দেশের পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারীনির্ভরতা থেকে বের করে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীনির্ভর করার আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। একই সঙ্গে পুঁজিবাজারের সব কার্যক্রম শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের আওতায় এনে পুরোপুরি কাগজবিহীন করার ওপর জোর দিয়েছেন তিনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) রাজধানীতে ইনভেস্টমেন্ট কর্পোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি)–এর সুবর্ণজয়ন্তী ও প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ১৯৭৬ সালের ১ অক্টোবর প্রতিষ্ঠিত আইসিবি এ বছর প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর পূর্ণ করেছে।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আইসিবি প্রতিষ্ঠার পেছনে মূল লক্ষ্য ছিল মুক্তবাজার অর্থনীতি ও বাজারভিত্তিক পুঁজিবাজার গড়ে তোলা। সাধারণ মানুষের সঞ্চয়কে পুঁজিবাজারের মাধ্যমে বিনিয়োগে নিয়ে আসা এবং জাতীয় অর্থনীতিতে মূলধন জোগান দেওয়াই ছিল প্রতিষ্ঠানটির অন্যতম উদ্দেশ্য।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের পুঁজিবাজার দীর্ঘদিন ধরে খুচরা বিনিয়োগকারীদের ওপর বেশি নির্ভরশীল। বিশ্বের অনেক পুঁজিবাজারে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীদের অংশগ্রহণ বেশি। বাংলাদেশেও পুঁজিবাজারকে খুচরা বিনিয়োগকারীভিত্তিক অবস্থান থেকে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীভিত্তিক বাজারে রূপান্তরে আইসিবিকে ভূমিকা রাখতে হবে।
আইসিবিকে ঐতিহ্যগত কার্যক্রম থেকে বের হয়ে বাজারভিত্তিক, প্রতিযোগিতামূলক ও পেশাদার প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের নির্দেশনা দেন অর্থমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের পুঁজিবাজার ও আর্থিক খাতের আধুনিকায়নে আইসিবির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, অর্থনৈতিক সংস্কারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনসহ আর্থিক খাতের গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে। কোনো ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক বিবেচনায় নিয়োগ দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
পুঁজিবাজারের প্রযুক্তিগত আধুনিকায়নের প্রসঙ্গে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিএসইসি, স্টক এক্সচেঞ্জ, ব্রোকারেজ হাউস ও আইসিবিসহ পুঁজিবাজারের প্রতিটি স্তরে শতভাগ অটোমেশন ও ডিজিটালাইজেশনের কাজ শুরু হয়েছে। লিস্টিংয়ের আবেদন, অনুমোদন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের পুরো প্রক্রিয়া অনলাইনে সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন তিনি।
‘নো পেপার ট্রানজেকশন, নাথিং পেপার’ নীতির কথা উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, পুঁজিবাজারের কার্যক্রমকে কাগজবিহীন করতে হবে। এ ধরনের ডিজিটাল ব্যবস্থায় কার্যক্রমের গতি বাড়ার পাশাপাশি প্রক্রিয়াগত স্বচ্ছতাও বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে।
সম্প্রতি নিউইয়র্কে বৈশ্বিক বড় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকের প্রসঙ্গ তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের পুঁজিবাজার ও অর্থনৈতিক সংস্কারে আস্থা প্রকাশ করেছেন। প্রাইভেট ফান্ড, ক্লাইমেট ফান্ডিং ও ডেরিভেটিভস পণ্যের মাধ্যমে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মূলধন আনার পরিবেশ তৈরি হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
দেশীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের চর্চার সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রচলিত নির্ভরতা থেকে বের হয়ে আন্তর্জাতিক আর্থিক বাজারের আধুনিক ব্যবস্থাপনা ও চর্চার সঙ্গে অভ্যস্ত হতে হবে।
অর্থমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আইসিবি তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ও অভ্যন্তরীণ পুনর্গঠনের মাধ্যমে আধুনিক, দক্ষ ও আন্তর্জাতিক মানের একটি প্রতিষ্ঠানে পরিণত হবে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আইসিবির চেয়ারম্যান অধ্যাপক আবু আহমেদ। উপস্থিত ছিলেন বিএসইসির চেয়ারম্যান মাসুদ খান, অর্থ বিভাগের সচিব ড. মো. খায়রুজ্জামান মজুমদার এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেকসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
সংবাদ শিরোনাম
পুঁজিবাজার প্রাতিষ্ঠানিক ও পুরোপুরি কাগজবিহীন করার আহ্বান অর্থমন্ত্রীর
-
খবরপত্র ডেস্ক: - আপডেট সময় ০৯:১৩:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
- 0
ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ
























