোহেলের লোকেশন বের করতে। এমতাবস্থায়, শিখা আক্তার তার স্বামী এবং তার শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং তার নিজের ও সন্তানের ন্যায্য অধিকার এবং নিরাপত্তার নিশ্চিত করার জন্য প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।