ঢাকা ০২:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১৪ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা Logo জামালপুরে প্রাথমিকে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ বঞ্চিত ৫১ জন আমরণ অনশনে Logo খাল খনন নামে ৩০ লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার অভিযোগ Logo অফিস বন্ধ করে সদস্যদের তিন কোটি টাকা নিয়ে পালিয়ে গেছেন সমিতির সভাপতি Logo টুঙ্গিপাড়ায় ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান গাঁজা সেবনে ১ মাস, ইয়াবা সেবনে ৩ মাসের কারাদন্ড Logo গাইবান্ধায় প্রধান শিক্ষকের স্বেচ্ছাচারিতার প্রতিবাদে মানববন্ধন Logo কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ Logo তাড়াশে অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে গুদামজাত সার Logo ধনবাড়ীতে আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বৃক্ষরোপণ অভিযান Logo ৯ প্রতারক গ্রেফতার, উদ্ধার নগদ টাকা-২০ সিম-১১ মোবাইল

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও জীবিকাকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যে ফ্রেন্ডশিপের এএসডি প্রকল্পের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের উপকারভোগীদের মাঝে ৩০টি ভেড়া বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরে কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রৌমারী উপজেলায় মোট ৪২০টি ভেড়া বিতরণ করা হবে। চরাঞ্চলের পরিবেশ ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভেড়া পালন উপযোগী হওয়ায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভেড়া পালন করা যায়, ভেড়া বছরে একাধিকবার বাচ্চা দেয় এবং চরাঞ্চলের পরিবেশে এগুলো সহজে লালন-পালন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয় করার পাশাপাশি নিজেদের জীবিকা আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে পারবেন। ভেড়া বিতরণের আগে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সুস্থ ও রোগমুক্ত হিসেবে নির্বাচিত ভেড়াগুলোই উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল জীবিকার সুযোগ তৈরি হবে। ভেড়া পেয়ে এই গ্রামের বুলবুলি বেগম অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, আমার তেমন কোনো সম্পদ বা আয়ের উৎস নাই। ভেড়া পেয়ে আমার মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমি ভেড়াগুলো যতœ করে লালন-পালন করব। আশা করি, এগুলো থেকে বাচ্চা হবে এবং ভবিষ্যতে আমার পরিবারের আয় বাড়বে। ভেড়া পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন এবং জীবিকা উন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে একই গ্রামের শহিদুল ইসলাম তার অভিমত ব্যক্ত করেন। গতকাল দুপুরে ভেড়া বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উপকারভোগিদের উন্নত পদ্ধতিতে ভেড়া পালনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জীবিকা উন্নয়নে ফ্রেন্ডশিপের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভেড়া পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয় করতে পারবে এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ফ্রেন্ডশিপের রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি ২০১৭ সাল খেকে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবিকা উন্নয়ন, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু-সহনশীল বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ভেড়া বিতরণের এই উদ্যোগও প্রকল্পের আওতাভুক্ত পরিবারের আয় বৃদ্ধি, জীবিকার বৈচিত্র্যকরণ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভেড়া বিতরণের সময় মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর জান্নাতুন নেছা জেবু, ফ্রেন্ডশিপের প্রতিনিধিবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলে সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের মাঝে ফ্রেন্ডশিপের ভেড়া বিতরণ

আপডেট সময় ০২:৩৫:২১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের আয় বৃদ্ধি ও জীবিকাকে আরও টেকসই করার লক্ষ্যে ফ্রেন্ডশিপের এএসডি প্রকল্পের উদ্যোগে কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার ঝাকুয়াপাড়া গ্রামের উপকারভোগীদের মাঝে ৩০টি ভেড়া বিতরণ করা হয়। পর্যায়ক্রমে প্রকল্পের আওতায় চলতি বছরে কুড়িগ্রাম সদর, চিলমারী এবং রৌমারী উপজেলায় মোট ৪২০টি ভেড়া বিতরণ করা হবে। চরাঞ্চলের পরিবেশ ও স্থানীয় বাস্তবতা বিবেচনায় ভেড়া পালন উপযোগী হওয়ায় এ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। তুলনামূলকভাবে কম খরচে ভেড়া পালন করা যায়, ভেড়া বছরে একাধিকবার বাচ্চা দেয় এবং চরাঞ্চলের পরিবেশে এগুলো সহজে লালন-পালন করা সম্ভব। এর মাধ্যমে উপকারভোগী পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয় করার পাশাপাশি নিজেদের জীবিকা আরও শক্তিশালী ও স্বাবলম্বী করতে পারবেন। ভেড়া বিতরণের আগে উপ-সহকারী প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষায় সুস্থ ও রোগমুক্ত হিসেবে নির্বাচিত ভেড়াগুলোই উপকারভোগীদের মাঝে বিতরণ করা হয়। এ উদ্যোগের মাধ্যমে একদিকে যেমন পরিবারগুলোর আয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হবে, অন্যদিকে চরাঞ্চলের মানুষের জন্য একটি টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল জীবিকার সুযোগ তৈরি হবে। ভেড়া পেয়ে এই গ্রামের বুলবুলি বেগম অত্যন্ত আনন্দিত ও উচ্ছ্বসিত হয়ে বলেন, আমার তেমন কোনো সম্পদ বা আয়ের উৎস নাই। ভেড়া পেয়ে আমার মনে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে। আমি ভেড়াগুলো যতœ করে লালন-পালন করব। আশা করি, এগুলো থেকে বাচ্চা হবে এবং ভবিষ্যতে আমার পরিবারের আয় বাড়বে। ভেড়া পরিবারের আর্থিক স্বচ্ছলতা অর্জন এবং জীবিকা উন্নয়নে নতুন আশার সঞ্চার করেছে বলে একই গ্রামের শহিদুল ইসলাম তার অভিমত ব্যক্ত করেন। গতকাল দুপুরে ভেড়া বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. হাবিবুর রহমান বলেন, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর উপকারভোগিদের উন্নত পদ্ধতিতে ভেড়া পালনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করেন এবং চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত পরিবারের জীবিকা উন্নয়নে ফ্রেন্ডশিপের এ ধরনের উদ্যোগ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। স্থানীয় পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ভেড়া পালনের মাধ্যমে পরিবারগুলো অতিরিক্ত আয় করতে পারবে এবং তাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বাড়বে। এ ধরনের কার্যক্রম বাস্তবায়নে জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। ফ্রেন্ডশিপের রিজিওনাল ম্যানেজার কৃষিবিদ মো. আশরাফুল ইসলাম জানান, প্রকল্পটি ২০১৭ সাল খেকে চরাঞ্চলের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জীবিকা উন্নয়ন, কৃষি, প্রাণিসম্পদ ও জলবায়ু-সহনশীল বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে আসছে। ভেড়া বিতরণের এই উদ্যোগও প্রকল্পের আওতাভুক্ত পরিবারের আয় বৃদ্ধি, জীবিকার বৈচিত্র্যকরণ এবং অর্থনৈতিক স্বাবলম্বিতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। ভেড়া বিতরণের সময় মোগলবাসা ইউনিয়ন পরিষদের সংরক্ষিত মহিলা মেম্বর জান্নাতুন নেছা জেবু, ফ্রেন্ডশিপের প্রতিনিধিবৃন্দ, এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ এবং প্রকল্পের উপকারভোগীরা উপস্থিত ছিলেন।