ঢাকা ১২:২১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ৯ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম
Logo মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা Logo সতবিন্দর এবং হরজিৎ: ভারতকে না জানিয়েই যাদের শিরচ্ছেদ করে সউদী Logo একটার পর একটা অঘটন ঘটবে, আমরা কি বসে থাকব: বিরোধীদলীয় নেতা Logo বহুপাক্ষিকতা ও জাতিসংঘ সংস্কারে বাংলাদেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করলেন হুমায়ুন Logo লক্ষ্মীপূজা আজ Logo শিক্ষাক্রমে যুক্ত হচ্ছে নতুন ৪ বই, থাকছে হাতে-কলমে শেখার সুযোগ Logo বরেন্দ্র অঞ্চলে নিরাপদ পানি ও স্যানিটেশন নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার Logo প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতায় নতুন গতির আশা টোকিওর Logo নতুন কোচ মাকেতার ক্লাসে মুশফিক-মুমিনুল-শান্তরা Logo কার্যকর এআই তৈরিতে মনোযোগ মাইক্রোসফটেরমাইক্রোসফট

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ। সেচ মৌসুমে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইতোমধ্যেই “আশার আলো” দেখাচ্ছে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, কমছে কৃষি খরচ—তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না এই প্রযুক্তি। রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষির মাঠে বইছে বদলের হাওয়া।
ঝামেলাহীন ও তুলনামূলক কম খরচে সূর্যের আলোই হয়ে উঠছে সেচের প্রধান শক্তি। সৌরচালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা। ডিজেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহজনিত ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন সৌর পাম্প ব্যবহারের ফলে খরচ কমেছে, সেচ কার্যক্রমও সহজ হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এ খাতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে প্রায় ৬ মাস সেচ কাজে ব্যবহৃত হলেও বাকি ৬ মাস এসব সৌরচালিত পাম্প প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ মৌসুমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক ও সরকার উভয়েই উপকৃত হবে। এতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, “নেট মিটারিং চালু করা গেলে এই সৌরচালিত সেচযন্ত্রগুলো শুধু কৃষিকাজেই নয়, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এসৌর বিদুত্য দিয়ে ৮০ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে বর্তমানে মোট ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এ উদ্যোগ কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং কার্যকর নীতিমালা। তাহলেই রংপুরের সৌরবিদ্যুতের এই সম্ভাবনা শুধু কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও রাখতে পারবে উল্লেখযোগ্য অবদান।

ট্যাগস :
জনপ্রিয় সংবাদ

মধ্যপ্রাচ্য সংঘাত: পারস্য উপসাগরে তেল নিঃসরণে মারাত্মক পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ

আপডেট সময় ১০:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

রংপুরের কৃষি খাতে নতুন সম্ভাবনার নাম এখন সৌরবিদ্যুৎ। সেচ মৌসুমে ডিজেলের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইতোমধ্যেই “আশার আলো” দেখাচ্ছে সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা। প্রতিদিন প্রায় ৫ দশমিক ৯ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে সাশ্রয় হচ্ছে বিপুল পরিমাণ ডিজেল, কমছে কৃষি খরচ—তবে সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না এই প্রযুক্তি। রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা ঘুরে দেখা যায়, কৃষির মাঠে বইছে বদলের হাওয়া।
ঝামেলাহীন ও তুলনামূলক কম খরচে সূর্যের আলোই হয়ে উঠছে সেচের প্রধান শক্তি। সৌরচালিত পাম্পের মাধ্যমে কৃষকরা পাচ্ছেন নিরবচ্ছিন্ন সেচ সুবিধা। ডিজেলের সংকট, মূল্যবৃদ্ধি কিংবা সরবরাহজনিত ভোগান্তি থেকে অনেকটাই মুক্তি পেয়েছেন তারা। স্থানীয় কৃষকরা জানান, আগে সেচের জন্য ডিজেলের ওপর নির্ভর করতে হতো, যা ছিল ব্যয়বহুল ও ঝামেলাপূর্ণ। এখন সৌর পাম্প ব্যবহারের ফলে খরচ কমেছে, সেচ কার্যক্রমও সহজ হয়েছে। এতে কৃষি উৎপাদন বাড়ার পাশাপাশি লাভের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। তবে এ খাতে কিছু সীমাবদ্ধতাও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, বছরে প্রায় ৬ মাস সেচ কাজে ব্যবহৃত হলেও বাকি ৬ মাস এসব সৌরচালিত পাম্প প্রায় অচল অবস্থায় পড়ে থাকে। ফলে উৎপাদিত বিদ্যুতের বড় একটি অংশ অপচয় হচ্ছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের মতে, বন্ধ মৌসুমে উৎপাদিত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত করে নেট মিটারিং ব্যবস্থা চালু করা গেলে কৃষক ও সরকার উভয়েই উপকৃত হবে। এতে বিদ্যুতের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করার পাশাপাশি কৃষকদের জন্য অতিরিক্ত আয়ের সুযোগও তৈরি হবে। বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) রংপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী (নির্মাণ) হুসাইন মোহাম্মদ আলতাফ বলেন, “নেট মিটারিং চালু করা গেলে এই সৌরচালিত সেচযন্ত্রগুলো শুধু কৃষিকাজেই নয়, জাতীয় বিদ্যুৎ ব্যবস্থায়ও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে। এসৌর বিদুত্য দিয়ে ৮০ হাজার ফ্যান চালানো সম্ভব হবে বলেও জানান তিনি। তথ্য অনুযায়ী, রংপুর বিভাগে বর্তমানে মোট ৫৯৬টি সৌরচালিত সেচযন্ত্র চালু রয়েছে। এ উদ্যোগ কৃষি সেচ ব্যবস্থাকে টেকসই করার পাশাপাশি নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, প্রয়োজন শুধু সঠিক পরিকল্পনা, সমন্বয় এবং কার্যকর নীতিমালা। তাহলেই রংপুরের সৌরবিদ্যুতের এই সম্ভাবনা শুধু কৃষি খাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না—বরং জাতীয় অর্থনীতিতেও রাখতে পারবে উল্লেখযোগ্য অবদান।