ঢাকা ০২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬, ৭ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা Logo ঈশ্বরগঞ্জে গভীর রাতে কৃষি ব্যাংকে ডাকাতির চেষ্টা-যুবক গ্রেফতার Logo সাংবাদিক আলিফ হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবিতে জামালপুরে মানববন্ধন Logo বালাগঞ্জ-ওসমানীনগর উপজেলা কল্যাণ সমিতি, সিলেটের নতুন কমিটি গঠন Logo সুনামগঞ্জের ৪৪৪টি পূজামন্ডপে সম্পন্ন হলো শারদীয় দুর্গাপূজা, প্রতিমা বির্সজনে সমাপ্ত Logo স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর প্রচেষ্টায় সেই জলকদর খালে এবার নির্মিত হবে পাকা সেতু Logo রাউজান কদলপুরে মেধাবী শিক্ষার্থীদের মাঝে প্রাক্তন ছাত্র সমিতির বই বিতরণ Logo মতলবে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ, ৬৪ বছরের বৃদ্ধ গ্রেপ্তার Logo জগন্নাথকাঠীতে রাতের অন্ধকারে সন্ত্রাসী কায়দায় প্রতিষ্ঠানে তালা! Logo দলের দুঃসময়ে পাশে ছিলেন, পহরডাঙ্গা ইউপিতে বিএনপির মনোনয়ন প্রত্যাশী ঠাকুর আবুল আজম

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

  • ইকবাল হোসেন:
  • আপডেট সময় ১০:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • 39

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। ছবি : পিআইডি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কাছে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর একটি অভিনন্দনবার্তা হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি।
অভিনন্দনবার্তায় সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সুখ ও সফলতা কামনা করেন সম্রাট নারুহিতো।
এই বার্তার জন্য সম্রাটকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে জাপানের সম্রাট এবং দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি সম্রাটের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও দীর্ঘায়ুও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় রাষ্ট্রপতি জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোরেল ও মেঘনা সেতুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এ সময়ে তিনি জাপানের সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শেষ হবে।
জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও জাপানি ভাষা শেখার জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি সুবিধা আরও বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।
রাষ্ট্রপতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ফল-ফসল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য খাতে জাপানিদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে জাপানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা মোকাবিলা ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতার কথাও জানান।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর জাপানের অব্যাহত চাপ ও সমর্থন কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্ব উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এবং ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফর স্মরণ করে তিনি বলেন, এসব সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক উত্তরণে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

বোয়ালমারী প্রাণিসম্পদ দপ্তরে অনিয়মের অভিযোগ; প্রশ্নের মুখে উন্নয়ন বরাদ্দ ও মাঠসেবা

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে জাপানের রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

আপডেট সময় ১০:২০:৩১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন। গতকাল মঙ্গলবার বঙ্গভবনে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক এবং অবকাঠামো, বাণিজ্য-বিনিয়োগ, মানবসম্পদ উন্নয়ন, কৃষি, জ্বালানি ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম এসব তথ্য জানিয়েছেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির কাছে জাপানের সম্রাট নারুহিতোর একটি অভিনন্দনবার্তা হস্তান্তর করেন রাষ্ট্রদূত সাইদা শিন-ইচি।
অভিনন্দনবার্তায় সম্প্রতি বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ায় মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানান এবং বাংলাদেশের জনগণের সুখ ও সফলতা কামনা করেন সম্রাট নারুহিতো।
এই বার্তার জন্য সম্রাটকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। একই সঙ্গে জাপানের সম্রাট এবং দেশটির জনগণের প্রতি আন্তরিক শুভেচ্ছা ও কৃতজ্ঞতা জানান। পাশাপাশি সম্রাটের সুস্বাস্থ্য, কল্যাণ ও দীর্ঘায়ুও কামনা করেন রাষ্ট্রপতি।
এ সময় রাষ্ট্রপতি জাপানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্ব ও উন্নয়ন অংশীদারিত্বের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি ঢাকা মেট্রোরেল ও মেঘনা সেতুসহ বাংলাদেশের বিভিন্ন অবকাঠামো উন্নয়নে দেশটির সহযোগিতার প্রশংসা করেন। এ সময়ে তিনি জাপানের সহযোগিতায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার কাজ দ্রুত চালু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন। জবাবে রাষ্ট্রদূত জানান, প্রকল্পের কাজ দ্রুতই শেষ হবে।
জাপানে বাংলাদেশি জনশক্তিকে কর্মসংস্থানের সুযোগ দেওয়ার জন্য রাষ্ট্রপতি ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি বাংলাদেশে কারিগরি শিক্ষা ও জাপানি ভাষা শেখার জন্য বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখতে দেশটির প্রতি আহ্বান জানান। মির্জা ফখরুল ইসলাম বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষাবৃত্তি সুবিধা আরও বাড়ানোর ওপরও জোর দেন।
রাষ্ট্রপতি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলে ফল-ফসল ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণসহ অন্যান্য খাতে জাপানিদের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্রদূত এতে আগ্রহ প্রকাশ করেন এবং অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও বাড়াতে জাপানের আগ্রহের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি খাতের অস্থিরতা মোকাবিলা ও বাংলাদেশের জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে সহযোগিতার কথাও জানান।
জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গাদের জন্য জাপানের মানবিক সহায়তার প্রশংসা করে রাষ্ট্রপতি তাদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে মিয়ানমারের ওপর জাপানের অব্যাহত চাপ ও সমর্থন কামনা করেন।
রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশ-জাপান সম্পর্ক জোরদারে রাষ্ট্রদূতের ভূমিকার জন্য তাকে ধন্যবাদ জানান এবং দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারিত্ব উন্নীত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
১৯৭৮ ও ১৯৮০ সালে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের এবং ২০০৫ সালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার জাপান সফর স্মরণ করে তিনি বলেন, এসব সফর দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক অগ্রগতি ও রাজনৈতিক উত্তরণে সন্তোষ প্রকাশ করেন এবং বর্তমান সরকারের সঙ্গে জাপানের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব, প্রেস সচিব এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব উপস্থিত ছিলেন।