জেলার বিভিন্ন উপজেলায় আশ্বিন মাসের শুরু থেকে হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের বীজতলা বিক্রি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে শত-শত কৃষক আমন ধানের এই চারা রোপন করে জমি আবাদ করেছে। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা ধান চারা বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে। একটা সময় কৃষকেরা কেবল নিজেদের জমিতে রোপণের জন্যই ধানের বীজতলা (আঞ্চলিক ভাষায় যা ‘জালাপাট’ নামে পরিচিত) তৈরি করতেন। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, আকস্মিক বন্যা এবং আধুনিক কৃষির প্রসারে নেত্রকোণায় পাল্টে গেছে এই চিরচেনা চিত্র। এখন নিজের চাহিদা মিটিয়ে বাণিজ্যিকভাবে জালাপাট বিক্রি করা হাওরাঞ্চলের বহু কৃষকের উপার্জনের প্রধান পেশা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয় কৃষকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, হাওরের নিচু জমিগুলো দীর্ঘ সময় পানিতে ডুবে থাকায় অনেক কৃষক সময়মতো বীজতলা তৈরি করতে পারেন না। আবার অনেক সময় আকস্মিক বন্যায় চারা নষ্ট হয়ে যায়। এই সংকটকে কাজে লাগিয়ে হাওরের উচু এলাকায় একদল উদ্যমী কৃষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে জালাপাট উৎপাদন শুরু করেছেন। মদন, মোহনগঞ্জ, খালিয়াজুড়ী ও কলমাকান্দা উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় এখন বিস্তীর্ণ মাঠ জুড়ে শোভা পাচ্ছে ধানের চারা। জালাপাট বিক্রিকে পেশা হিসেবে নেওয়া মদন উপজেলার একজন কৃষক জানান, আগে শুধু নিজের জমির জন্যই জালা (চারা) বানাতেন। এখন চারার অনেক চাহিদা। এক পন (৮০টি চারার মুঠি) জালাধান জাত ও মানভেদে ভালো দামে বিক্রি করা যায়। খরচ বাদে এই ব্যবসায় অল্প সময়ে বেশ ভালো লাভ থাকে। স্থানীয়রা বলছেন, জালাপাট বাণিজ্যিকীকরণ হওয়ায় একদিকে যেমন চারা সংকটে পড়া কৃষকেরা উপকৃত হচ্ছেন, অন্যদিকে গ্রামীণ অর্থনীতিতে তৈরি হচ্ছে নতুন কর্মসংস্থান। সঠিক সময়ে মানসম্মত চারা পাওয়ায় হাওরাঞ্চলে বোরো ও আমন চাষের ঝুঁকি অনেকটাই কমে এসেছে।
সংবাদ শিরোনাম
নেত্রকোনা হাওরাঞ্চলের হাটবাজারে ধানের চারা ব্যাপক চাহিদা
-
নেত্রকোণা প্রতিনিধি - আপডেট সময় ০২:৪১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
- 1
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ



















